নামাজ শেষ মসজিদ থেকে বের হলাম, একটু সামনে এগিয়ে দেখতে পেলাম এলাকার কচিকাঁচাগুলো একসাথে গল্প - গুজব করছে। হঠাৎ একজন দৌড় দিল, আমার নজরে আটকে গেল, ডাক দিয়ে কাছে আনলাম। আরে ইনি তো আমার পাশের বাসার ছোকরা, নামাজ না পড়ে টইটই করে বেড়াচ্ছিল, তাই ভয়ে পালিয়েছে। কাছে এনে একসাথে বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করলাম আর জিজ্ঞেস করলাম ওনার এতোক্ষণের কর্মযজ্ঞের হিসাব-নিকাশ। বেশ লম্বা এক বর্ণনা যার বেশিরভাগ কেমন যেন খুব পরিচিত পরিচিত মনে হতে লাগলো।
আহ, এতো আমার নিজের ছোটবেলার কাহিনী। সন্ধ্যার আকাশ অন্ধকার হওয়ার আগেই যে ছেলের বাসায় ফিরতে হতো, সে-তো রাতে একটু সুযোগ পেলে তা লুফে নিবেই। আমিও রমজান মাসে নামাজে যেতাম, এশার নামাজ পড়ে-ই বের হতাম রাতের টহলে, এদিক-সেদিক কতদিকে যে যেতাম তা একমাত্র আল্লাহ মাবুদ আর আমরাই জানি। তারাবি নামাজের সময়টুকু ছিল একটু বাড়তি খেলার সময়। মসজিদের পেছনের কাতারে দাঁড়িয়ে হৈ-হুল্লোড়, বাইরে বেড়িয়ে লুকোচুরি খেলা, এদিক-সেদিক যেদিক মনে চায় কয়েকজন মিলে হাটতে যাওয়া এবং হঠাৎ পরিচিত কারো সামনে পড়লেই ভৌ-দৌড় কারণ বাসায় জানতে পারলে যে খবর আছে।
পিচ্চিটাকে অভয় দিয়ে শুনতে লাগলাম ওর মুখে সেই অনুভূতিগুলো । ৫ মিনিটের রাস্তায় কমপক্ষে ১০ বার বলেছে, "ভাইয়া, বাসায় বিচার দিবে নাতো?"