আমার বড় বোনের মেয়ে আর্দ্র।বর্তমানে ওর বয়স ১৪ বছর।ও খুব শান্ত, ভদ্র। আমাদের ভাই বোনদের প্রথম সন্তান ও। ওর আগমনের বার্তা আমাদের পরিবারের কাছে অনেক আনন্দের ছিলো। আমি তখন ওদের বাসায় থাকতাম। আমাদের পাশের বাসায় এক হিন্দু মহিলা ছিলো। হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা মনে হয় একটু বেশিই সংস্কার মেনে চলে।আমাদের যেহেতু মুরুব্বি কেউ ছিলো না ওনি প্রতিদিন বিভিন্ন নিয়মের কথা বলতেন আমরাও এগুলো মেনে চলার চেষ্টা করতাম।
তার মধ্যে সবচেয়ে মজাদার একটা বিষয় হচ্ছে ওর আম্মুর গর্ভকালীন সময়ে দুইবার চন্দ্র গ্রহণ হয়েছিলো।ওনি পঞ্জিকা দেখে আগে থেকে সময় বলে দিয়েছেন। গ্রহনের সময় বসা যাবে না খাওয়া যাবে না।শুধু হাঁটতে হবে।আর হাতের তালা আর পায়ের তালায় হলুদ মাখাতে হবে।একদিন ছিলো পাঁচ ঘন্টা, শেষের দিকে বড় আপা কান্না শুরু করে দিয়েছে।
ওর জন্মদিনটার কথা মনে হলে মনে হয় এইতো সেদিনের কথা।সকাল সকাল আপার প্রসব বেদনা শুরু হলো। সারা দিন ডাক্তার, নার্স নরমাল ডেলিভারির জন্য চেষ্টা করলো।কিন্তু হলো না,এর রাত বারোটায় সিজারের সিদ্ধান্ত হলো।সাড়ে বারোটায় আপাকে অটিতে নিয়ে গেলো।পনের মিনিট পর নার্স আর্দ্রকে কোলে নিয়ে বের হয়ে আমার কোলে দিলো।আর্দ্রর আব্বুর তখন পোস্টিং ছিলো কুড়িগ্রাম তাই আসতে পারেনি। আর্দ্রকে কোলে নিয়ে আমি ওর আব্বুকে ফোন দিলাম।ওর আব্বু তখনি নাম রেখেছে আর্দ্র।কারণ সেদিন ছিলো প্রচন্ড কুয়াশা আর শীত।
এক পর্যায়ে আমাদের আনন্দ দেখে ডাক্তার এসে বলে অনেক ডেলিভারি করিয়েছি মেয়ে হলে কোনো পরিবারকে এতো খুশি হতে দেখিনি। আমি সে দিন ডাক্তার কে বলেছিলাম আমাদের একটা বেবি হয়েছে জেন্ডার দেখার কি প্রয়োজন।
এরপর আম মেয়েকে নিয়ে বেডে চলে গেলাম।তিন ঘন্টা পর আপাকে বেডে দিয়ে গেলো।তখনও আপার কোমরের নিচ থেকে পা পর্যন্ত অবশ।যদিও শীতের দিন তারপরও ভিতরে কোন শীত ছিলো না। কিন্তু আপা শীতে কাঁপছিলো। একটা কম্বলে হচ্ছে না তাই নার্সের কাছ থেকে আর একটা কম্বল নিয়ে আসলাম। দুইটা কম্বল গায়ে দিয়ে আমি আপাকে জড়িয়ে ধরে রাখলাম। কিন্তু আপা কাঁপছে।
এর মধ্যে আবার আমাকে বললো আমার পা টা সরিয়ে দে।সাথে সাথে আমি পা সরিয়ে দিলাম। পা একটা বরফ খন্ডের মতো ঠান্ডা আর ভারী।আমি পা সরিয়ে দিলেও আপার তো অনুভূতি নেই।তাই আবার আমাকে বলে পা সরিয়ে দে না।আমি যতই বলে দিয়েছি সে শুনবে না।শেষে আমার সাথে অনেক রাগ করে বকাবকি করলো ।কিন্তু আমি কিছু বলি না। আপার কষ্ট দেখে আমি কান্না শুরু করেছি। অনেক কে বলতে শুনি সিজারে মা হলে কি মা হওয়ার কষ্ট বুঝা যায়!আমার তাদের জন্য একটাই কথা, এসব বলার আগে একবার সিজারে তারা মা হয়ে আসতো,তাহলে বুঝতে পারতো কতো ধানে কতো চাল।
(এই ঘটনাগুলো আমার আরেক বোন @setararubi এর সাথে ঘটা)