ভয়ংকর সে রাত

Words
450
Reading
2 min
Listen
Play
2y

Collage_20240524_010305.jpg


এটা ছিলো ২০২৩ সালের ছয় অক্টোবর ।রোজ শুক্রবার। প্রতিদিনের মতো আমি আর মানহা অপেক্ষা করেছিলাম ওর বাবা কখন আসবে।সাড়ে ছয়টায় এসে ঢুকলো।বেড রুমে যায়নি। সোফায় বসে আমাকে বলছিলো 'রুবি আজ দুপুরে খাওয়া হয়নি।খিদে লেগেছে কিছু খেতে দাও।'আমি ভাত খাবে কিনা জিজ্ঞেস করলাম।রান্না হলে দিয়ে দাও খেয়ে রেস্ট নিয়ে জিম করবো।গরুর মাংস আর কোন একটা ভাজি ছিলো। তাই দিয়ে ভাত খেয়ে ডায়নিং থেকে ওঠে সোফায় বসলো।আমাকে বললো 'রুবি এখন ভাত খাওয়াটা মনে হয় ঠিক হয়নি।' আমার শরীর ভেঙে পড়ছে। সোফায় শুয়ে এক ঘন্টার মতো মোবাইলে কিছু একটা দেখলো।এরপর আমাকে বললো আজ জীম করবো না।শরীর ভালো লাগছে না।

এই সেই করে বারোটা বেজে গেলো। আমাকে একটা নাপা দিতে বললো।আমি একটা নাপা দিলাম। খেয়ে শুয়ে পড়লো। আমিও মানহাকে ঘুম পাড়িয়ে শুয়ে পড়লাম।মধ্য রাতে ওর শরীরের তাপে আমার ঘুম ভেঙে গেলো।তাড়াতাড়ি ওঠে থার্মোমিটারে জ্বর মাপলাম ৩৯.২।ওর মাঝে মাঝে জ্বর আসে।কিন্তু ৩৮.৫ এর উপর কোনদিন ওঠেনি।আমি কি করবো না বুঝে আরও একটা নাপা খাইয়ে দিলাম।এরপর জ্বর নেমে গেলো।ঘুমিয়ে গেলাম।

ঘুম থেকে ওঠে দেখি দশটা বাজে।ও ডাক্তারের কাছে যেতে চাই না।আমি জোর করে নিয়ে গেলাম। ডাক্তার দেখে তিনদিনের ঔষধ দিলো।ডাক্তার একবারের ঔষধ খাইয়ে দিলো।জ্বর ছেড়ে দিলো।ওকে সুস্থ মনে হচ্ছে। বাসায় এসে রান্না করলাম। আমার ফুফাতো ভাই বাসায় আসলো সেদিন।সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া করলাম। ও সম্পূর্ণ সুস্থ। কার কাছে টাকা পাবে সেটা আনতে যাবে।আমি নিষেধ করলাম শুনেনি।

টাকা নিয়ে বাসায় আসার পর দেখি কেঁপে জ্বর আসছে।ঔষধ খাবার পর আবার চলে গেলো।ভোর রাতে আবার জ্বর। ঔষধ খাওয়া পর আবার চলে গেলো।যেহেতু ছয় ঘন্টা পর পর ঔষধ খাচ্ছে মঙ্গলবার জ্বর আসেনি কিন্তু ও কথা বলে না চুপচাপ। ওর যেনো শরীর চলে না।আমি ভাবলাম ঔষধ খাচ্ছে তাই হয়তো।কিন্তু রাতে শুধু বলে ভালো লাগে না।এভাবে সারারাত ঘুমায়নি।শরীর ঠান্ডা এরপরও থার্মোমিটার দিয়ে সকালের দিকে জ্বর মাপতে গিয়ে আমিতো অবাক হয়ে গেলাম। জ্বর ৩৯ডিগ্রি।
সাড়ে ছয়টায় ক্লিনিকের উদ্দেশ্যে বের হলাম। পৌঁছে দেখি ক্লিনিক বন্ধ। একজন আয়া বের হলো বলে নয়টায় খুলবে।মানহার বাবা বমি করছে। অবশ্যই বমি হচ্ছে না,ওয়াক আসছে জোরে জোরে। পাশে আরেকটা চব্বিশ ঘণ্টার ক্লিনিক আছে।আমি সেখানে যেতে বললাম মানহার বাবা বাসায় চলে আসতে চাই।আমি বাসায় যাবো না। তখন সে বলে মানহাকে যে ক্লিনিকে দেখায় সেটাই যেতে।আমিও রাজি হলাম।

আধাঘন্টার মতো সময় লাগলো ক্লিনিকে পৌঁছাতে। ক্লিনিকে পৌঁছানোর পর আধা ঘন্টার মতো সিরিয়ালে বসতে হলো।মানহার বাবার আমার উপর হেলান দিয়ে বলছিলো আমি অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছি। আমি কি করবো বুঝতে পারছি না।তখনি ডাকলো।ডাক্তার ওকে দেখে পাশের রুমে রক্ত দিতে বললো।
রক্ত দেওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে স্যালাইন দিয়ে দিলো।এর পাঁচ মিনিট পর ডাক্তার আমাকে ডেকে বললো ওর অবস্থা ভালো না। কুয়ালালামপুর হসপিটালে ভর্তি করতে হবে।আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই এম্বুলেন্স এসে গেছে। ওরা ওকে ওঠিয়ে আমাকে ওঠার জন্য ডাকছে।ওরা এক হাতে স্যালাইন,অন্য হাতের এক আঙ্গুলে হার্টবিট মাপার যন্ত্র,পাশের আঙ্গুলে প্রেসার মাপার যন্ত্র লাগিয়ে রেখে দিয়েছে।হাসপাতালে ডাক্তারের সাথে এম্বুলেন্সের ডাক্তার ফোনে আলোচনা করছে।
আমি বুঝে উঠতে পারছি না।ওরা এমন করছে কেনো? মানহার বাবার কি হলো-----
চলবে