আজ মানহার বয়স নয় মাস পঁচিশ দিন।আজ রাত দশটায় সে কোনো কিছুতে না ধরে নিজে ওঠে দাঁড়িয়েছে।নয় মাস শেষ হয়ে যখন দশ মাসে পা দিলো তখন থেকে সে কোনো কিছু ধরে দাঁড়াতে পারে। ধরে ধরে হাঁটতেও পারে। কিন্তু আজ প্রথম সম্পূর্ণ নিজের বলে দাঁড়িয়ে গেলো।এটা দেখে আমি আর ওর বাবা যখন হাত তালি দিচ্ছিলাম আর মাশাআল্লাহ বল ছিলাম তখন সে সেটা বুঝতে পেরে জয়ের আনন্দে উচ্চ স্বরে হাস ছিলো আর বার বার উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করছিলো।
যদিও হেসে হেসে ওঠে দাঁড়াতে পারছিলো না।প্রবাসে থাকার কারণে আমি একার হাতে লালন পালন করছি তাকে।যদিও ওর বাবা যথেষ্ট সাহায্য করে। তাও দেশে থাকলে অন্তত তিন মা লালন-পালন করতেন,মানে আমার তিন বোন। কিন্তু ছোট বেলা থেকে মানহা খুবই শান্ত।ওকে লালন পালন করতে আমার খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি।
ওর প্রতিটা পরিবর্তন আমার কাছে বিশেষ পাওয়া।দুই মাস পর্যন্ত সে নির্দিষ্ট করে কারও দিকে তাকাতো না।বেশির ভাগ সময় উপরে তাকিয়ে থাকতো।ডাকলে বুঝতো না। কিন্তু যখন তিন মাসে পা দিলো দেখি আমাদের দিকে তাকাতে পারে।মাঝে মাঝে ডাকে সারা দেয়।তিন মাস যখন শেষ হলো মাশাআল্লাহ ডাক দেওয়া সাথে সাথে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। তাকিয়ে হেসে দেয়।তিন মাস শেষ হয়ে চারমাস শেষ হলেও তেমন কোনো বিশেষ পরিবর্তন হয়নি।শুধু হাত একটু বেশি উপরে তুলতে পারতো। হাত দিয়ে জামা কাপড় ধরতে পারতো।পাঁচ মাসে পা দেওয়ার পর দেখলাম উল্টাতে পারে কিন্তু কষ্ট করে উল্টায়।
পাঁচ মাসের শেষের দিকে মাশাআল্লাহ উল্টে বুক ঘসে ঘসে চলতেও শিখে গেছে। ছয় মাসের শুরু তে বসতে শুরু করে।তবে আমি ধরে বসিয়ে দিলে পারে অল্প বসে থাকতে।নিজে নিজে বসতে পারে না।ছয় মাসের শেষের দিকে বসায় তিনি মাশাআল্লাহ উস্তাদ হয়ে গেছেন। পুরো সাত মাসটা গেলো সে বুক ঘসে ঘসে ঘরের এপাশ থেকে ওপাশে যেতে পারে।ভালো ভাবে বসতে পারে।এরপর আট মাসের প্রথম থেকে সে চার হাত পায়ে হামাগুড়ি দিতে শিখেছে।নয় মাস শেষ দশ মাসে পা দিলো।তখন সে ধরে দাঁড়াতে চেষ্টা করলো।আস্তে আস্তে ধরে হাঁটতে ও চেষ্টা করে।
আজ নয়মাস পঁচিশ দিন দশ মাস হতে পাঁচদিন বাকী।আজ সে নিজে বসা থেকে ওঠে দাঁড়িয়েছে।আমি ওর প্রতিটা পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম মাসের প্রথমে যেটা শুরু হয়েছে মাসের শেষে সেটা সম্পূর্ণ হয়েছে।দশ মাসের শুরুতে সে যখন দাঁড়াতে চেষ্টা করছিলো আমি তখন ওর বাবাকে বলেছিলাম শেষের দিকে সে দাঁড়াতে শিখে যাবে আজ দেখলাম সেটাই হলো।আমার বড়মামা বলতেন মানুষের জীবন বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত। একেক স্তরের অনুভূতি একেক রকম।তাই আমাদের প্রত্যেকটা স্তরে সঠিক সময়ে প্রবেশ করা উচিত। তাহলেই জীবন পূর্ণতা পায়। কথা গুলো কতোটা সত্য তা প্রতিটা মূহুর্তে বুঝতে পারি।
(কথাগুলো আমার মালয়েশিয়া প্রবাসী বোন - @setararubi এর)