শেষ গন্তব্য

Words
306
Reading
2 min
Listen
Play
4y

ষাটোর্ধ বয়সী চার-পাঁচ জনের একটা গ্রুপ, নিয়ম করে সকাল বিকেল দুবেলা এলাকার মসজিদের পাশের চায়ের দোকানে আড্ডা চলে। জীবনের দায়-দায়িত্ব যতটুকু মেটাবার ছিল তা মিটিয়ে এবার অলস সময়গুলো এভাবেই ঘরে-বাইরে করে কেটে যায়।

সবার বয়োজ্যেষ্ঠ এখানে আফতাব আলী, বয়স নব্বই পেরিয়ে। বয়সের ভিত্তিতে সচরাচর তেমন কোনো ভেদাভেদ তাদের মাঝে নেই। শারীরিক সক্ষমতা ধীরে ধীরে লোপ পাচ্ছে, নিয়ম করে দুবেলা আগের মতো সম্ভব নয়। কয়েক মাস এক বেলা গিয়েছে তারপর সেটাও বন্ধ, দিন কয়েক পরপর একটু বাইরে হাঁটা চলার স্বার্থে বেরিয়ে যাওয়া। এভাবেই একে একে অসুস্থতা চেপে বসে, বাড়িতে কিছুদিন আবার কিছুদিন হাসপাতালের বিছানায়। কিন্তু আফতাব আলীর বাড়ি ছেড়ে দূরের কোনো শহরের যে হাসপাতালে যাওয়া মোটেও পছন্দ নই, তিনি দরকার হলে বিনা চিকিৎসায় এখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবেন কিন্তু তা কি আর হয় নাকি, ছেলে-মেয়েরা নিয়েই ছাড়বে, এভাবে কি অসুস্থতা বাড়তে দেওয়া যায় নাকি।

1654716009702-01.jpeg

মাসের পর মাস, বছর কেটে যাচ্ছে এভাবেই। কিছুদিন ভালো তো কিছুদিন খারাপ, কখনো এই সমস্যা তো কখনো আবার অন্য একটা। হাসপাতাল থেকে বাড়ি আবার বাড়ি থেকে হাসপাতালে, প্রতিবার হাসপাতালের দিকে যাওয়ার সময় আফতাব আলীর একটাই চাওয়া এবারের মতো আমাকে বাড়ি ফিরিয়ে নাও আমি সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চাই, বাড়ি ফিরে একটি স্বস্তি যে এবার কিছু হলেও নিজ ভিটে-মাটিতে হোক।

শুক্রবার, জুম্মার নামাজ শেষে খাওয়া-দাওয়ার পর শরীরটা কেমন যেন খারাপ লাগছে, বিছানায় এলিয়ে শুয়ে কেমন যেন ঝটপট করছে। ছেলেরা খবর পেয়ে ছুটে আসলো যথারীতি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হলো, এবার আলতাফ সাহেব বেশ কিছুটা জোর দিয়েই যেতে অসম্মতি জানালো কিন্তু কেউ কি তার পিতা-মাতাকে এভাবে কষ্টের মাঝে ফেলে রাখবে? কখনোই না। শেষ বিন্দু পর্যন্ত যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে চায় সবাই।

অবস্থা ক্রমশ খারাপের দিকে, এম্বুলেন্স সাইরেন বাজিয়ে খুব দ্রুতগতিতে ছুটে যাচ্ছে তার গন্তব্যের দিকে। হঠাৎ থেমে গেল, গাড়ির গন্তব্য পরিবর্তন হয়ে উল্টো দিকে যাত্রা, এ যেন শেষ যাত্রার প্রস্তুতি। আফতাব আলী ফিরে এলো তার নিজ ভিটেয় কিন্তু এইবার আর স্বস্তির ঢেকুর দেওয়ার জন্য তিনি বেচে নেই। শেষ গন্তব্যে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

শেষ গন্তব্য | Ecency