কুয়াশার ঘন চাদর ছিদ্র করে অনেক কষ্টে দুপুর দুইটার দিকে সূর্যি মামা উঁকি দিয়েছে।সে যাই হোক এক সপ্তাহ সূর্যি মামার সাথে দেখা না করতে পারলেও আমার দুঃখ নেই। কারণ শীত আমার প্রিয় ঋতু।শীত আমার প্রিয় হওয়ার প্রধান কারণ আমি গরমকে খুব অপছন্দ করি।একটু অতিরিক্ত গরম লাগলে আমার সর্দি লেগে যায়, মাথা ব্যথা হয় আরও কত কি।যতই আরামদায়ক কাপড় পরিধান করি না কেনো অল্প হলেও গরম সহ্য করতেই হবে।এদিকে শীত ভালোভাবে গরম কাপড় পরে চলা ফেরা কি যে শান্তি। শীতের রাতে কম্বল চাপা দিয়ে ঘুমানোর যে মজা তা কি আর লিখে বর্ণনা করা সম্ভব। সে যাইহোক গরম আর শীতের কথা আসলে কিছু কথা মনে পড়ে যায়।সেসব আজ আমার লিখার উপাদেয়।
আমার এক ফুফাতো বোন তিনি আমাদের থেকে অনেক বড়।মানে ওনি যখন মাস্টার্স এ পড়েন তখন আমার বয়স চার কি পাঁচ। তখন তিনি আমাদের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতেন।তখন আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ ছিলো না।আসলে বিদ্যুৎ ছিলো না বলার চেয়ে ভালো,এলাকার মানুষ বিদ্যুৎ কি তাই জানতো না।এক গরমের রাতে আমরা সবাই আমাদের উঠোনে মাদুর পেতে বসে শুয়েছিলাম।আম্মা, দাদু পাশে বসে ছিলো।সেদিন চাঁদনি রাত ছিলো। হাত পাখা দিয়ে বাতাস করতে হবে। এখন আমরা ভাইবোনেরা শুয়ে আছি আমার ফুফাতো বোন সবার বড়ো।
সে বাতাস করবে না। আমাদের দিয়ে করাবে। সবাই পঞ্চাশ বার করে বাতাস করবে।কিন্তু সে সবার শেষে করবে।সবার বাতাস করা যখন শেষ তখন তার পালা চলে আসলো। এখন পাখাটা ধরে সে আস্তে আস্তে বাতাস করছে আর বলতেছে "এসব পাখা দিয়ে বাতাস করা আমার ভালো লাগে না।এমন একটা মেশিন কেউ আবিষ্কার করতে পারেনা, যা উপরে রেখে সুইচ দিলে নিজে নিজে ঘুরবে আর বাতাস হবে আমরা বসে বসে আরাম করবো।"
এখন যখন বড়ো হলাম তখন ফ্যান দেখলেই মনে হয়। যদিও আপা ফ্যান চিনতো না তবুও মনে মনে ফ্যান কল্পনা করতো।এখন আপার সাথে দেখা হয়না বললেই চলে তবুও যদি কোনদিন হয় আমি আপাকে বলি আপা ঘুরানো মেশিন কি চালাবো নাকি।ও খুব হাসে।
ছোট বেলায় শীতের দিন গোসল করতে খুব ভয় পেতাম।আম্মা আমাদের সব ভাইবোনদের হাত মোজা পা মোজা টুপি সব পরিয়ে রাখতেন।রাতের বেলা লেপের নিচে আম্মার দুই পায়ের মধ্যে কাপড়ের মধ্যে পা রেখে ঘুমাতাম।আম্মা কাঁথা, লেপ রোদে গরম হতে দিতো।বিকাল বেলা আমরা সেই লেপ বা কাঁথায় গড়াগড়ি করতাম।আম্মা খুব বকা দিতো দেখতে পেলে,কারণ লেপ ময়লা হয়ে যেতো।
এখন শহরে থাকি পৌষ,মাঘ মাস চলে যায় কোনো শীতই অনুভূত হয় না।শৈত্যপ্রবাহ চলা কালে সর্বোচ্চ সপ্তাহখানেক একটু শীত অনুভূত হয়।
তাই ছোট বেলার শীতকে খুব মনে পড়ে।