সময় থাকতে বুঝতে শিখতে হবে।

Words
524
Reading
3 min
Listen
Play
6y

আজকে পুরো বিশ হাজার টাকার শপিং করলাম।বন্ধুদের নিয়ে পিজ্জাবার্গ এ বসে খেলাম।আহ! ভালো একটা দিন গেল। দুইদিন পর সেন্টমার্টিন ট্যুর বলে কথা।ভালোভাবে একটা শপিং না করলে কি হবে। ফেসবুক,ইন্সটাগ্রামে ভ্রমণের ছবিগুলো আপলোড দিতে হবে যে।আমার বাবার প্রথম ছেলে আমি আর আছে দুটি ছোট বোন। বন্ধুমহলে আমার লেভেল ই অন্যরকম তা তো বজায় রাখতে হবেই। দুদিন পর ছুটে গেলাম কঙ্খিত ভ্রমনের টানে।বন্ধু-বান্ধবের সাথে মজ-মাস্তিতে ভরপুর কিছু দিন কাটলো।টাকার হিসেব নেই,যেভাবে পেরেছি খরচ করেছি। সবার সাথে আনন্দঘন মুহূর্ত কাটাব এতে কি টাকার হিসেব করলে হবে?

দিনকাল ভালোয় যাচ্ছে।এইচএসসি দেওয়ার পর বাইক কিনে দিবে তার ও শর্ত দেওয়া হয়ে গেছে শুধু এক্সামের শেষ হওয়ার অপেক্ষা। কয়েকমাস পর তাও শেষ, আশার বাইকখানাও পেয়ে গেলাম।সবচেয়ে চাহিদা সম্পন্ন বাইকটা আমার নিজের অধিনে এখন।বন্ধু-মহলে ভাব টায় এখন অন্যরকম। দুদিন পর পর এখানে সেখানে ট্যুর হচ্ছে।খুব ভালো যাচ্ছে সময়গুলো। বাবা আছে মাথার উপর টাকা-পয়সার চিন্তা কিসের।উনি ঠিকাদার, দুদিন পর পর বড় বড় প্রজেক্টের কাজ করেন। আর আমাদের জীবন ভালোই যাচ্ছে।কোনো কিছুর ঘাটতি নেই।

কলেজ পেরিয়ে ভার্সিটি, নামিদামি একটি ভার্সিটি তে পড়ছি।খুব উচ্ছাস-উল্লাসে দিনাতিপাত করছি।কিন্তু কি জানি কি হয়ে গেলো।বাবা হঠাৎ ই একটি এক্সিডেন্টে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আমাদের একা করে একদম। জীবনের আসল খেলা এখনো শুরু হয়নি।যে জীবনে আমি আব্যস্ত তা বজায় রাখতে গিয়ে পরিবার একসময় বাজেভাবে আর্থিক সংকটে পড়ে গেল।পরিবারের হাল ধরতে হবে বুঝে গেলাম।খুজে বের করলাম একটি ছোট চাকরি।বুঝতে পারলাম জীবনের আসল যাএা।

থেমে গেলে হবেনা,যেতে হবে বহুদূর

পরিবারের হাল ধরতে গিয়ে জীবনের আসল সংগ্রাম বুঝতে পারলাম।সারাজীবন শুধু বাবার টাকা উড়িয়ে গেলাম কখনো উপলব্দি করি নাই কিছু। তখনকার সেই বন্ধুগুলো ও এখন আর আগের মতো নেই। কারণ আমি যে আর আগের আমি নেই।এখন আর কোথাও ভ্রমণে গেলে সিংহভাগ খরচ করার মতো সামর্থ্য আমার নেই।এমনকি তাদের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মতো ক্ষমতা ও আমার আছে কিনা এ বিষয়েও ভেবে দেখতে হবে। তাই বলে কি তারা আমার সাথে এতটাই দুরুত্ব এনে ফেলবে।যদিও আমিও একসময় এগুলো করেছি,বন্ধু-বান্ধব এর মাঝে ভেদাভেদ করেছি আজ তা উপলব্দি করতে পারছি।

আজ ভাবছি একলা বসে।জীবনের খেলা বড়ই অদ্ভুত। একটা জিনিস খুব ভালো ভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি যে-জীবনের যা সখ/আল্লাদ তা বাবার টাকা দিয়েই পূরণ করার সম্বব।যখন নিজে উপার্জনে নেমেছি,নিজের মৌলিক চাহিদা পূরন করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।সময় থাকতে তা বুঝতে পারিনি। তখন নিজেকে বাস্তব জীবনের সাথে খাপ-খাইয়ে নিলে হইতো আজ জীবনের এরুপ বিরূপ প্রভাব দেখতে হতো নাহ।গল্পটা হয়তো আজ অন্যভাবে লিখা হতো।শেষ আংশে হয়তো সফলতার কিছু লিখতে পারতাম,হয়তো কিছু আনন্দঘন মুহুর্তের বর্ণনায় উচ্ছাস প্রকাশ করতাম।


গল্পটা বস্তব জীবন থেকে উপলব্ধি করে লিখেছি।বর্তমানে আমরা বাবার অঢেল টাকায় বিলাসিতায় এতটায় আসক্ত যে ভবিষ্যৎ আমাদের ও যে একটা দায়িত্ব আছে তা ভাবতেই চায় না।জীবন কোনো ফুলশয্যা নয়,সবসময় এটি ভালো দিকে প্রভাবিত হয়না।ভালো-মন্দ মিলিয়েই জীবনের গতিপথ। আজকে আপনার অঢেল টাকা আছে বলে এত এত সুখ,এত এত আনন্দ পাচ্ছেন কাল যাদি আপনার টাকা না থাকে এগুলো থাকবে তো? নাকি সুসময়ের বন্ধুগুলো বিলীন হয়ে যাবে সময়ের কাটাতারে। বাস্তব জীবন খুবই কঠিন।অন্যের উপর ভর দিয়ে চলা খুব ই সহজ ও আরামদায়ক। নিজের পায়ে চলতে গেলে ধরনীর আসল রুপ উপলব্ধি করা যায়।উপলব্দি হয় কি তার আসল নিয়ম।সুতরাং সময় থাকতে জীবনের নিয়ম বুঝতে শিখুন,ভবিষ্যতের হিসাব টা মিলিয়ে নিন।

লিখতে ভালোবাসি তাই লিখে চলছি।ভালো-মন্দ বিচারের দায়িত্ব আপনাদের।আশা করি জীবন সর্ম্পকে আমার লেখা এই গল্পটির মাধ্যমে কথাগুলোর সাথে আপনিও একমত পোষন করবেন।ভিন্ন মত থাকাটাও স্বাভাবিক। নিচে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন আপনার অনুভূতি অথবা আমায় নিয়ে কোনো পরামর্শ। খুব খুশি হবো।ধন্যবাদ,সময় নিয়ে লিখাটি পড়ার জন্য।

সময় থাকতে বুঝতে শিখতে হবে। | Ecency