Introducing Myself

Words
700
Reading
4 min
Listen
Play
4y

IMG_20220531_220820 (1).jpg

আত্মপরিচয়

জীবন চলার পথ বড়ই আঁকাবাঁকা। কখন কাকে কোন গন্তব্যে পৌঁছে দেয় সে নিজেও জানেনা! আমি ছিলাম গ্রামের দুরন্ত স্বপ্ন বিলাসী গ্যাঁছো মেয়ে। ছিলাম কথাটা কেন এলো! কারণ সে পরিচয় আমার গুছে গেছে।এক সময় আমি হয়ে গেলাম শহরের কলেজ পড়ুয়া ভদ্র মেয়ে।টিউশনি করার সুবাদে "নিকুঞ্জে" সবাই আমাকে "রুবি ম্যাডাম" বলে চিনতো।রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে ছোটবড় সবাই আমাকে সালাম দিতো। আমি খুব উপভোগ করতাম।আমার ছাত্রছাত্রীরা আমাকে ভীষণ ভালোবাসতো। এ পরিচয় ও আমার অতীত হয়ে গেছে।

এখন আামি মালয়েশিয়া প্রবাসী। এখন আমার অনেক গুলো পরিচয়। ছোট্ট একটা কোম্পানির পরিচালক।মানহা সোনার মা। আবার অন্য একজনের প্রিয় সহধর্মিণী।আমি সেতারা পারভীন রুবি। আমার নামটা আমার ভীষণ প্রিয়।সেতারা পারভীন নামটা আমার বড়আপা রেখেছে। সেতারা অর্থ নক্ষত্র পারভীন অর্থ দীপ্তিময় তারকা আর রুবি অর্থ দামী পাথর। রুবি নামটা রেখেছে আমার বড় মামা। আমি কতটা উজ্জ্বল জানিনা। নামটা আমার উজ্জ্বলতার সমাহার।

আমার জন্ম সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক নিবাস কিশোরগঞ্জ জেলায়।কিশোরগঞ্জ জেলায়তো আরও অনেক গণ্যমাণ্য লোক আছেন,কিন্তু সত্যজিৎ রায়ের নাম কেনো নিলাম!কারণ ওনার পৈতৃক নিবাস আমাদের পাশের উপজেলায়,আমাদের বাড়ি থেকে খুব কাছে।তিনি কখনও সেখানে এসেছেন কিনা জানি না,তবে এমন একজন বিশ্বজয়ী মানুষের পূর্বপুরুষের বাড়ির কাছে আমাদের বাড়ি! তাতেই আমাদের গর্ব হয়।

দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বাড়ির আশপাশের স্কুল কলেজে পড়ার পর,ঢাকায় এসে স্নাতক ডিগ্রির জন্য তিতুমীর কলেজে ভর্তি হই।স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর শেষ করার পর উচ্চতর ডিগ্রির জন্য মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমায়।
পড়ালেখা শেষে মালয়েশিয়াতেই রেস্টুরেন্টের ব্যবসা শুরু করি।

বন্ধুঃ


আমি অনেকটা বন্ধু পরায়ণ। আমার মনে হয় বন্ধু ছাড়া কখনো জীবন সম্পূর্ণ হয় না।আমি যেখানে থাকি না কেনো,আশেপাশের সবাই আমার বন্ধু হয়ে যায়। সব সময় যে সমবয়সীদের সাথে আমার বন্ধত্ব হয় তা না। আমার বাচ্চা বন্ধু যেমন আছে তেমনি আছে বৃদ্ধ বন্ধু।তাদের মধ্যে বাল্য বন্ধু নিপা,শেফালী,নয়ন আর কলেজ ফ্রেন্ড রিপা, হাবিব,মনির ওরা আমার জীবনের অংশ।

শখঃ


কোনো একজনকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে তার শখ কি? সে হয়ত খুব সহজে উত্তর দিয়ে দিবে।কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এটা খুব কঠিন। কারণ আমার শখ যে কি সেটা নিজেই বের করতে পারি না।
আমার বই পড়তে ভালো লাগে, সাইকেল চালাতে ভালো লাগে, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জমাতে ভালো লাগে,মাছ ধরতে ভালো লাগে, সাঁতার কাটতে ভালো লাগে তাই একটা নির্দিষ্ট করে বলা আসলেই অসম্ভব।

প্রিয় ব্যক্তিত্বঃ


আমার মা,একমাত্র ছোট ভাই, আমার স্বামী আর এক মাত্র শিশুকন্যা ওরা আমার বুকের ভিতর লুকিয়ে থাকা প্রাণ।ওদের সামান্য কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে যদি আমার প্রাণটা দিতে হয় আমি দ্বিতীয় বার ভাবার প্রয়োজনবোধ করব না।

কৃতজ্ঞতাঃ


আমি কৃতজ্ঞ আমার সৃষ্টি কর্তার কাছে যিনি আমাকে এত সুন্দর করে সৃষ্টি করে সুন্দর এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আমি কৃতজ্ঞ সেই মহান মানব-মানবীর কাছে যাঁরা আমাকে এ পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন। আমি কৃতজ্ঞ তার কাছে যে আমাকে হাইভ এর মতো একটা প্লাটফর্মে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।

প্রিয় খাবারঃ


আমি খাদ্য রসিক মানুষ । নতুন নতুন পদের খাবার নিজে রান্না করে খেতে আমার খুব ভালো লাগে। ইলিশ মাছ, চিংড়ি মাছ, গরুর মাংস আর আমার এলাকার "চ্যাপা শুটকির" যে কোনো রেসেপি আমার ভীষণ প্রিয়।রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী হওয়ার কারনে বাহিরের যেকোনো খাবার আমার অপছন্দ বার্গার আর সর্মা ছাড়া।

বর্তমান জীবনঃ


আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় এটা। আমার একমাত্র কন্যাশিশু একটু একটু করে বড় হচ্ছে আমার কোলে। চব্বিশ ঘণ্টা কিভাবে কাটে আমি বুঝতেও পারি না। এমনও দিন আছে গোসল, খাওয়া দাওয়া কিছুই করতে পারছিনা কিন্তু তাতে আমার কষ্টও হয় না বিরক্তও লাগে না।বরং অন্যরকম এক ভালো লাগায় বিভোর হয়ে থাকি। আমি একা থাকতে পারি না। আপনজন কিংবা প্রিয়জন কেউ কাউকে শতকরা শতভাগ সময় দিতে পারে না। কিন্তু আমার কন্যার শতকরা শতভাগ সময় শুধু আমার জন্য।তাই আমি মনে করি কর্পোরেট লেডি হোক বা সেলিব্রিটি, একটা নারীর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন তার সন্তান।

Screenshot_2022_0603_135928.jpg

হাইভ পরিবারে আমার যোগদানঃ


ছোট বেলা থেকে আমার লেখালেখি করতে খুব ভালো লাগে। আর এই ভালো লাগা থেকে স্কুল জীবনে শুরু করেছিলাম রোজকার ডায়েরি লিখা। আমার ছোট ভাই শাওন ওর নেশা ছিলো আমার ডায়েরি চুরি করে পড়া।এই জন্য আমি মাঝে মাঝে রাগ করতাম কিন্তু তেমন কিছু বলতাম না। এতে বিশেষ গোপন কিছু থাকতো না। কারণ আমরা চার ভাইবোন বেস্ট ফ্রেন্ড বলা যায়।

তাই ও জানে আমি লিখতে পছন্দ করি। ও হাইভে আছে দুই বছরের বেশি সময়। আমি ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তেমন জানা হয়নি আমার। বর্তমানে আমার কন্যার জন্মের পর থেকে আমি ব্যবসায়ের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যহতি নিয়েছি। তাই এখন অবসর সময় কাটাই।শাওন ( #shaonashraf ) যখন বললো ও হাইভে লেখালেখি করে তখন আমি ওর প্রফাইলটা ঘুরে দেখলাম।তাকে নাকি তার বন্ধু সৌরভ ( #sourovafrin ) এখানে নিয়ে এসেছে।
সবার লেখালেখি দেখে আমার খুব ভালো লাগল। আমি ওকে বললাম আমাকেও হাইভে যোগ করতে। তখন সে ব্যবস্থা করে দিল।

received_341862951262408.jpeg

Introducing Myself | Ecency