ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো।

Words
636
Reading
3 min
Listen
Play
6y

“ ছোট ছোট বালুকণা, বিন্দু বিন্দু জল,
গড়ে তোলে মহাদেশ, সাগর অতল। ”

বাংলা ব্যাকরণ বইয়ের আমাদের বহুল পরিচিত এই সারমর্ম। কে না পড়েছে বা কে না শিখেছে? এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর । কিন্তু কয়জন এইটার মূল ভাবার্থ টা নিজের মধ্যে ধারণ করতে পেরেছি? কয়ছন পেরেছি এর শিক্ষা টা আমাদের জীবনে প্রয়োগ করতে? হাতে গুনা কয়েকজন হয়তো। যারা পেরেছি তারাই সফলতার পথে বা ভালো একটা অবস্থানে।

পাপ অথবা পূণ্যে ছোট কিংবা বড় যাই করো না কেন তার ফিরতি ব্যবস্থা আছে। ভালো কাজের জন্য যেমন সওয়াব বা ভালো কিছু পাওয়া যায় তেমনি খারাপ এর জন্যও তেমনি পাপের অংশীদার হতে হয়। আমাদের ছোট ছোট ভুলভ্রান্তি গুলো একদিন প্রকট আকার ধারণ করে আমাদের সামনে হাজির হবে।তখন আর শুধরানোর সময় থাকবে নাহ। সময় থাকতে আমাদের ছোট ছোট জিনিষগুলো কে মূল্য দেওয়া উচিত, বিবেচনায় রাখা উচিত, তাদের প্রতি সতর্ক থাকা উচিত। বাংলায় আমাদের প্রায় সময় মা-খালা রা একটা কথা বলে থাকেন-

"লাই দিয়ে দিয়ে মাথায় তুলে ফেলছো,মেরে এখন সেই ভূত নামাতে হবে।"

এইখানে লাই বলতে ছোট ছোট ভুলভ্রান্তি গুলোকে বোঝানো হয়েছে যা প্রায় সময় এগ্রাহ্য করে যায় এবং পরবর্তীতে বড় কিছু করে ফেলি তারপর ই শুনতে হয় এরুপ কথা। হাহাহা, আমিও শুনেছি এগুলো।

IMG_20201004_160148 1.jpg

হাইভে আসার পর একটা জিনিস বুঝতে পেরেছি। কোনো একটা কিছুতে সবাই যে বড় বড় আবদান রাখবে তা কিন্তু নয়। কিন্তু ছোট ছোট অবদান গুলোও কিন্তু সেই বড় গুলোকে ছাপিয়ে যেতে পারে। এই মনের ধরুন আমরা লিখে যাচ্ছি, ভালো-খারাপ সব মিলিয়েই লিখছি তাইতো এইখানে কনটেন্ট রয়েছে। সবাইতো আর কিউরেটর হয়ে গেলে হবেনা,কিউরেট করার জন্য আমাদের মতো ছোট ছোট অথোর ও প্রয়োজন যাদের নিয়মত অবদানে হাইভ এগিয়ে যাবে। আমরা লিখছি,ভুলভ্রান্তি হচ্ছে সেগুলোকে যদি ছোট বলে অগ্রাহ্য করে যায় তাহলে একটা সময় এগুলোই প্রকট আকার ধারণ করে আমাদের ক্ষতির কারন হয়ে দাড়াবে। সময় থাকতে ছোট ছোট বিষয়গুলোকেও গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।

গত সপ্তাহে আমাদের ম্যাগাজিন এর এডিটর অংশে আমাদের হাইভে ইংগেইজমেন্ট সর্ম্পকে কিছু সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তার আগে থেকেই এই জিনিসটা পালন করতে চেষ্টা করেছি। তো সেটা পালন করতে গিয়ে একটা জিনিস উপলব্ধি করলাম সেটা হলো আমি অন্য একজনের পোস্টে যে সময়টা নিয়ে পড়ে তার একটা মতামত দিলাম সেও অন্য একটা সময় আমার পোস্ট চোখে পড়লে পড়ে দেখবে এটলিস্ট, তার সাথে যদি একটা মন্তব্য ও পাওয়া যায় তাহলে খুব খুশি ই অনুভব হয়। একটা বিষয়কি মাঝে মাঝে পোস্টে রিওয়ার্ড পাওয়া সত্ত্বেও যদি তার সাথে কিছু মানুষের মতামত, মন্তব্য,উপদেশ বা সাড়া পাওয়া যায় তাহলে অনেক ভালো অনুভূতি আসে। আপনি তখন বুঝতে পারবেন আপনি কোনদিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

আর এই বিষয়টার জন্য তো বেশি কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন নেয়। নিয়মিত ৫/৬ টা লিখা তো পড়াই যায়, তাইনা? তো আপনি অল্প কিছু মানুষের লিখা পড়ুন তাতে তাদের সাথে মতামত আদান-প্রদান করার চেষ্টা করুন সেও কিন্তু তা মনে রাখবে।পরবর্তীতে সেও কিন্তু আপনার অনুপ্রেরণার কারণ হয়ে দাড়াবে৷ তো প্রতিদিন ক্ষুদ্র একটা সময় কিন্তু দিতেই পারি এই বিষয়ে যা পরবর্তীতে ভালো কিছু বয়ে আনবে। ওহ! আজকের আমাদের বিশেষ ম্যাগাজিনেও এই এনগেইজমেন্ট সম্পর্কে গ্যালেনকেপির খুব ভালো একটি লিখাও রয়েছে যেটি বুঝতে সাহায্য করবে কিভাবে আমাদের এই ছোট ছোট পদক্ষেপ গুলো বিশাল কিছু বয়ে আনবে। আরেকটি কথা, সাকিব ভাই কিছুদিন আগে বলেছিল-

Nothing on hive goes unrewarded.

অর্থাৎ ওইযে আপনার ছোট ছোট অবদান, মানে অন্যদের সাথে পরিচিত হওয়ার যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাগুলো সেগুলো প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে আমাদেরই উপকারে আসবে। আজকে যেসব ছোট ইউজার দের বোটিং পাওয়ার নেই বলে আমরা অগ্রাহ্য করে তাদের সাথে ইন্টারেক্ট করার চেষ্টা করিনা একটা সময় আসবে যখন তাদেরও ছোট ছোট পাওয়ার জমা হবে এরুপ অনেক মিলে একটা ভালো পাওয়ার তৈরি হবে। এখন আপনি হাইভে ভালো সর্ম্পকের প্রতিষ্টার খাতিরেই দেখেন কিংবা ভালো একটা রিউয়ার্ডের চিন্তাই করুন এরুপ ছোট ছোট পদক্ষেপের বিকল্প নেই।


অবশেষে এটাই বলবো ছোট ছোট বিষয়গুলোকে অগ্রাহ্য না করে তাদের গুরুত্ব দিতে শিখি। ভালো-মন্দ সকল কিছুতেই এগুলো বড় ভূমিকা রাখে। মন্দগুলোকে যেমন সময় থাকতে বর্জন করতে হবে তেমনি সময় ফুরানোর পূর্বেই ভালো টাকে আগলে রেখে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আশা করি সবাই লিখাটি বুঝতে পেরেছেন আমি কি বুঝাতে চেয়েছি। কোনো প্রকার মন্তব্য থাকলে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন। সময় নিয়ে লিখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো। | Ecency