This post is from a low-reputation account and contains an unverified outbound link. Be cautious before clicking external links.

TABLIK JAMAT

sekra(11)
Published in
#tablik
Words
910
Reading
5 min
Listen
Play
8y

ইরাক সিরিয়া লিবিয়া দিকে যদি যদি তাকান, তবে দেখবেন, যুদ্ধটা কিন্তু শুরু করেছিলো মুসলমান-মুসলমান মিলে। এক মুসলমান অন্য মুসলমানকে দেখতে পারে না,
একজন অন্যজনের কথা ভালো লাগে না,
একজনের ক্ষমতা অন্যজনের পছন্দ হয় না,
ব্যস শুরু করে দিলো নিজেদের মধ্যে মারামারি,
এরপর তাদের মধ্যে অস্ত্র সরবরাহ করে যুদ্ধ বাড়িয়ে দেয়া হলো
সর্বশেষ তৃতীয় পক্ষ হয়ে পশ্চিমারা ঢুকে দেশগুলো তছনছ করলো।
মুসলমানরা নিজেই যদি নিজেদের পশ্চাৎদেশে আঘাত না করতো, তবে তৃতীয় পক্ষ আসতো কিভাবে ?

বাংলাদেশে নির্বাচন আসতে আর মাত্র ১ মাস আছে,
এটা একটা ক্রিটিকাল সময়।
সব শক্তি-ই এ সময় একটা ঘটনা ঘটিয়ে তার থেকে সুবিধা আদায় করার চেষ্টা করে।

গতকালকে বাংলাদেশে ‘তাবলিগ জামাত’ নামক একটি সংগঠনের দু’দলের মধ্যে যা ঘটলো, তা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। মুসলমানরা নিজেরাই যদি এত বোকা হয়ে যায়, তবে তারা অন্যজাতির ষড়যন্ত্র রূখবে কিভাবে ?

আমার কাছে বিষয়টি সিরিয়াস লেগেছে এ কারণে-
মাত্র ১ দিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসে বাংলাদেশের দুটি ইসলামী সংগঠনের নাম উল্লেখ করে, তাদের মত সকল ইসলামী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ চেয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব করেছে রিাপবলিকান কংগ্রেসম্যান জিম ব্যাঙ্কস এবং ডেমোক্রেটের হিন্দু কংগ্রেসম্যান টুলসি গ্যাবার্ড। (https://bit.ly/2AI053T)
এই প্রস্তবের মাত্র ১ দিন পরেই তাবলীগের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই মারামারি সত্যিই চিন্তা উদ্রেক করে।

আপনারা জানেন, আমেরিকার বহুদিনের ইচ্ছা, বাংলাদেশের আইএস বা জঙ্গীবাদ আছে, এটা প্রমাণ করে তারা বাংলাদেশে ঢুকবার একটা সুযোগ নিবে। এজন্য তারা বহুবার চেষ্টাও করেছে, যদিও সফল হয় নাই। কিন্তু এইবার যেটা দেখা যাচ্ছে, মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় সংগঠনগুলো নিজেদের মধ্যে প্রকাশ্যে মারামারি-কাটাকাটি করে, সেই দৃশ্য নিজেরাই প্রচার করে প্রমাণ করে দিচ্ছে “মুসলমানরা সন্ত্রাসী, আমেরিকা তুমি আসো”।

আপনারা হয়ত জানেন, আমি মুসলিম সমাজের প্রতি সব সময় আহবান করি, তারা যেন নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাদ দেয়। এখন অমুসলিমরা বাংলাদেশ দখলের জন্য ওৎ পেতে আছে। সব মুসলমানের এক হয়ে উচিত অমুসলিম শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়া। আপাতত বিশ্বাসগত দ্বন্দ্ব, ক্ষমতাগত দ্বন্দ্ব এগুলো বাদ দিয়ে একটা প্ল্যাটফর্মে আসতে হবে, দেশ সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মুসলমান কমিউনিটির সাথে প্রয়োজনে ঐক্য করতে হবে। নয়ত বিরোধী শক্তি মুসলমানদের বিনা বাধায় শেষ করে দিবে। যারা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরী করে, ক্ষমতা নিয়ে কামড়াকামড়ি করে, তাদের সাথে তর্ক না করে এড়িয়ে যেতে হবে। যতটা পারা যায় নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্য তৈরী করতে হবে। সব মুসলমান একাত্মতা ঘোষণা করতে হবে, নয়ত বাংলাদেশ সিরিয়া,লিবিয়া বা ইরাক হতে বেশি সময় লাগবে না। যদিও এ কথাগুলো বিভিন্ন সময় বলার পর কমেন্টেই অনেকেই নিজেদের মধ্যে গালাগালি আর তর্কযুদ্ধ করেছে। তবুও আমি আবারও একই কথা বলতে চাই।

যাই হোক, এবার একটা তালিকা দেই, যেখানে বিভিন্ন দলে হিন্দুসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু প্রার্থীর মনোনয়ন নেয়া প্রার্থীদের নাম দেখা যাবে। এ তালিকা দেয়ার উদ্দেশ্য, মুসলমানরা যখন নিজেরা নিজেদের পশ্চাতে আঙ্গুল ঢুকাচ্ছে, সেখানে উগ্র হিন্দু ও অন্যান্যরা সুকৌশলে বিভিন্ন দলের মধ্যে ঢুকে বাংলাদেশে হিন্দুত্ববাদ জারি ও ইসলাম বাদ দেয়ার প্ল্যানে নেমেছে।

আওয়ামী লীগের মনোনীত হিন্দু তথা সংখ্যালঘু প্রার্থীদের নামের তালিকা-
১. রমেশ চন্দ্র সেন (ঠাকুরগাঁও-১)
২. মনোরঞ্জন শীল গোপাল (দিনাজপুর ১)
৩. সাধন চন্দ্র মজুমদার (নওগাঁ-১)
৪. রণজিৎ কুমার রায় (যশোর-৪)
৫. স্বপন ভট্টাচার্য্য (যশোর-৫)
৬. বীরেন শিকদার (মাগুরা-২)
৭. পঞ্চানন বিশ্বাস (খুলনা-১)
৮. নারায়ণ চন্দ্র চন্দ (খুলনা-৫)
৯. ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু (বরগুনা-১)
১০. পংকজ দেবনাথ (বরিশাল-৪)
১১. মৃণাল কান্তি দাস (মুন্সীগঞ্জ-৩)
১২. মানু মজুমদার (নেত্রকোনা-১)
১৩. অসীম কুমার উকিল (নেত্রকোণা-৩)
১৪. জয়া সেনগুপ্তা (সুনামগঞ্জ-২)
১৫. জুয়েল আরেং (ময়মনসিংহ-১)
১৬. দীপংকর তালুকদার (রাঙ্গামাটি)
১৭. কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা (খাগড়াছড়ি)
১৮. বীর বাহাদুর উ শৈ সিং (বান্দরবান)
.
বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের মনোনীত হিন্দু তথা সংখ্যালঘু প্রার্থীদের নামের তালিকা-
১. অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী (রংপুর-২)
২. রমেশ দত্ত (রাজশাহী-৬)
৩. অ্যাডভোকেট জন গোমেজ (নাটোর-৪)
৪. অমলেন্দু দাস অপু (যশোর-৬)
৫. অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী (মাগুরা-২)
৬. জয়ন্ত কুমার কুন্ডু (ঝিনাইদহ-১)
৭. মিল্টন বৈদ্য (মাদারীপুর-২)
৮. অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী (টাঙ্গাইল-৬)
১০. সুখরঞ্জন ঘোষ (কিশোরগঞ্জ-৪)
১১. গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা-৩)
১২. তরুন দে (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২)
১৩. দীপেন দেওয়ান (রাঙ্গামাটি)
১৪. সাচিং প্রু জেরী (বান্দরবান)
১৫. মাইনরিটি জনতা পার্টির সাধারণ সম্পাদক সুকৃতি কুমার মন্ডল (যশোর-৪)
১৬. গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী (ঢাকা-৬)
১৭. গণফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট শান্তিপদ ঘোষ
.
জাতীয় পার্টির মনোনীত হিন্দু তথা সংখ্যালঘু প্রার্থীদের নামের তালিকা-
১. সুনীল শুভ রায় (খুলনা-১)
২. সোমনাথ দে (বাগেরহাট-৪)
৩. তপন চক্রবর্তী (চট্টগ্রাম-১৩)
৪. সন্তোষ শর্মা (কক্সবাজার-৩)
.
বাম গণতান্ত্রিক জোটের অন্যতম শরিক দল সিপিবির মনোনীত হিন্দু তথা সংখ্যালঘু প্রার্থীদের নামের তালিকা-
১. উপেন্দ্র দেবনাথ (কুড়িগ্রাম-২)
২. মিহির ঘোষ (গাইবান্ধা-২)
৩. যজ্ঞেশ্বর বর্মণ (গাইবান্ধা-৫)
৪. সন্তোষ পাল (বগুড়া-৫)
৫. ফণিভূষণ রায় (ঝিনাইদহ-২)
৬. অশোক সরকার (খুলনা-১)
৭. চিত্ত গোলদার (খুলনা-৫)
৮. সুভাষ ছানা মহিম (খুলনা-৬)
৯. ডা. তপন বসু (পিরোজপুর-১)
১০. দিলীপ পাইক (পিরোজপুর-৩)
১১. ডা. দিবালোক সিংহ (নেত্রকোণা-১)
১২. জলি তালুকদার (নেত্রকোণা-৪)
১৩. সমর দত্ত (মুন্সিগঞ্জ-১)
১৪. লীনা চক্রবর্তী (ঢাকা-১৯)
১৫. মানবেন্দ্র দেব (গাজীপুর-৪)
১৬. অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ (নারায়ণগঞ্জ-৫)
১৭. সুশান্ত ভাওয়াল (শরীয়তপুর-৩)
১৮. নিরঞ্জন দাশ খোকন (সুনামগঞ্জ-২)
১৯. পীযুষ চক্রবর্তী (হবিগঞ্জ-৩)
২০. মৃণাল চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৯)
২১. দিপক বড়ুয়া (কক্সবাজার-৩)
.
বাম গণতান্ত্রিক জোটের অন্যতম শরিক দল বাসদের মনোনীত হিন্দু তথা সংখ্যালঘু প্রার্থীদের নামের তালিকা-
১. উৎপল দেব (জয়পুরহাট-২)
২. মঙ্গল কিসকু (নওগাঁ-১)
৩. দেবলাল টুডু (নওগাঁ-২)
৪. নব কুমার কর্মকার (সিরাজগঞ্জ-২)
৫. জনার্ধন দত্ত নান্টু (খুলনা-৩)
৬. নিত্যানন্দ সরকার (সাতক্ষীরা-২)
৭. প্রকৌশলী শম্পা বসু (ঢাকা-৮)
৮. সৌমিত্র দাস (ঢাকা-১৬)
৯. ডা. হারাধন চক্রবর্তী (ফেণী-৩)
১০. অ্যাডভোকেট মিলন মন্ডল (লক্ষ্মীপুর-৪)
.
বাম গণতান্ত্রিক জোটের অন্যতম শরিক দল বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টি ও গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির মনোনীত হিন্দু তথা সংখ্যালঘু প্রার্থীদের নামের তালিকা-
১. শিপন কুমার রবিদাস (বগুড়া-১)
২. সজিব সরকার রতন (নেত্রকোণা-২)
৩. প্রশান্ত দেব ছানা (মৌলভীবাজার-২)
৪. সুকোমল বিশ্বাস (ঠাকুরগাঁও-৩)
৫. জুঁই চাকমা (রাঙ্গামাটি)

হিসেব খুব সোজা, বাংলাদেশে ইসলামী সংগঠন নিষিদ্ধ চাইছে আমেরিকা, অথচ বিভিন্ন দলে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে উগ্র হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-উপজাতিদের । পাশাপাশি মুসলমানরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিজেদের অবস্থান করছে প্রশ্নবিদ্ধ । মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনা এবং দেশের স্বাধীনতা উভয়ই এখন হুমকির মুখে। হিসেব খুব সহজ সমীকরণের দিকে যাচ্ছে, একটু মিলিয়ে নিলেই হয়।

TABLIK JAMAT | Ecency