আত্মতৃপ্তি

Words
537
Reading
3 min
Listen
Play
6y

আত্মতৃপ্তি আমাদের মধ্য যখন কাজ করবে তখন বুঝতে হবে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। ভালো কাজের সবসময় একটা তৃপ্তি পাওয়া যায় কিন্তু মন্দটায় পাওয়া যায় নাহ।শত চেষ্টায় ও মনের মাঝে একটা খটকা রয়েই যায়।আজ রেলওয়ে স্টেশনে গিয়েছিলাম ফলে আমার নিজের একটি আত্মতৃপ্তির ঘটনা মনে পড়ে গেল।

২০১৯ সাল, রাতের এক্সপ্রেস ট্রেন দিয়ে আমি আর আমার সাথে এক বোন বাড়ি ফিরবো।জ্যামে ইতিমধ্যে দেরি তারউপর টিকেট প্রিন্ট দিতে আরো দেরি। বিমানবন্দর স্টেশন এমনিতেই খুব ভীড় তার মধ্যে তখন ছিল ভর্তি পরিক্ষার সময়, আরো বেশি মানুষজন। চিন্তার বিষয় ছিল সাথে বোন তাকে নিয়ে উঠা। ট্রেন এলো বগি আমাদের ছেড়ে অনেকদূরে, দিলাম ভৌ-দৌড়, উঠলাম কিন্তু সেই ধারণা করা ভীড়। ভীড় ঠেলে যখন উঠেছি আমাদের আসনে একজন বৃদ্ধ বসে ছিল এবং সে একা ভ্রমণ করতেছিল। আমরা যখন সিট নাম্বার খুজতেছিলাম তিনি তখন আমাদের মুখে শুনে ভীড়ের মধ্যেই উঠে দাড়িয়ে গিয়েছিলেন। আমরা এসে আসনে বসে তারপর ওনাকে লক্ষ করলাম যে দাড়িয়ে আছেন কিছুটা দুর্বল ও মনে হচ্ছিল। আমার বোনটি তখন বলতেছিল যে ওনি আমাদের এইখানে বসা ছিল এখন দাড়িয়ে আছে ওনার কি সিট নেই কিনা জিজ্ঞেস করার জন্য। সেই না-বোধক উওর আসলো। তারপর আমার বাবার কথা চিন্তা করে ওনাকে আমার আসনে বসতে দিয়ে আমি দাড়িয়ে আসি। তবে ওনার কাছে শুনতে পায় অনেক মূল্যবান কথা,অনেক ভালো ভালো কিছু দিক-নির্দেশনা। তারও গন্তব্যস্থল আমার সাথেই, পরবর্তীতে তার ছেলে তাকে স্টেশন থেকে তাকে রিসিভ করে নিয়ে যায়।

এইখানে একটা বিষয় হলো আমি নাহয় ২টা ঘন্টা দাড়িয়ে আসলাম। কিন্তু আরেকজনকে যে সাহায্য করতে পেরেছি তাতে আমি তৃপ্তি পেয়েছি।ভবিষ্যতে আমি এইটাও আশা করতে পারবে যে কোনো একদিন আমার বাবার ও যদি কখনো এমন সাহায্যের প্রয়োজন হয় তবে সেও হয়তো আমার মতো কারো কাছে সাহায্য পেতে পারে। মনে করুন যে লোকটিকে আমি সাহায্য করলাম সেতো অবশ্যই তার ছেলের কাছে বলবে কিভাবে এসেছে, তো পরর্বতীতে তার ছেলেও যখন আমার মতো একটা পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে সেও তার আসন টি তার বাবার কথা চিন্তা করে হাসিমুখে ছেড়ে দিয়ে একটা প্রশান্তি অনুভব করবে। সেও তখন বলবে আমরা এইভাবে আজ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসছি বলেও যাদের সাহায্য প্রয়োজন তার তাদের প্রয়োজনমতো সাহায্য পাচ্ছে। ইটস লাইক এ সাইকেল,ইউ ডো ইউর পার্ট সামউয়ান ইলস ইউল ডো দ্যা রেস্ট।

IMG_20201004_160047.jpg

আমাদের জীবনে এমন আত্মতৃপ্তি সঞ্চারণ কারি মহূর্ত বহুবার আসবে। তখন আমাদের উচিত সেগুলোর যথোপযুক্ত ব্যবহার করা।তাহলেই সমাজটায় একটা সামঞ্জস্যতা ও সুন্দর হয়ে উঠবে। সাহায্যের হাত বাড়াতে না শিখতে পাড়লে অন্যের কাছ থেকে বিপদে সাহায্যের জন্যে আশা করাটাও কি পাপ হবেনা? প্রশ্নটা রেখেই গেলাম।
আমার কাছে তো তাই মনে হয়। আমার ব্যক্তিগত জীবনে আমি সর্বদা আমার কাজের মাধ্যমে তৃপ্তি খোজার চেষ্টায় থাকি। কখনো যদি কোনো কাজে মনে হয় আমায় দিয়ে কারো ক্ষতি হয়েছে তখন সবকিছু কেমন যেন ঝাপসা মনে হয়।তাইতো মাঝে মাঝে নিজের স্বার্থ অগ্রাহ্য করেও কাজ করি যাতে আত্মার তৃপ্তি আসে। আত্মতৃপ্তিই সব সুখের মূল, তাইতো কোটি কোটি টাকা নিয়েও অনেকের শান্তি নেই আবার হাজার টাকায় ও দুনিয়ার সব সুখ খুজে পাওয়া সম্ভব। মাঝে মাঝে রাস্তার মোড়ের চায়ের দোকানে বন্ধু বান্ধব নিয়ে আড্ডায় যে আনন্দ উপভোগ করা যায় তা কোনো ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্টেও পাওয়া যায়না।


নিজের কাছে নিজে সন্তুষ্ট থাকতে জানতে হবে তাহলেই জীবনকে উপভোগ করা সম্ভব।ভালো কিছু আশা করা সম্ভব। কিছু কিছু সময় ছোট একটা জিনিসও অনেক কিছু মনে করিয়ে দেয়,অনেক কিছু শিখিয়ে দেয়। তেমনই আমার আজকের লিখাটি। ফিরে গিয়েছে সেই সুন্দর একটি ভ্রমণের স্মৃতিচারণে,উপলব্ধি করেছি তার পেছনের লুকিয়ে থাকা আত্মতৃপ্তির বিষয়টি। আশাকরি আপনারাও উপলব্ধি করতে পেরেছেন বিষয়টি এর মধ্যেই আমার লিখার সার্থকতা নিহিত। ধন্যবাদ সময় নিয়ে পড়ার জন্য।

আত্মতৃপ্তি | Ecency