সমালোচনা করতে যোগ্যতার প্রয়োজন হয়না, যে কেউ সমালোচনা করতে পারে।সমাজের সবচেয়ে অযোগ্য মানুষ গুলোরই প্রধান হাতিয়ার হলো অপরের ভালো-মন্দ সবকিছুতে নির্বিচারে সমালোচনা করা। অপরদিকে সমালোচিত হতে হলেও যোগ্যতার প্রয়োজন আছে।কেউ যখন তার যোগ্যতা দিয়ে নতুন বা উদ্ভাবনী কিছু করবে তখন ই একদল অযোগ্য লোকের আতে ঘা হয়ে লাগে এবং সমালোচনা শুরু করে।
আমাদের সমাজের মানুষদের অন্যতম অবসর সময় কাটানোর একটি পন্থা হলো অন্যকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় তোলা। মাঝে মাঝে আমরা নিজেরাও জড়িয়ে পরি এসব এ। দেখা যায় ঘন্টার পর ঘন্টা চলতেই থাকে এসব বিষয়ে আড্ডা। আসলে এসব এর কোনো মানেই হয়না না। এগুলা তারাই করে যাদের কাছে করার মত গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ নেই, অবসর সময় গুলো তাই অন্যের দোষ ত্রুটি খুজে বেড়ায়।অযোগ্য মানুষদের চিন্তাধারা হয় খুবই সংকীর্ণ। একটা নতুন সসম্ভাবনাময় কিছুর মধ্যেও ইতিবাচক দিকটা না দেখে সবসময় নেতিবাচক দিকটা নিয়েই চিন্তা করে। যার ফলস্বরূপ তারা কখনক কোনো কিছুতে কোনো প্রকার উৎসাহ দিতে পারেইনা বরং উল্টো নেতিবাচক সমালোচনা করে মানুষকে নিচে নামানোর চেষ্টায় মগ্ন থাকে।
আপনার মাঝে নতুন কিছু করার যোগ্যতা অথবা ইচ্ছাশক্তি আছে করে ফেলুন। সমাজের ওই অংশটির সমালোচনার ভয়ে ধমে গেলে হবেনা। অযোগ্য দের করার মতো কিছু নেই বলে তাদের একটাই কাজ মানুষের সমালোচনা করা। তাই বলে আপনি থেমে গেলে ত তাদের ওই সমালোচনা করার কাজ টাও যে বন্ধ হয়ে যাবে।হাহাহা। সমাজের এবং নিজের স্বার্থে যার যতটুকু অবধান রাখা কর্তব্য তা একনিষ্ঠ ভাবে করে যেতে হবে।নেতিবাচক কিছুর ভয়ে আটকে গেলে সমাজের উন্নতি সাধন হবে নাহ।আপনার পিছনে সমালোচনা হচ্ছে তারমানে আপনি যোগ্যতাবলে কিছু করতে পারতাছেন, যা করার মতো ক্ষমতা তাদের নেই বলেই তারা সমালোচকের আসনে।
বাস্তব জীবনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি আরেকটু বোধগম্য করা যাকঃ
বর্তমানে এই লকডাউনে যেখানে সবকিছু স্থবির হয়ে আছে। সেইসাথে আমাদের অর্থনীতির চাকাও স্থবির। যার প্রভাব একদম রাষ্টজীবন থেকে শুরু করে আমাদের ব্যাক্তি জীবনেও প্রভাব ফেলছে। ভার্সিটি বন্ধ সবাই তাদের বাড়িতে অবস্থান করছে।আমার পরিচিত কিছু বন্ধু-বান্ধব তাদের নিজেদের উদ্যোগে ছোট-খাটো ব্যাবসা শুরু করে। তার ই পরিপ্রেক্ষিতে কতো সমালোচনা শুনেছি তার হিসেব নেই।
"তারা এখন ব্যাবসায়ী টাকা আর টাকা।"
"লকডাউনে টাকা কামিয়ে উড়াই ফেলতেছে।"
"আরে এসব দুইদিনের ব্যবসা কইদিন পরই দেখবি সব শেষ একদম।"
"তারা ত এমনে এমনে ব্যবসা করতাছে এগুলা ত আমিও পারমু।"
অনেক সময় এসব সমালোচকের আসনে নিজেকেও খুজে পায়।পরে উপলব্ধি করতে পারি যে অন্যের কাজে উৎসাহ দিতে না পারলে সমালোচনা করেও কোনো লাভ নেই। এতে আমার ১০ টাকা লাভ হচ্ছে নাহ বরং উল্টো। তাদের নিজেদের উদ্যোক্তা হসেবে গড়ে উঠার যোগ্যতা আছে বলেই তারা এটি শুরু করতে পেরেছে। যাদের এমন কিছু নতুন এবং পদক্ষেপ নেওয়ার যোগ্যতা নেই তারাই সেই সমালোচনার দায়িত্ব টা গ্রহন করে।
ব্যাক্তিগত জীবনে এর প্রভাবে আসা যাক এবারঃ
একজন ব্যক্তি যখন সর্বদা মানুষের সমালোচনায় ব্যস্ত থাকে তখন তার দৃষ্টিভঙ্গির সবকিছুতে শুধুই নেতিবাচক দিকটা উঠে আসে। সে ভালো জিনিষগুলোর মধ্যে ভালোটা না খুজে শুধু নেতিবাচক দিকটাই খুজতে থাকে। তারা তাদের ব্যাক্তিজীবনেও কোনো কিছু করতে পারে নাহ।কোনো কিছু করার পূর্বেই সে চিন্তা করবে মানুষ কি বলবে না বলবে কারণ তার অভ্যাস থেকেই এরুপ চিন্তার আগমন। কাজটির নেতিবাচক দিকটা চিন্তা করে এর ইতিবাচক ফলাফল টা আর খুজে বের করে নাহ, যার ফলে তার দ্বারা ভালো/নতুন কিছু করাও হয়ে উঠে নাহ কখনো। সে সমালোচকই হয়ে থাকে শুধু।
তাছাড়া এসব সমালোচনা মানুষের মাঝে বাধা ও দুরুত্বের সৃষ্টি করে। আপনি যখন জানতে পারবেন আপনার কাছের ই একজন আপনার একটি কাজে উৎসাহ ত দিচ্ছেই নাহ বরং আপনার পিছনে এর সমালোচনা করে বেড়াচ্ছে তাহলে তার প্রতি আপনার যে সুসর্ম্পক টি ছিল তা আর থাকবে নাহ।আপনার তার প্রতি এক প্রকার অবজ্ঞা চলে আসবে।যা কখনোই কাম্য ছিল নাহ।
আমি ব্যাক্তিগত ভাবে এই সমালোচনা জিনিষটা খুব ঘৃনা করে। মনের অজান্তে কখনো হয়ে গেলেও পরে অনুতপ্ত হয়।কারণ জিনিষটা খুব ই বাঝে নিজে অনুভব করতে পারি অন্যের কাছে নিজের সম্বন্ধে কিছু শুনলে। কারো কিছু খারাপ লাগলে আমি সবসময় বলার হলে সামনাসামনি ই বলে দেয়। এটাই বোধহয় ভালো পিছনে সমালোচনা করার চেয়ে। উপরে যা লিখেছি সবই আমার ব্যক্তিহত উপলব্ধি থেকে বলা। আপনি এর সাথে একমত অথবা কিছু কিছু ক্ষেএে ভিন্ন মতামত ও প্রকাশ করতে পারেন। নিচে কমেন্টের মধ্যে জানাতে পারেন এই বিষয়ে আপনার মতামত।খুব খুশি হবো।সময় নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ,ভালো থাকবেন।