অন্ধ

Words
278
Reading
2 min
Listen
Play
4y

"বন্যায় পুরো গ্রাম ডুইবা গেল, ফসলের জমি সব শেষ। এইবার না খাইয়া মরতে হইবো।"

এই গ্রাম সেই গ্রাম বহু গ্রাম ডুবে গেল কিন্তু রহিম এই ভেবে খুশি যে তার গ্রাম বন্যায় কিছু হয়নি, সবকিছু স্বাভাবিক আছে। তার ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে, পাশের গ্রাম গুলোতে ফসল নেই, বেশ ভালো দাম পাওয়া যাবে। চাহিদার তুলনায় জোগান কম হলে দাম এমনিতেই বেড়ে যায়। এবং এখানে তাই হলো পাশের গ্রামগুলো থেকে কোনো ফসল এলো না, শুধু তার গ্রামের যা কিছু আছে তাই বাজারে।

অর্ধ পরিপক্ব ফসল তুলে বাজারে আনতে শুরু করলো সে, অবস্থা বুঝ দাম বাড়তে বাড়তে দুগুণ তিনগুণ করতে লাগলো, কারণ সেরকম জোগান নেই মানুষজন একপ্রকার বাধ্য হয়েই নিচ্ছে তার কাছ থেকে। রমরমা ব্যবসা, বেশ ভালো টাকা কামিয়ে নিয়েছে এইবার। আর অন্যদিকে সেই গ্রামের লোকজন একেতো ফসল করে লোকসান গুনতে হলো আবার তার উপর জিনিসপত্রের বাড়তি দাম, এক প্রকার নাজেহাল অবস্থা। কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ।

1652819724286-01.jpeg

বছরের পর বছর পার হয়ে গেল কিন্তু এই বিষয়গুলো পরিবর্তন হলো না। যে যেভাবে পারছে নিজেদের সুবিধামতো ভোগ করে নিচ্ছে, কাকে মেরে কে খাবে এই হলো মনোভাব। সবার কাছে নিজের মুনাফা কতটুকু বৃদ্ধি করা যায় সে নেশায় ব্যস্ত তাতে কার কি হয়ে গেলে এইসব কিছু যায় আসেনা।

কিয়ামত হতে চলছে খুব শীঘ্রই। মানুষজন সবকিছু ছেড়েছুড়ে ধর্ম-কর্ম নিয়ে মগ্ন হয়ে গিয়েছে। সবার মাঝে ভয় ঢুকে গিয়েছে, দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে, তাদের আমল নামায় সাথে করে ভালো কিছু একটা নিয়ে যেতে হবে। সবাই যখন এঁদিকে তখনও একদল থাকবে যারা এইখানে দুনিয়াবি স্বার্থ হাসিলের পেছনেই ছোটাছুটি করবে। তারা তখন ধর্মীয় জিনিষপাতি নিয়ে ব্যাবসা শুরু করবে, ধর্মগ্রন্থ থেকে শুরু করে যদি সম্ভব হয় কাফনের কাপড় নিয়েও ছাড় দিবেনা, একদম সর্বোচ্চ মুনাফা হাসিল করে ছাড়বে, এইতো সুযোগ। বর্তমান যা পরিস্থিতি তা বিবেচনায় এটা বলতে হয়েছে। আল্লাহ-তায়ালা সবাইকে সুবুদ্ধি দান করুক।

অন্ধ | Ecency