রাতে ঘুম নেই, নামাজ - রোজা রাখা হয়েছে অনেক তাও টেনশন কমছে না। আগামীকাল আমলনামা দেওয়া হবে, একটু এদিক-সেদিক হলে শেষ। তাও কখন চোখ লেগে গেলো খেয়াল নেই। দেখতে পেলাম সকাল ১১ টা বেজে গেল, চারদিকে সবাই রেজাল্ট পেয়ে গেছে কিন্তু আমারটা আসছে না, কোনো ভাবেই এক্সেস পাচ্ছি না, একবার বলে সার্ভার ডাউন, একবার বলছে আমার রেজাল্ট নেই, তীব্র মাত্রার অস্থিরতা। সবার রেজাল্ট পাওয়া শেষ, চারদিকে আনন্দের উল্লাস আর এদিকে আমার রেজাল্ট গায়েব, বলে দিল আমার রেজাল্ট নেই যেন আমি এক্সামই দেয়নি। চিৎকার দিয়ে ঘুম থেকে উঠলাম, এখনো ভোর হয়নি, একটু পানি খেয়ে ঘুমানোর চেষ্টা। এটা আমার পুরনো অভ্যাস, যখনই কোনো কিছু নিয়ে প্রচণ্ড মাত্রার চিন্তা করি তখনই এমন উল্টা-পাল্টা স্বপ্ন দেখি। এক্সামের আগে দেখতাম আমি সময় মত হলে যেতে পারছি না, কলম দিয়ে কালি বের হচ্ছে না, হাত দিয়ে লিখতে পারছি না, ব্লা ব্লা ব্লা।
সত্যিই যখন ১১ টা তখন স্কুলে যাওয়া মাত্রই দৌড়ানি খেলাম এক বন্ধুর কাছ থেকে, তিরষ্কারের দৌড়ানি ছিল। আমি অনেকটা ভয় পেয়ে গেছিলাম যে ফেইল করে বসলাম নাকি, রাতে স্বপ্ন টাও বাজে ছিল। একটু দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলাম কাহিনী কি, দৌড়াচ্ছে কেন আমায়। রেজাল্ট দেখিয়ে দিলো আবার দৌড়ানি কারণ আমি ০.০৫ পয়েন্টের জন্য প্লাস মিস, মানে ৪.৯৫ ছিল আমার রেজাল্ট, ভাবা যায়? যে শুনত সেই আফসোস করত, আমিও ভাবতাম যে মিস যখন হয়েছে পয়েন্টটা আরেকটু কম আসলেই পারতো অন্তত আফসোসটা কম থাকতো। আরেকটা কারণ হল আমার সবচেয়ে পছন্দের সাবজক্টেই আমার প্লাস মিস অল্পের জন্য অথচ আমার এক্সাম ভালো হয়েছিল। এমনকি সেই এক্সামের দিন বেরিয়ে আসার সময় পেছনের কয়েক জনকে একটা ভুল শুধরিয়ে ১০ নাম্বার বাঁচিয়ে দিয়ে এসে নিজের প্লাসই মিস আর সেই জন্যই এই দৌড়ানি টা খেয়েছিলাম। তাও আলহামদুলিল্লাহ, সন্তুষ্ট ছিলাম। এটা ছিল এসএসসি এর রেজাল্ট দেওয়ার দিনের গল্প।
আগামীকাল এই বছরের এসএসসি পরিক্ষার্থীদের রেজাল্ট দিবে। যাদের বাসায় রেজাল্ট প্রত্যাশী আছে তারা বুঝবে কি একটা মানসিক অবস্থায় আছে তারা। হাসি পায় একটু পরপর তাদের বিচলিত অবস্থা দেখলে, অদ্ভুত অদ্ভুত সব চিন্তা-ভাবনা, পরীক্ষা শত ভালো দিয়েও রাজ্যের চিন্তা মাথায়। একটু শান্তনা, একটু মজা নেওয়া এভাবেই যাচ্ছে আজকের দিনটি। আগামীকাল রেজাল্ট প্রকাশ পেয়ে গেলে মুক্তি, আবার সেই এইচএসসি, এরপর ধীরে ধীরে এই আমেজ কমতে থাকবে। এখন কোন দিক দিয়ে এক্সাম যাচ্ছে আর কোনদিকে রেজাল্ট খবরই থাকেনা, অনেকটা দৌড়ের উপর শেষ। হঠাৎ মনে পড়ে গেল সেই পুরনো দিন গুলোর কথা।