অন্ধকারাচ্ছন্ন সন্ধ্যা

Words
280
Reading
2 min
Listen
Play
4y

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে মাগরিবের আজান পরে গিয়েছে তার মানে এখনই বাসায় যেতে হবে নয়তো কপালে দুঃখ আছে। হাত-মুখ ধুয়ে কিছু খেয়ে পড়তে বসা। প্রতিদিনকার রুটিন। হঠাৎই বিদ্যুৎ চলে গিয়েছে, আহা কি খুশি, কি আনন্দ আকাশে-বাতাসে। বই-খাতা গুছিয়ে এক দৌড়ে বাইরে। রাস্তায় সব বাচ্চা-কাচ্চা, মুরুব্বি, বিশেষ করে গরমের দিনগুলো। বিদ্যুৎ বিহীন অসহ্য গরম কার সহ্য হবে? হই-হল্লোর, এদিক-সেদিক ছোটাছুটি, বিশেষ করে মনে পরে লুকোচুরি খেলা এবং ঝিঝি-পোকা ধরতে যাওয়া। লুকোচুরির নিয়ম ছিল যখনই বিদ্যুৎ আসবে তখনই খেলা সমাপ্তি, যে যেখানেই লুকিয়ে থাকুক দৌড়ে বাড়ি যাওয়া। আর ঝিঝি পোকা অনেক সময়ই বাসায় নিয়ে এসে ছেড়ে রাখতাম, প্রায়ই দেখা যেতে যে আনতে আনতে মারা গিয়েছে নয়তো রুমে ছাড়া মাত্রই জানালা দিয়ে বেরিয়ে গেছে। এভাবেই চলতো স্কুলের দিনগুলোর বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের সময়গুলো।

ধীরে ধীরে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে গিয়েছে, লোডশেডিং এর মত সমস্যাগুলো অনেকটাই কমে গিয়েছে, বড়জোর ৫ কিংবা ১০ মিনিট।

কিন্তু বর্তমান অবস্থা সবার জানা, পুরো দেশে এখন নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে। পুরো দেশে, এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা, কোথাও কোথাও তো আরো বেশি, ভাবা যায়? প্রত্যেক দিন একটা নির্দিষ্ট সময় বিদ্যুৎ নিয়ে নিবে, সেই দশ-পনেরো বছর আগের অবস্থায় চলে গিয়েছে।

গতকাল থেকে নিয়ম করে বিদ্যুৎ নিয়ে নিচ্ছে। এক ঘণ্টার জন্য, আজকে আমি বেরিয়েছি, ইচ্ছে করেই যেন আগের মতো কিছু স্মৃতিচারণ করা যায় কিনা। কিন্তু পুরো এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়নি, প্রযুক্তির ছোঁয়ায় অনেকেই সমাধান খুঁজে নিয়েছে কিছু কিন্তু তারপরও গেলাম হেটে হেটে, যেখানে কিছু নির্মল বাতাস পাওয়া যাবে, সেকি সেখানে গিয়ে অনেক মানুষজন, কেউ কেউ তাদের পরিবারের ছোট বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে এসেছে হাটা-চলা ও একটু স্বস্তির বাতাসের জন্য। আমরা তো প্রায়শই বিদ্যুৎ থাকলেও সেখানে গিয়ে আড্ডা দেই।

1658328715325-01.jpeg

ঐ-যে দূরে আলোর উৎস সেটা মূলত একটি গ্যাসের প্রকল্প, উপরে গ্যাসের প্রবাহ দেখা যাচ্ছে। এখানে অন্ধকারে বসে দূরের ওই আলোর উৎস সাথে চাঁদের যতটুকুই আলো তাতেই কিছুটা সময় কাটিয়ে দেয়া যায়।

অন্ধকারাচ্ছন্ন সন্ধ্যা | Ecency