Source: Wikipedia
বছর কুড়ি আগে, কোনো এক ঈদ-এ, আমি শ'চারেক টাকা সালামি পেয়েছিলাম। বহু পথ ঘুরে, বহু কসরত করে এই টাকা আমি যোগাড় করি। এই টাকা যোগাড় করতে গিয়ে আমাকে কমপক্ষে ৫০টা বাসায় গিয়ে অন্তত একশ জনকে সালাম করতে হয়েছে। ৫/১০ টাকার বেশি তখন সালামি পাওয়া যেতো না। ক'টা টাকার জন্য সারাদিন রোদে রোদে ঘুরে বেড়াতাম ভিক্ষুকের মতো। সেইবার ইচ্ছা ছিলো একটা ব্যাডমিন্টন র্যাকেট (ম্যাক্স তখন ১৫০টাকা ছিলো) কিনবো আর বাকি টাকা দিয়ে কিছুদিন খুব ফুর্তি করে পপি আর শাকিব খানের সিনেমা দেখবো সিনেমাহলে গিয়ে। পপি তখন আমাদের সকলের হৃদয়ের রাণী।
বিকেলে আমার 'বন্ধু' আলম তার দলবল নিয়ে এসে আমাকে মাঠের এক কোণে টাকা গুণতে দেখে কাছে দাঁড়িয়ে অমায়িক সুরে টাকা কটা চাইলো। সে চাইলে কেড়ে নিতে পারতো। তা না করে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আমার টাকাগুলো, আমার সারাদিনের সঞ্চয় পকেটস্থ করে তার দলবল নিয়ে হাসতে হাসতে চলে গেলো। ওহ্! তার আগে একটা 'পাঁচ' টাকার কয়েন ছুড়ে দিলো আমার দিকে! আমিও সেটা কুড়িয়ে নিয়ে দাঁত কেলিয়ে বললাম, "ধন্যবাদ, বন্ধু"।
ওরা চলে গেলে পরে মাঠের বাকি ছেলেরা এসে আমাকে তাদের দুঃখের কথা শোনাতে লাগলো। কেউ কেউ আলমের মহানুভবতার কথাও বলতে লাগলো যে, সে সব নেয় না, অন্তত পাঁচটা টাকা দিয়ে যায়। পাঁচ টাকা তখন নিতান্তই কম ছিলো না। আমরা সকলেই তখন তা নিয়ে খুব উচ্ছ্বসিত। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার দেখলাম ব্যাপারটা মেনে নিতে পারছে না। আমরা তাদেরকে বোঝাতে লাগলাম, আরে ও তো সব নেয় নাই। সব নিলে কী করতি? তারা প্রতিবাদ করতে লাগলো। রাস্তায় নেমে আলমের নামে মিছিল করতে শুরু করলো, আর আমি মনে মনে প্রমাদ গুনতে লাগলাম কখন জানি আলমের ঠেঙাড়েরা এসে ওদেরকে ধোলাই দেয়। যা ভাবলাম তাই হলো, ঠেঙাড়েরা এসে ওদেরকে আচ্ছামত ধোলাই দিলো আর আমরা সেখান থেকে উর্ধশ্বাসে দিলাম ভোঁ দৌড়। এভাবেই আলম প্রতি বছর আমাদের ঈদ কেড়ে নিতো, আমাদের ঈদ ছিলো ওর কাছে বন্ধক। আলমকে আজও মনে পড়ে। ও এখন ভালো নেই, দূর্ঘটনায় ওর দুটো হাত কবজি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
ইহা একখানা স্মৃতিচারণমূলক গল্প। অতীত, বর্তমান না ভবিষ্যতের কোনো ঘটনার সাথে মিলে গেলে তা কাকতালমাত্র।