চিন্তার বেড়াজাল

Words
364
Reading
2 min
Listen
Play
4y

বেশি বেশি চিন্তা করলে নাকি কাজে বিঘ্ন ঘটে, আর আমি দুশ্চিন্তার সাগরে ডুবে আছি। কিছুদিন আগে সাগরের জলে ডুব দিয়ে সকল চিন্তা-ভাবনা ফেলে দিয়ে এসেছিলাম, সেদিন রাতেই ডিপার্টমেন্ট থেকে এক্সামের রুটিন প্রকাশ করে। মানে আমার সুখ সহ্য হয়নি তাদের, ফিরে এলেই একখানা বাঁশের সুন্দর ব্যবস্থা করে রেখেছে সেটারই আগাম জানান দিয়ে দিয়েছিল।

1654539575024-01.jpeg

এক গাধা বই কিনে রেখেছি সেই কবেই, বেশ ধুলাবালিও জমে গিয়েছিল, ঠিকমতো পড়তে না বসার দায়ভার সম্পূর্ণ আমারই। সিলেবাস কতটুকু কভার দিয়েছি কিংবা দেয়নি সেটা নিয়ে মাথা - ব্যথা কিছুটা কমই। ব্যথা হচ্ছে অন্য জায়গায়। আচ্ছা সেখানে একটু পরে আসছি। আজকের পরীক্ষার সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, গত এক-দুই দিনে যেও একটা ড্রামা খুব সুন্দর করে শেষ করেছিলাম যে যেহেতু দুইটা আছে সেহেতু একটা সুন্দর মতো শেষ করে যায় যাতে করে সলিড কিছু মার্কস আত্মবিশ্বাসের সাথে পাওয়া যায়। কিন্তু আমার আত্মবিশ্বাসের ভরাডুবি যখন দেখলাম আমার পড়ে যাওয়া টপিক টা থেকে একটা কিছু আসে নাই, নট ইভেন এ সিঙেল ওয়ার্ড। আমি হতবাক, কিচ্ছু করার নেই, লিখে যেতে হবে নয়তো আমার ওই মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যাবে।

এবার তাহলে মূল দুশ্চিন্তার বিষয়ে আসা যাক। গ্রাম বাংলায় একটা বহুল প্রচলিত প্রবাদ আছে, বাড়ির গরু ঘাঁটার ঘাস খায় না' আসলেও নাকি সত্য। তবে আমার ঘাস না খাওয়ার পেছনে আরো অনেক কারণ রয়েছে যেগুলো না বলাই থাক, সেগুলো এখন শুরু করলে এক চিন্তা থেকে পূর্বের আরো শত চিন্তা এসে বসবে।

ডিপার্টমেন্টে খুব কমই গিয়েছি, গুটি কয়েকজন বাদে কারো সাথেই পরিচয় নেই, ক্লাস করিনি খুব একটা সেই সুবাদে শিক্ষকগণ আমায় চিনেনা তেমন একটা। এক্সাম কিংবা কোন অফিসিয়াল কাজ এই আমার পদচারণা ডিপার্টমেন্টে এর বারান্দায়। বিরিয়ানি খাওয়ার সময় এলাচি মুখে গেলে কেমন লাগে? এলাচি না দিয়েও পারা যায়না, তেমন আমার ডিপ্টেও একজন স্যার আছেন যিনি আমার কাছে সেই এলাচির মতো, ওনাকে এড়িয়ে চলার যথাসম্ভব চেষ্টা করি। আজকে একজন খাতা স্বাক্ষর এর সময় মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করতেছেন, "আপনি কি এই ডিপার্টমেন্টের?" আমি সম্মতি জানালাম, তিনি আর কিছু একটা বলেননি, এই রক্ষা। কিন্তু ভয় সেখানেই, কখন না জানি কে কি জিজ্ঞেস করে বসে পুরো ক্লাসের মাঝে, ওই যে যার কথা বলছিলাম, এর সামনাসামনি পড়তে চাইনা।

এক হলো সিলেবাস শেষ করা নিয়ে টানাটানি আর চিন্তা, তার উপর ডিপ্টে আমার অনুপস্থিতি নিয়ে কে কি বলে বসে সবার সামনে সেই দুশ্চিন্তা, দুয়ে মিলে বাজে এখন ১২ টা। আগামীকাল এক্সামও দিয়েছে ১২ টায়, আল্লাহ ভরসা

চিন্তার বেড়াজাল | Ecency