একটি অধঃপতনের চিএ।

Words
565
Reading
3 min
Listen
Play
6y

আজকে আমার নিজের দেখা একটা ঘটনা নিয়ে কথা বলবো। এটা বুঝতে পারবেন যে আমরা আমাদের নিজেদের কতটুকু অধঃপতন ঘটাতে পারি। শুনলে মনে হবে এরকম ও হতে পারে নাকি। শুরু করা যাকঃ

কিছুদিন আগে একটা ছেলে আর তার বাবা এসেছে মোবাইন কিনবে, আমি আমার চাচাতো ভাই এর দোকানে একটা কাজে গিয়েছিলাম তো বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম।তো ভিতরে ঢোকার পর ই বাবাটি তার ছেলেকে ধমকাচ্ছিল যে রিকশাওয়ালা কে মারতে গেলো কেনো। সে বাবার সাথেও তর্কাতর্কি করতেছিল খারাপভাবে যে সে বেশি টাকা চাইবে কেনো। ফোন নিল এইখানে কোনো সমস্যা হলো নাহ, তবে ছেলেটিকে আমি আগে থেকেই চিনি। তবে তার ভালো দিকটার জন্য নাহ তার খারাপ দিকটার জন্যই সে এলাকায় পরিচিত।সে কোনো বেকার বা বখাটেও নাহ,সে বাংলাদেশ টেলিভিশনে একটা সরকারি চাকরি তে আছে কিরকম পোস্ট তা আমার জানা নেই, ওর বাবাও এইখানেই চাকরি করেছে অনেক বছর ধরে দেখে আসছি।বিটিভি অফিস টা আমাদের এলাকাতেই সেই সুবাদে তারা এইখানে থাকেন ওই হিসেবে চিনা। ওকে খারাপভাবে চিনার ঘটনাটি ই আমি আজকে বলবো।

এই বছরের রোজার আগের রোজায়। ইফতারের পর মাগরিব এর নামাজ তার প্রায় আধাঘন্টা পরে, এলাকার পাশেই মানুষজনের চেচামেচি শুনা যাচ্ছে।কি হলো গেলাম দেখতে, গিয়ে দেখি এই ছেলেটা। ওকে একটা ছুরিসহ ধরেছে মানুষজন সে রিকশাওয়ালা কে নাকি ছিনতাই এর জন্য চেষ্টা করেছে। মানে ভাবা যায় বিষয়টা? যার একটা চাকরি আছে,বাবাও এইদিকে এত বছর বসবাস করছে এই এলাকায় তার ছেলে এরকম কিছ একটা করবে? ঘটনা জানা গেলো সে কিচেন নাইফ নিয়ে রিকশাওয়ালাকে ৫০০ টাকা দেওয়ার জন্য ধরেছে রাস্তার পাশে একটু ভিতরের দিকে। সবার কাছে এটা পরিষ্কার ছিল যে সে নেশা করবে তার জন্য এরকমটা করেছে। ইভেন ও যে ছিন্তাই করবে ওইরকম ছেলেও নাহ,সে নাকি বলতাছিল "তুমি আমাকে ৫০০টাকা দাও নাহলে মারবো।"
সবাই গেলো ওর বাসায় ওর বাবার কাছে, ওদের বাসা টা এলাকার পাশেই। ওনি সবার কাছে মাফ চেয়েছে। সে তো ভয়ে শেষ যে থানায় যায় কিনা কারণ তাহলে আর চাকরি টা কন্টিনিউ করতে পারবে নাহ। পরে বিষয়টা এইখানেই শেষ করে দেওয়া হলো, রিকশাওয়ালাকেও মেবি কিছু টাকা দিয়েছিল সেটা আমার খেয়াল নেই।

IMG_20200917_183717 2.jpg

আমি যে জিনিসটা বোঝাতে চাচ্ছি সেটা হলো,মানুষ মাঝে মাঝে এমনকিছু করে বসে যেটা তার সাথে মানায় নাহ। মানে এরকম একটা ছেলে এমন কিছু করবে ভাবা যায়? একটা বখাটে এইরকম করলে তা মানা যায়, তার থেকে এরকম কর্মকান্ড ঘটালে মানুষজন এতটা অবাক হবেনা যতটা না এইক্ষেত্রে হয়েছিল।সবার মূলে আসক্তি। তার হয়তো ওই মোমেন্টে ওই টাকাটা প্রয়োজন ছিল তাই মানিসিক বুদ্ধি লোপ পেয়ে যাওয়ায় এরকম করেছে। ওর এই একটা কাজে ওর বাবার সম্মান টা নষ্ট হলো,ওর একটা বাজে ইমেজ সৃষ্টি হলো। হতে পারে তাদের পরিবার টি এইখানের স্থানীয় না,কয়দিন পর অন্য কোথাও চলে যাবে বাট ওনি চাকরির সুবাধে এইখানে এতদিন থাকলো একটি পরিচিতি তো ছিল আশে-পাশে সেটা তো গেলো। বিষয়টা এইরকম যে কোনো একটা বখাটে এইরকম করলে মানা যায়, কিন্তু ওইরকম একটা পরিবার থেকে এসে,যার হাতে চাকরিও আছে সে কিভাবে এইরকম কাজ করে এইটাই আমাদের অবাক লাগতেছিল। সে নেশায় পরে করেছে নাকি নেশা করার জন্য করেছে সেটা সে ই জানে।ওকে ওইদিন দেখে ঘটনাটি মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো।
তার হয়তো আমাকে মনে নেই যে তখন আমি ছিলাম কিনা বাট আমার কিন্তু ঠিকি মনে আছে তার সে কাজটির কথা। আমাদের সবার মাঝে ওর প্রতি যে খারাপ ইমেজটি তৈরি হয়েছে সেটি আদো বদলানো যাবেনা।

ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও নাহ।

এই বিখ্যাত কথাটি সত্যি। আমার প্রায় সময়ই কোনো কিছুর বশবর্তী হয়ে এমন কিছু কাজ করে ফেলি যেটি পরে অনুতাপ করেও পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।আবেগ,ভালোবাসা, টাকা-পয়সা, অহংকার, নেশা এই জিনিসগুলো প্রায়ই আমাদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে যার ফলে আমরা অনাকাঙ্ক্ষিত কাজগুলো করে ফেলি যা একদমই কাম্য নয়।আমাদের উচিত এগুলোকে আমাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা যাতে পরবর্তীতে ক্ষতির সম্মুখীন না হতে হয়।

একটি অধঃপতনের চিএ। | Ecency