আজ ভালোবাসা দিবস। চারদিকে ভালোবাসা বিনিময়ের জোয়ার এসেছে। ভালোবাসা এক অন্যরকম অনুভূতি, নির্দিষ্ট একটি দিন আলাদা করে একটু ভিন্ন ভাবে ভালোবাসার প্রদর্শন করা যেতে পারে রাহাতের এতে কোন বিরোধ নেই। তার বন্ধুরা যেখানে স্ট্যাটাস দিচ্ছে ভালোবাসা ৩৬৫ দিন কোনো একদিন কেন পালন হবে, আবার অন্য দিকে ভালোবাসা দিবস উদযাপন করছে যারা উভয়ের স্ট্যাটাস গুলোতে সমানে লাভ রিয়েক্ট দিয়েই যাচ্ছে। ভালোবাসা দিবস ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে হবে,কার্পণ্য করে লাভ নেই। বন্ধুমহলে যখন চারদিকে ভালোবাসার ছড়াছড়ি সেখানে রাহাত হ্যাপিলি সিঙ্গেল। এমন না যে তার পক্ষে একটা রিলেশন এ যাওয়া কঠিন কিছু, ব্যাপার টা হচ্ছে প্রকৃত ভালোবাসার জায়গা টুকু কোনো এক জায়গায় আটকে আছে যেখান থেকে সরতে ইচ্ছে হয়না ওর।
বেশি দিন আগের কথা নয় মাএ ৩ বছর আগেও রাহাতের জীবনে এমন ভালোবাসা দিবস এসেছিল। হলদে রঙের একটা পাঞ্জাবি পরে আর সাথে শাড়ি পড়া প্রিয় জনকে নিয়ে রিক্সাতে ঘুরে বেড়িয়েছিল। হেটে ছিল দীর্ঘ রাস্তা। সময়টা আপাতদৃষ্টিতে ৩ বছর হলেও রাহাতের কাছে ৩ মাসেরও বেশি বলে মনে হয়না।সবকিছু যেন এখনো কেমন প্রাণবন্ত। তাইতো সেই ভালোবাসার সিক্ততা এখনো তার হৃদয় পরিপূর্ণ। কলেজ লাইফে গেলে রিলেশনশিপ করাটা একটা সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়, কারো কারো জন্য এই সাধারণ বিষয়টি সাধারণ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থেকে যায় আবার কেউ কেউ সাধারণ এর গন্ডি পেরিয়ে অসাধারণ ভালোবাসায় ডুব দেয়। তাইতো আজও দেখি ৭/৮ বছরের দীর্ঘ রিলেশন দিব্যি হাসিখুশি চলছে আবার অন্যদিকে ২/৩ মাসও বয়ে নেওয়া মুশকিল হয়ে যাচ্ছে কারো কারো পক্ষে।
রাহাতের দীর্ঘ ২ বছরের রিলেশন ইতি ঘটেছে কোনো প্রকার এক ঘৃণা ছাড়ায়। মান-অভিমান আর কিছু জীবনের বাস্তবতা তাদের আলাদা করে দিয়েছিল সেদিন কিন্তু সম্মান আর ভালোবাসা টুকু হয়তো আজো রয়ে গিয়েছে। তবে এগুলোর প্রতিফলন বোঝা যায়না। সে খুব মিশুক, হাসিখুশি, আকন্দ প্রিয় ও শান্ত স্বভাবের হওয়ায় কখনো তার বিচ্ছেদের অন্ধকার ঘরে সময় কাটাতে হয়নি। আচ্ছা লাইফে সত্যিকারের বন্ধু-বান্ধব থাকলে কি আর কোনো প্রকার মন-খারাপের মতো সময় নষ্ট করার মতো কাজ সম্ভব? হাহাহা,রাহাত জোরে উওর দিবে, "নায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া।"
বসন্তের হাওয়া চারদিকে বয়ে বেড়াচ্ছে। শীতল বাতাস সবাইকে মুগ্ধ করছে। রাহাত একটি বেঞ্চিতে বসে মনোরম পরিবেশ উপভোগ করা চেষ্টা করছে এবং হঠাৎ তার শরীরে এক শিহরণ উঠে গেল।হৃৎস্পন্দন টা খুব বেড়ে গেল। অরনী সামনে এসে জিজ্ঞেস করলো, "কেমন আছো?" নিজেকে একটু সামলে নিয়ে রাহাত নরম গলায় উওর দিল, "আলহামদুলিল্লাহ ভালো,তুমি কেমন আছো?" আরনী হেসে উওর দিলো,"ভালো, তবে তোমার এত ধীরে উওর দেওয়ার অভ্যাস টা এখনো যায়নি। " রাহাত একটি মুচকি হাসি ছাড়া তেমন কিছু বলতে পারেনি যেমনটি আগেও পারতো নাহ। অরনীর সাথে রাহাতের আবার এতদিন পর দেখা হবে সেটা সে কল্পনাও করতে পারেনি। হয়তো তাই অনেকটা অপ্রস্তুত অবস্থায় কি থেকে কি বলতে হবে সবকিছু কেমন গুলিয়ে ফেলছে। তাদের মাঝে এখন যে অনেক লম্বা দূরত্ব। রাহাতের এসব চিন্তাভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বরাবরের ন্যায় অরণি ই শুরু করলো ভালো-মন্দ জিজ্ঞাসা, কিছুক্ষণের মাঝে রাহাতও ফিরে গেলো সেই ৩ বছর আগের রাহাতে।
বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছটির নিচে গিয়ে বসল দুজন যেটি সেই তিন বছর আগেও তাদের ভালোবাসার সাক্ষী এবং আজও হয়তো তাদের দেখে চিনে ফেলেছে। মাঝের ১ ফুট দূরত্ব তাদের মান-অভিমান কে টেনে ধরে রাখতে পারেনি, উল্টো তাদের খোশগল্প আরো গভীর থেকে গভীর হচ্ছে। একসাথে ফুচকার দোকানে আবার সেই পুরনো দিনের মতো অতিরিক্ত ঝাল দিয়ে ফুচকা, তারপর আইসক্রিম নিয়ে রাস্তায় হাটতে থাকা সবকিছুই সেই ৩ বছর আগের প্রতিচ্ছবি মতো ঘটছে তবে আজ তাদের মাঝে এক ফুট দূরত্ব আর তখন হাতে হাত ছিল। অনেক কথা হলো, হলো অনেক হাসি ঠাট্টা। দিন শেষে আবার বিচ্ছেদের সময় ঘনিয়ে এসেছে। "ভালো থেকো,নিজের খেয়াল রেখো।" শেষ এই বাক্যটি দু-প্রান্ত থেকে ভেসে আসলো। আবার দুটি পথ দু'দিকে গেছে বেঁকে।
রাহাত অনেকটা হাসিমুখে ফিরে যাচ্ছে তার গন্তব্যে। সে জানে আর কখনো অরনীর সাথে দেখা হবে কিনা তার নিশ্চয়তা নেই কিন্তু সে এটাও জানে যে তাদের মাঝে মান-অভিমান এর চেয়ে তাদের ভালোবাসার প্রতি সম্মানটা এখনো বেশি।একসাথে থাকা মানেই ভালোবাসা নয়, কিছু কিছু ভালোবাসা এমনও হয়। চাওয়া পাওয়ার মোহ অতিক্রম করে অন্তহীন ভালোবাসা।