আগে ভাবতাম, শুধু বড় বড় পরিবর্তনই আসলে জীবন পরিবর্তনের কাজে লাগে। নতুন চাকরি অথবা জীবনের বড় কোনো সিদ্ধান্ত। কিন্তু পেছন ফিরে দেখি, যে জিনিসগুলো সত্যিই আমার জীবন বদলেছে, সেগুলো কোন ধরনের বড় পরিবর্তনের কারনে আসে নাই। বরং সেগুলো ছিল খুব সাধারণ কিছু পরিবর্তন। আর সেগুলো ধীরে ধীরে, নিজের অজান্ত থেকেই কাজ করেছে। তবে সময়ের কালক্ষেপণের সাথে সাথে হঠাৎ বুঝতে পেরেছি, আমি আগের মতো নেই। কিছু ছোট ছোট অভ্যাসের কারনে আমার জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে এবং আজ আমি তেমন কিছু অভ্যাসের কথা তুলে ধরবো আমার এই ব্লগ এ।
প্রতিদিন সকালে বিছানা গুছোনো
শুনতে অর্থহীন লাগলেও, দিনের শুরুতে একটা ছোট কাজ শেষ করে ফেলা মানসিকতা বদলে দেয়। ঘরটা একটু পরিপাটি দেখায়। মনটাও একটু গুছোনো মনে হয়। দিনের শুরুটা আত্মবিশ্বাস দিয়ে শুরু হয় যে, আমি অন্তত একটা জিনিস শেষ করতে পেরেছি।
সকালে উঠে প্রথমে এক গ্লাস পানি খাওয়া
আমাদের অনেকেরই একটি বদভ্যাস হচ্ছে সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ খুলতেই ফোন হাতে নিয়ে অকারণে সময় নষ্ট করা। কিন্তু এভাবে সময় নষ্ট না করে ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি খেলে দিনের শুরুটা হাইড্রেটের মাধ্যমে শুরু হবে।
ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে ফোন অন্য ঘরে রাখা
এই টেকনোলজির যুগে ফোন আমাদের নিত্যদিনের অবিচ্ছেদ সঙ্গী হয়ে গিয়েছে, তবে এটি যেমন আমাদেরকে নানা ভাবে উপকার করে তেমনি নানা ভাবে আমাদের ক্ষতি ও করে থাকে। আমরা সকলেই যখনই একটু ফ্রি সময় পাই তখনই ফোন এ কারন/অকারনে ব্রাউজিং করে সময় নষ্ট করি, যেটা আমাদের জীবনের অনেকটা সময় অপচয় করে দেয়। তার একটি বিশেষ সময় হচ্ছে ঘুমনোর আগে ফোন এ ব্রাউজিং করা। এই বদভ্যাসটি পরিবর্তন করা আমার জন্য খুব কঠিন ছিল, প্রথমে অস্থির লাগত। কিন্তু কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে আমি এখন এটা থেকে পরিত্রান পেয়েছি। তার একটি প্রধান পরিবর্তন হচ্ছে ঘুমানোর আগে বই পড়া।
রাতে তিন লাইন লেখা
পুরো ডায়েরির পাতা ভরে লেখার দরকার নেই, শুধু দিনটার সম্পর্কে তিনটে ছোট লাইন লিখলেই চলবে। ঐ দিনটিতে কখন কি ভুল হয়েছে বা কোনো ভালো অনুভূতি নিয়ে লিখলেই হবে। এতে দিনটা কেমন গেল সেটা পর্যালোচনা করা যায় ও ভবিষ্যতে ভুল ত্রুটি এড়িয়ে থাকা সম্ভব।
“হ্যাঁ” বলার বদলে “একটু ভেবে দেখি” বলা
আগে অনেক বিষয়েই ডিসিশন নেবার সময় খুব তাড়াতাড়ি রাজি হয়ে যেতাম, পরে বিরক্ত হতাম। এখন একটু রয়েসয়ে সব ডিসিশন নেই।এর ফলে সবকিছুর তাৎক্ষণিক উত্তর দিতে হয় না। নিজের সময় বাঁচানো যে নিজের প্রতি বড় দয়ার কাজ, সেটা বুঝতে পেরেছি।
এই অভ্যাসগুলোর কোনোটাই তেমন গুরুত্বপূর্ণ বা দারুণ মনে নাও হতে পারে। বিছানা গুছানো বা পানি খেলেই কেউ হাততালি দেয় না। কিন্তু এগুলো নিজের অজান্তেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে গুছিয়ে রাখতে সাহায্য করে এবং জীবনে অনেক সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করে।