আমার বাংলা ব্লগ এর প্রিয় সদস্য ও আমার প্রিয় বন্ধুগণ সবাই আশা করি ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আজ আমি আপনাদের সামনে আবার উপস্থিত হয়েছি অন্য একটি রেসিপি নিয়ে।
চিংড়ি মাছ, আমার খুবই প্রিয় খাবার। সব মাছের মধ্যে চিংড়ি মাছই আমার সবচেয়ে বেশি পছন্দের। এই মাছ যখনই নিয়ে আসা হয় তখনই আমি এর একটি বিশেষ রেসিপি তৈরি করি। এই রেসিপিটি রান্না করতেও আমার খুব ভালো লাগে। উপকরণ যদি সব থাকে তাহলে এটি তৈরি করা খুবই সহজ।
আজকের এই সময়ে আমি আপনাদের সাথে আমার তৈরি করা এই বিশেষ এবং মজাদার রেসিপিটি শেয়ার করার জন্য এলাম। এটি হলো চিংড়ির মালাইকারী।
চিংড়ির মালাইকারী তৈরির জন্য আমার যা যা উপকরণ লেগেছে তা নিম্নে উল্লেখ করে দিলাম।
উপকরণ
পরিমাণ
চিংড়ি
৬ টি
চিনি
আধা চা চামচ
বাদাম
৫০ গ্রাম
লবণ
২ চা চামচ
তেল
২ টেবিল চামচ
তরল দুধ
১ কাপ
পেয়াজকুচি
আধা কাপ
পেয়াজ বাটা
২ টেবিল চামচ
কাচামরিচ বাটা
১ চা চামচ
হলুদ গুড়ো
১ চা চামচ
মরিচ গুড়ো
২ চা চামচ
সরিষা বাটা
দেড় চা চামচ
রসুন বাটা
২ চা চামচ
পানি
দেড় কাপ
রান্নার পূর্বপ্রস্তুতিঃ
একটি বাটিতে আধা কাপ পরিমাণ পানি দিয়ে এরমধ্যে বাদামগুলো ভিজিয়ে রাখলাম ৫-৬ মিনিটের জন্য। এরপরে বাদামের খোসা ছাড়িয়ে নিয়ে এগুলো বেটে নিলাম।
২ টি পেয়াজ কুচি করে কেটে বেটে নিলাম। আর মাঝারি আকারের একটি পেয়াজ কুচি করে কেটে নিলাম।
চিংড়ি মাছগুলো ভালোভাবে ধুয়ে একটি প্লেটে নিয়ে নিলাম। এরমধ্যে আধা চা চামচ হলুদ গুড়ো, ১ চা চামচ লবণ দিয়ে ভালোভাবে মেখে ম্যারিনেট করে কিছুক্ষণ এর জন্য রেখে দিলাম।
রন্ধন প্রণালীঃ
একটি কড়াইয়ে তেল দিয়ে দিলাম। তেল গরম হয়ে এলে এরমধ্যে ম্যারিনেট করে রাখা চিংড়ি মাছ দিয়ে দিলাম। মাঝারি আঁচে ৩-৪ মিনিট ভেজে তুলে নিয়ে।
এরপরে এই তেলের মধ্যেই পেয়াজকুচি দিয়ে দিলাম। হালকা বাদামী বর্ণের হয়ে এলে একে একে রসুন বাটা, সরিষা বাটা, পেয়াজবাটা, কাচামরিচ বাটা দিয়ে নাড়তে থাকলাম। এগুলোকে নাড়তে নাড়তে ভালোভাবে মিশিয়ে নিলাম।
এই মসলাগুলো মেশানোর পর হলুদ গুড়ো, মরিচগুড়ো, লবণ দিয়ে দিলাম। আবারও ভালোভাবে নেড়ে সবগুলো মিশিয়ে রান্না করলাম।
একটু পর বাদাম বাটা দিয়ে দিলাম। এগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে দেয়ার পর এরমধ্যে ১ কাপ পরিমাণ তরল দুধ দিয়ে দিলাম। তারপর আধা চা চামচ চিনিও দিয়ে দিলাম। এইবার ঘন মিশ্রণটিকে বারবার নাড়তে থাকলাম যাতে লেগে না যায়।
ভেজে রাখা চিংড়ি মাছ দিয়ে আবারও কষিয়ে নিলাম প্রায় ২-৩ মিনিট। এরপরে যখন তেল হালকা উপরে উঠে আসে তখন ১ কাপ পরিমাণ পানি দিয়ে ৫ মিনিটের মত মাঝারি আঁচে রান্না করলাম।
চিংড়ির ঝোল যখন একেবারে ঘন হয়ে আসে তখন চুলা থেকে সাথে সাথেই নামিয়ে নিলাম।
এখন এটি খাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে গেল।একটি প্লেটে সাজিয়ে নিয়ে পরিবেশন করে নিলাম। এটির মধ্যে সবচেয়ে মজার হলো গ্রেভি অর্থাৎ ঘন ঝোল। চিংড়ি সাথে বাটা মসলাগুলোর ফ্লেভার এক হয়ে এক কথায় অসাধারণ খেতে লাগে।
আশা করি আমার তৈরি করা এই রেসিপিটি সবার কাছেই ভালো লাগবে। যারা এর স্বাদ নিতে চান, তারা ঝটপট বানিয়ে ফেলতে পারেন।