Ashaa Othoba Nirashaa: [ আমাদের অবশ্যই সীমাবদ্ধ নিরাশা গ্রহণ করতে হবে, তবে অসীম আশা কখনই হারানো যাবে না ]

Words
638
Reading
3 min
Listen
Play
6y
প্রানীর জন্মই হয় বেঁচে থাকার আশায়। শিশুমন কিছু না বুঝলেও খাদ্যের আশা করে । পশু পাখিরাও এর ব্যাতিক্রম নয় । আচ্ছা কোন প্রানীর বেচে থাকার আশা নেই ? পিঁপড়েকে পানিতে ছেরে দিলেও সাতরে পার হবার চেস্টা করে বাচার আশায় । হয়তো অন্য প্রানীদের আশা শুধুমাত্র খাওয়া এবং বাচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ । কিন্তু মানুষের আশার শুরু থাকলেও শেষ নেই। প্রতিটি মানুষের আশা ভিন্ন হয় ।আমরা আমাদের জীবনে যা যা করি সব কিছুর পিছনে কোন না কোন আশা অবশ্যই থাকে । আশা পূরনের জন্য আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রতিনিয়ত প্রার্থনা করি । জীবনে কারই সকল আশা পুরন হয় না । কারও কারও আশা পুরন না হলে শুরু হয় নিরাশার । প্রত্যেকের জীবনেই সামান্য হলেও হতাশা থাকে । বেশিরভাগ মানুষই আশা নিরাশার মাঝেই সারাজীবন পার করে দেয় । কিন্তু কেউ কেউ নিরাশার অন্ধকারে ডুবে যায় ।

9826af2c738ba326efae4faa04097ed9.jpg
source of this image

অধিক আশা পুরন না হলে সৃষ্টিকর্তার উপরেও আমাদের অভিমান হয় । তখন মনে হয় অন্যদের আশা পুরন হচ্ছে কিন্তু আমার কেন হচ্ছে না । এক পর্যায়ে কারো নিরাশা এতটা বেড়ে যায় যে, তার বেচে থাকার আশাও শেষ হয়ে যায় । তাই আশা অনেকের হতাশা বা আত্নহত্যার কারন হয়েও দারায় । জীবনে যাই ঘটে যাক , কখনো আশা ছেড়ে দেয়া উচিৎ না । হতাশা শুধুমাত্র মানুষকে দূর্বল করে দেয় । কোন আশা পুরন না হলে নতুন করে আশা বুনতে শুরু করা যায় কেননা আমাদের নতুন নতুন আশার শেষ নেই । কিন্তু হতাশার শেষ আছে সেটা আমাদেরকে মৃত্যু পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার ক্ষমতা রাখে । আশা পূরনের জন্য অনেকে দুষ্কর্ম করে । হয়তো কিছু মুহূর্তের জন্য তাদের সেই আশা পুরন হয় । কিন্তু জীবনের একটা মুহূর্তে গিয়ে তাদের সেই দুষ্কর্ম তাদের হতাশার কারণ হয়ে দাড়ায় । প্রত্যেকের আশার সীমাবদ্ধতা থাকে। যেমন একজন ভিক্ষুকের বিলাসিতার আশা করা বৃথা । তারপরও যদি সে বিলাসিতার আশা করে সারাজীবন ,সেটা তার জীবনে চরম হতাশার কারণ হয়ে দাড়াবে । তাই বলে আশা ছেড়ে দেয়া উচিৎ নয়। আশা থাকলেই জীবনে অনেকটা উন্নতি করা সম্ভব। কোন শিক্ষার্থী যদি প্রতিষ্ঠিত হবার আশা না করে তবে কোনদিন তা হতে পারবে না। কিন্তু আশা সর্বদা নিজস্ব হয় না

tumblr_o3pmseZ5AC1u5lqbno1_400.gif
source of this image

আমরা অনেক সময় নিজের আশা ছেড়ে দিয়ে পিতা মাতা বা আমাদের কাছের মানুষের আশা পূরনের চেস্টা করি।যেমন আমার ইচ্ছে ছিল দূরে গিয়ে পড়ালেখা করব , সব সুন্দর যায়গা ঘুরে দেখব , নিজের ইচ্ছেমতো একটা বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করব , সংস্কৃতি চর্চা করবো । কিন্তু আমার বাবা মা সেটা চান নি। তারা চেয়েছিলেন আমি তাদের কাছেই থাকি এবং শুধু পড়াশোনা করি। তাইবলে আমি হতাশ হইনি , আমি তাদের আশা পূরনের চেস্টাই করে যাচ্ছি। এটা ভেবে যে হয়তো একদিন আমারও কিছু আশা অবশ্যই পূরণ হবে । প্রতিটি পিতা মাতাই সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ আশা করেন।আমাদের এমন কোন কাজ করা উচিৎ নয় যা আমাদের পিতামাতার হতাশার কারণ হয়ে যায় । একজন মানুষ জীবনে সফল হতে শুরু করলে তার সফলতার আশা বাড়তে থাকে , কিন্তু কোন কারণে যদি তিনি বিফল হতে শুরু করেন তখন তাকে হতাশা ঘিরে ফেলে।এই হতাশা থেকে যদি তিনি বের হবার সর্বোচ্চ চেস্টা না করেন ,তাহলে তিনি আর কখনোই সফল হতে পারবেন না । আশা আর নিরাশা আমাদের জীবনে রাত দিনের মতো একটি অংশ । দিনের আলো যদি আশা হয় আর রাতের অন্ধকার যদি নিরাশা হয় তাহলে কোনটাকেই আটকে রাখা সম্ভব না,একটার পর একটা অবশ্যই আসবে।মানুষ যখন নিরাশ হয় তখন তাকে রাগ,দুঃখ, হিংসা, ঘৃণা সব ঘিরে ফেলে। তখন অনেকেই অস্থির মস্তিষ্কে বর্তমান,অতীত, ভবিষ্যতের চিন্তা না করেই জীবনের সবচেয়ে ভুল সিদ্ধান্ত গুলো নিয়ে ফেলে।তাই আশা আমাদেরকে বাচতে শিখায় আর নিরাশা শিখায় অন্ধকারে ডুবতে।

তাই হয়তো কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার "বিশ্বাস ও আশা" কবিতায় লিখেছিলেন যে,

বিশ্বাস আর আশা যার নাই, যেয়ো না তাহার কাছে
নড়াচড়া করে, তবুও সে মড়া, জ্যান্তে সে মরিয়াছে।
শয়তান তারে শেষ করিয়াছে, ইমান লয়েছে কেড়ে,
পরাণ গিয়াছে মৃত্যুপুরীতে ভয়ে তার দেহ ছেড়ে।


থাকুক অভাব দারিদ্র্য ঋণ রোগ শোক লাঞ্ছনা,
যুদ্ধ না ক’রে তাহাদের সাথে নিরাশায় মরিও না।
ভিতরে শত্রু ভয়ের ভ্রান্তি মিথ্যা ও অহেতুক
নিরাশায় হয় পরাজয় যার তাহার নিত্য দুখ।

source of this poetry



More information about me
facebook
twitter


Ashaa Othoba Nirashaa: [ আমাদের অবশ্যই সীমাবদ্ধ নিরাশা গ্রহণ করতে ... | Ecency