আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু কে। আমার ভাবার দরকার হবে না এক বাক্যে বলে দেবো আমার মুখের কথা।আমি মনে করি এই পৃথিবীতে যত শত্রুতা, দ্বন্ধ , হানাহানি সবকিছুর জন্য দায়ী আমাদের মুখের কথা।মানুষ তার এক জীবনে নিজের ভালো চিন্তা করে, আর নিজের প্রয়োজনে যতোটা কথা বলে তার থেকে হাজার গুণ বেশি কথা বলে পরকে নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করে। আর এই আলোচনা, সমালোচনা, পরচর্চা,পরনিন্দা থেকে শুরু হয় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা।
ছোট বেলা একটা গল্প শুনেছিলাম। একটি মেয়ে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে এসে বাবাকে বলছে " আমি আর ঐ বাড়িতে যাবো না। তোমাদের জামাই প্রতিদিন ঝগড়া করে।"বাবা বলে "আর একবার যাও আমি একটা কবিরাজের কাছ থেকে সীসা পরা এনে দেই। যদি ভালো হয়।" মেয়ে রাজি হলো।বাবা একটা বড় সাইজের সীসা এনে মেয়েকে দিলো।দিয়ে বলল "এটা মুখে দিয়ে রাখবা।এটা মুখে থাকলে কথা বলা যাবেনা। কিন্তু খাবার সময় ছাড়া এটা বের করা যাবে না। পনের দিন পর তুমি আবার আসবে। কাজ না হলে পাল্টে দিবো।পনেরো দিন পর মেয়ে এসে খুব খুশি মনে বলছে বাবা কবিরাজের ঔষধ খুব কাজ করেছে। এই পনেরো দিনে তোমার জামাই একবারও ঝগড়া করেনি। তখন বাবা হেসে বলে মারে এটা কোনো কবিরাজের ঔষধ না। এটা শুধুই একটা সীসা।তুমি কথা বলনি তাই ঝগড়া ও হয়নি।তার মানে শুধু জামাইয়ের দোষ নয়। তোমাদের দুজনেরই দোষ।মুখের কথার গুরুত্ব বুঝাতে আমি ছোট বেলায় শোনা গল্পটা লিখেছি।কেউ আবার ভুল ভাববেন না, নারী পুরুষের কোনো বেপার এখানে মুখ্য বিষয় নয় ।বোবার শত্রু নাই। একদম সঠিক একটা প্রবাদ।
যাইহোক আমার এতোগুলো কথা বলার একটাই কারণ সেটা হলো আমরা যেন বুঝে কথা বলি।আমরা যদি একটু সাবধানতার সাথে কথা বলি আর অন্যের সমালোচনা, পরনিন্দা, পরচর্চা না করি তাহলে আমাদের আশেপাশের মানুষের সাথে সম্পর্ক ভালো থাকবে।প্রত্যেক ক্ষেত্রে যদি আমরা বিবেক,বিবেচনা আর দায়িত্ব নিয়ে কথা বলি তাহলে পরিবার, সমাজ এমনকি রাষ্ট্রে পর্যন্ত সুশৃঙ্খলতা বজায় থাকবে।
বিঃদ্রঃ গল্পটি ছোটোর( @setararubi) কাছ থেকে শোনা।