এলাকায় অনেক ছোট ছোট উঠতি বয়সের ছেলেপেলেদের গ্রুপ আছে, গ্যাং বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু শুরুতেই এমন শব্দ ব্যবহার অনুচিত বলে মনে হয়েছে। কিছু আছে স্কুল জীবনের শেষ পর্যায়ে আর বেশিরভাগ কলেজে উঠেছে। এই বয়সটায় একটু উড়া উড়ি বেশি হয়। আমাদের সময় শুনতাম যে এই সময়ে নাকি ছেলে মেয়েদের পাখনা গজায়, আসলেও তাই, আমার ও গজিয়েছিল এবং সেটা কাটাও পড়ে গিয়েছিল, ভাগ্যিস সময় থাকতে মাটিতে পড়েছিলাম নয়তো অবস্থা নাজেহাল থাকতো। কেন? সে বেশ লম্বা কাহিনী, যার যার কাছে তার তার নিজস্ব কাহিনী ও ব্যাখ্যা রয়েছে।
এলাকার ছেলেপেলেগুলোর চ্যাপ্টারে ফিরে যায়। এগুলোর মাথায় সবচেয়ে বড় যে ভূত টা চেপেছে তা হলো রাজনীতি, ক্ষমতা, বড়-ভাই এসব। পড়ালেখা কোনদিন গেছে তা উপরওয়ালা ভালো জানেন। রাজনীতি করা খারাপ নয় তবে তাদের যে রাজনীতি সেগুলো দীর্ঘমেয়াদে কোনো সুফল বয়ে আনবে না মাঝখান দিয়ে জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ সময় খেয়ে নিবে। কেন এমনটা বলছি?
সময়ে সময়ে সমবয়সী অনেক রাজনীতির মাঠের সক্রিয় যোদ্ধাদের এসবকিছু ছেড়েছুড়ে জীবিকার তাগিদে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে যেতে দেখেছি। এইতো সপ্তাহ খানেক আগেও একজন এসব উড়ুউড়ু জীবন ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছে বহুদূরে। তবে সবাই যে এরকম হবে তা কিন্তু নয়। এলাকায় যাদের কথা বলছি তাদের মাঝের ই একজন এখান থেকে ভালো একটা ভিত্তি গড়ে নিয়েছে, রাজনীতির ছায়ায় থেকে তার বাইরেও নিজের একটা অবস্থান গড়ে নিয়েছে যা রাজনীতির বাইরেও তাকে জীবন সংগ্রামে বাঁচিয়ে রাখবে।
আমি কখনো এসবে যায়নি এমনটাও বলবো না। আমাদের সময় এলাকায় একটা জোয়ার এসেছিল, অনেক বড় বড় পদ একসাথে পেয়ে গিয়েছিল এলাকা থেকে। তখন একচেটিয়া ক্ষমতা এবং তার সুফল ও পেয়েছিলাম কিন্তু একটা সময় এসব কেমন যেন খুব বিরক্তিকর মনে হতে লাগলো, পরিবার থেকেও এদিকে না যেতেই বলা হল। ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসলাম, খুব গভীরে যায়নি বলেই এত সহজে এইসব থেকে বেরিয়ে আমার অন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় দিতে পেরেছিলাম। তবে রাজনীতির বাইরে থেকেও এর সুফল ভোগ করা যায় সেটা অবশ্য অন্য বিষয়।
আমার মতে রাজনীতির করার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন, যখন তখন এর মাঝে ডুব দিয়ে খুব বেশি আগানো যায়না। তুমি স্কুল-কলেজে এসবে দৌড়াদৌড়ি করে নিজের অন্য দিকটায় যে অপূরণীয় ক্ষতি টা করছো তা রাজনীতি কখনো পুষিয়ে দিবে না। বরং নিজের বিকাশে ষোলকলা পূর্ণ করেই তবে রাজনীতিতে ডুব দেওয়া উচিত। এক ভাইয়ের পেছনে হাজার টা কর্মী সবাই যদি নেতা হয়ে যায় তাইলে কিভাবে হবে। এসব চাটাচাটির রাজনীতির চেয়ে যোগ্যতার রাজনীতি আমার পছন্দ। তবে এখনের যোগ্যতা চাটাচাটি দিয়েই পরিমাপ করে হয়ে থাকে যা সবকিছু নষ্টের মূল। তাইতো ছেলেপেলে নিজের যোগ্যতার বিকাশ বাদ দিয়ে চাটাচাটি নিয়ে পড়ে আছে, নিজের বিকাশ জলে গেলে যাক, বড় ভাই আছে। যেদিন বড়-ভাই পদ হারাবে বা কিছু হবে তখন বানের জলে সব ভাসবে আর জ্ঞান ফিরে পাবে। অনেককেই এমন সজ্ঞানে ফিরে আসতে দেখেছি কিন্তু নিজের মূল্যবান সময়গুলো হারিয়ে।
কিছু বলতে গেলেই সমস্যা, সবাই অনেক বেশি বুঝে। অবশ্য আমরা আমাদের নিজেদের অবস্থানে নিজেরাই বেশ ভালো বুঝি, হোক সেটা ভালোর দিকে কিংবা খারাপের দিকে। একটা পর্যায়ে গিয়ে ভালো খারাপের ফলাফলটা হাতে আসলে আমাদের চেতনা জাগ্রত হয়। কারো কারো ক্ষেত্রে সেটা সুখকর আবার কারো কারো ক্ষেত্রে অনুশোচনার যাত্রা।