সমাজ কখন সুন্দর এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়? পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে, তাইতো? হ্যাঁ। আপনি যখন কাউকে বিপদে কিংবা একটু সমস্যার মাঝে দেখবেন তখন তাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাবেন, আমার মতে তখন দুইটা জিনিষ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমত, যাকে সাহায্য করছেন তিনি হয়তো আপনার এ সাহায্যের প্রতিদান তৎক্ষণাৎ দিতে পারবে না কিন্তু এটি মনে রেখে ভবিষ্যতে হয়তো অন্য কাউকে সাহায্যে এগিয়ে আসবে, আপনার আজকের সাহায্যের ফলে সামনে অন্যে আরেকজনের সাহায্য পাওয়ার একটি দার উন্মুক্ত হয়ে গেলো আপনার মাধ্যমে, পরোক্ষভাবে। দ্বিতীয়ত, আপনি আজকে সাহায্য করার অবস্থানে আছেন, আলহামদুলিল্লাহ। আগামীকাল হয়তো আপনার পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে, হয়তো কখনো আপনারও অন্য কারো সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন হবে, সে প্রতীক্ষায় আজকে আপনি আপনার সাধ্যমত সাহায্য করে যান ফলে ওইসব খারাপ সময়ে আপনিও সাহায্যের প্রার্থনা করতে পারবেন। খুব সুন্দর একটি পারস্পরিক সহযোগিতার ফর্মুলা।
কিন্তু মাঝে মাঝে হয় কি, সাহায্যের পর মানুষের মাঝে কৃতজ্ঞতাবোধ জিনিসটা খুঁজে পাওয়া যায়না যা প্রায়শই সাহায্যকারী আশা করে থাকে। গতকালের একটা ঘটনা দিয়েই বলি। ঢাকা যাচ্ছিলাম, মাঝের একটা গন্তব্য থেকে একজন যাএি উঠেন, মেয়ে মানুষ, তো আমার আরো দুইজন ফ্রেন্ড যাচ্ছিল, তারা তাদের সীটে পাশে বসতে দিয়েছে। সম্পূর্ণ রাস্তা সে বসে গিয়েছে অথচ নামার সময় একটু ধন্যবাদ ও দিলো না, হাহাহা। আমার ফ্রেন্ড আমাকে ডেকে বলতেছে আর আমি হাসতেছি কারণ এমন আমার আগে অনেকবারই দেখা হয়েছে, ওদের আজকে প্রথম তাই এমন অবাক। ওর কথা হলো, "দাঁড়িয়ে যেতো, এত ধাক্কাধাক্কি এর মাঝেও আমরা কষ্ট করে বসে একটু বসার জায়গা দিয়েছি, টাকা তো চাইনি সো একটু ধন্যবাদ তো দিতে পারতো, এটার জন্য তো টাকা লাগেনা।" টাকা লাগেনা ঠিকি কিন্তু যে বিবেক টুকু প্রয়োজন সেটা সবার মাঝে নেই এবং সেটা টাকা দিয়েও কেনা যায়না, এই হলো সমস্যা। এর ফলাফল শুনবেন? যেটার জন্য মূলত এই লেখাটি লেখা। আসার সময় আমরা ছিলাম তিনজন কিন্তু সীট ছিল আমাদের চারটি, যাওয়ার সময়ের অভিজ্ঞতার ফলে একজন একাই দুই সিট নিয়ে পা ছড়িয়ে হেলান দিয়ে বসে গেছে, সে কাউকে বসতে দিবে না, হাহাহা। সারাদিনের জার্নির ফলে ক্লান্ত শরীর, এবার উসুল করে নিচ্ছে। এটাও ঠিক না, একজনের ফলে অন্যদের উপকার পাওয়া থেকে বঞ্চিত করা। প্রথম দিকে বেশ হেসেছিলাম ওর বিহেভিয়ারে, আর ও হচ্ছে একটু জেদি তাই আরো রিয়েক্ট করে বসেছে। নিজের সীট নিজেই আরাম করবে, কাউকে দিবে না কেননা তারা উপকারের মূল্য বোঝে না। পরবর্তীতে যদিও এক মহিলাকে দিয়েছে বসতে, আন্টি বেশ ভালো ছিল এইবার।
এভাবেই একের জন্য অন্যদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়ানোর যে ইচ্ছা সেগুলো বিঘ্নিত হয়। ছোটবেলায় এক কথায় প্রকাশ শিখেছিলাম, "উপকারীর উপকার স্বীকার করে না যে-অকৃতজ্ঞ।" আরো কয়েকটি ছিল একই বিষয়ে। হয়তো সবাই শিখে নাই এগুলো। আসলে বিষয়টা এরকম যে আমাদের মাঝে প্রায়শই এরকমটা ঘটে কিন্তু আমরা সেরকম উপলব্ধি করি না বিষয়গুলো, যার ফলে এগুলো আমাদের নাগালের বাইরেই থেকে যায়, আমরা নিজেদের মাঝে ধারণ করতে পারিনা। কৃতজ্ঞতাবোধ কে না পছন্দ করে? আমি প্রায়ই এটা অনুভব করি, টাকা-পয়সার কোনো বিষয় নেই, অমূল্য একটি বিষয়।