আমি যখন অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ি তখন একটা এনজিওর স্কুলে পড়াতাম। এটা এফআইভিডিবি এর একটা চল্লিশ মাসের প্রজেক্ট।এখানে পচিঁশ জন স্টুডেন্টকে প্রথম শ্রেনী থেকে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত পড়ানো হবে,স্কুল থেকে ঝড়ে যাওয়া কর্মজীবী শিশুদের। বয়স সীমা ছিলো দশ থেকে পনেরো। যেহেতু কর্মজীবী শিশুদের স্কুল তাই দুই শিফটে ক্লাস হতো।প্রথম শিফট নয়টা থেকে এগারো টা।এখানে অন্য একজন ম্যাডাম পড়াতেন। আমি পড়াতাম বিকেলের শিফটে দুইটা থেকে চারটা।স্কুল ছেড়ে কাজে যাওয়া ছেলে মেয়েরা সাধারণত শহরের বস্তিতে থাকে। তাই স্কুল টা ছিলো বস্তির কাছে।বাচ্চাদের অধিকাংশই নামে কর্মজীবি। ওরা একদিন কাজ করলে ছয়দিন করেনা।ঘুরে বেড়াবে কিন্তু স্কুলে আসবে না।প্রতিদিন গিয়ে ধরে নিয়ে আসতে হতো। তাই আমি প্রতিদিন বস্তিতে যেতাম ওদের আনতে।তখন আমি অনেক কিছু দেখেছি। তাই আজ আমার এ লিখা "জীবন যেখানে যেমন"
আমার একটা ছাত্রী ছিলো নাম সাবিনা।ওর বয়স বারো বছর। ওরা যে বস্তিতে থাকতো সেটা ওর বাবার।মানে জায়গার মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে নিয়ে ওনি তাতে ঘর বানিয়ে ভাড়া দিয়েছে।ঘর মানে টিনের এক চালা, কোনোটায় বাঁশের বেড়া, কোনোটায় টিনের।ও ঐখানকার রাজ কণ্যা।সবাই ওকে তুয়াজ করে।ওদের রুমটা বেশ বড়। ঐ রুমের বাসিন্দা দশ জন।তারা হলো সাবিনা,ওর মা-বাবা,ওর ভাই, ভাইয়ের বউ,এক বাচ্চা, আরও চারজন মেয়ে ওদের সাথে থাকে যারা গার্মেন্টস এ কাজ করে।এটাও সম্ভব। কিন্তু ওরা ঐখানে দিব্যি ভালো আছে।
ওদের বস্তিতে ভাড়া থাকে আমার এক ছাত্র। বয়স তেরো কি চৌদ্দ। ওকে নাকি সাবিনা ভালোবাসে।ঐ ছেলেও তাতে খুব খুশি। কারণ তাদের রাজকন্যা তাকে ভালোবাসে।ঐ ছেলের মা বাবা আর ঢাকা থাকবে না। সাবিনা নাকি ওকে বলছে ওকে বিয়ে করে নিয়ে যেতে হবে।ছেলে বলছে পরে এসে নিয়ে যাবে।তাই সাবিনা পিঁপড়া মারা চক ঘুলিয়ে খেয়ে ফেলেছে।সেকি কান্ড।সাবিনার বাবা ঐছেলেদের ঐ মূহুর্তে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। পরে সাবিনা আরও এক বছর পড়ালেখা করেছে।এরপর ওর বিয়ে হয়ে যায়।
( এই কথাগুলো আমার বোন @setararubi এর,ওর কাছ থেকে কিছু গল্প থাকবে মাঝেমধ্যে)