আমি কাজী শাওন। বর্তমানে খুবই ব্যস্ত একজন মানুষ। কিন্তু একটা সময় অনেকটা ফ্রি ছিলাম। তখন একটু আধটু লেখার নেশা ছিলো। বেশ কিছু কবিতা লিখেছিলাম। হঠাৎ করেই মনে ইচ্ছা জেগেছিলো একটি গল্প লেখার। সেই কারনে আনারি হাতে কলম উঠেছিলো একটি গল্প লেখার নিমিত্বে। গল্পের থিমটা মাথায় গেথে ছিলো অনেক দিন থেকে। পর্ব আকারে লিখেও ছিলাম। মোট 07 পর্ব লেখার পর আর লেখা হয়ে উঠে নাই। আজ ভাবলাম আবার শুরু করা যাক। যেটার শুরু করেছিলাম 2 বছর আগে, সেটা শেষ করাটা খুব দরকার। সেই কারনেই নতুন প্রত্যয়ে আপনাদের সাথে নিয়েই যাত্রা শুরু করলাম।
পর্ব - 01
আজ আকাশ সুন্দর নীল রং টা বুকে ধারন করে বসে আছে। মাঝে মাঝে কোথা থেকে যেন এক আধ টুকরা সাদা মেঘ হাসতে হাসতে ভেসে যাচ্ছে নীল আকাশের বুক চিরে। এই মুহুর্তে মনে হচ্ছে আজকের আকাশে কয়েকটা সাদা বক থাকলে ভাল হতো। কিন্তু ওগুলো আজকাল গল্পতেই মানায়। অনেকদিন নিজের চোখে একটা বক ও দেখি নাই। আজ যেন নিজের মাঝে অদ্ভুত এক অনুভূতির অস্তিত্ব বুঝতে পারছি। কি যেন একটা শুভ সংকেত উকি দিচ্ছে। কিছু একটা ঘটতে চলছে আমার জীবনে। এই নিয়েই ভাবছিলাম হঠাত্ ট্রেনটি নড়ে উঠলো।
source
বাংলাদেল রেলওয়ে বলে কথা, প্রায় দের ঘন্টা দেরীতে চট্টগ্রাম টু ঢাকার ট্রেনটি এই বুঝি ছাড়লো। আমি বরাবরই প্রকৃতি দেখতে ভালবাসি। আজ সেটাতে বাধা হয়ে দাড়ালো ট্রেনের নড়ে উঠাটা। যায় হোক, ধিরে ধিরে বাড়ছে ট্রেনের গতি। ট্রেন দুলছে আর আমার ঘুম ঘুম লাগছে। তাই সেই সুন্দর অনুভূতিটা কাজে লাগেতে ইচ্ছা করলো। কবিতার ডায়েরীটা ব্যাগ থেকে বের করলাম। একটা কবিতা লিখতে চাইছে মন। লিখতে শুরু করলাম.....
source
" কিছু নিরব সাক্ষী সময়গুলি
বড়ই একা ক্লান্ত সন্ধ্যা ঝুলি
আঁধার রাতের গভীরতার ফাকে
আজও খুজি তোমায় জীবন বাঁকে।
ভাল কিছু মুহুর্তরাও ছিল
কিন্তু সেখানে মরিচা ধরে গেছে
তোমায় ভেবে আজও কাঁদে মন
ভাবি আমি সবকিছুই কি মিছে
কিন্তু আমি অনেক বদলে গেছি
বদলে গেছে অনেক স্বপ্ন আশা
পবিত্রতায় তবু আছে
শুধুই ভালবাসা"
কবিতেটা শেষ করে একটু আরাম করে ট্রেনের সিটে হেলান দিলাম। একটু ঘুম দরকার আমার। কবিতার নামটা পরেও দেয়া যাবে।
..........................................................................
প্রায় এক ঘন্টা বৃথা চেষ্টার পর হার মানতে বাধ্য হলাম। দুচোখের পাতা এক করতে পারলাম না আমি। কেন যেন অনেকদিন থেকেই ঘুম নামক শান্তির সাথে আমার বনিবনাটা হচ্ছে না। কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। ও হ্যা একটা কাজতো বাকি আছে। কবিতার নামটাই তো দেয়া হয়নি। দুটি নাম মনে আসলো আমার। "নিরব সাক্ষী" দিল কেমন হয় বা " মুহুর্ত এবং আমি" নামটি। শেষেরটাই মনে ধরলো।
মামা বাদাম নিবেন? নিরাবতা ভেদ করে হঠাত্ একটি বাচ্চা ছেলের কথা শুনে পিছু ফিরে তাকালাম। একটি ৫-৬ বছরের ছেলে হাতে বাদামের ঝুড়ি নিয়ে দাড়িয়ে আছে। আমি তাকাতেই ছেলেটি আবার বলে উঠলো মামা বাদাম কিনবেন? যদিও এক সময় বাদাম ভালবাসলেও এখন বাদামটা আমি পছন্দ করি না তবুও কিছু বাদাম কিনতে ইচ্ছা করলো ছেলেটির জন্য। হঠাত্ করে একটা ইচ্ছা জাগলো। কাজটি করতে পারলে আমার অনেক ভাল লাগবে।
source
আচ্ছা তোমার কাছে মোট কত টাকার বাদাম আছে? মনে হয় ২০০ টাকা বলল ছেলেটি। ছেলেটিকে কাছে ডাকলাম। ছেলেটি আসলে আমার পাশে। এই নাও ২০০ টাকা। সব কিনবেন মামা? হ্যা আমি সবটুকু কিনবো। এতো বাদাম কি করবেন আপনি? তোমাকে খাওয়াবো আর বাকিটা তুমি তোমার বন্ধুদের খাওয়াবে। কেন আপনি খাবেন না? না বাবু আমি বাদাম পছন্দ করি না। আচ্ছা তোমার নামটাই তো জানা হলো না। আমার নাম সিরাজ-উদ-দৌলা বললো ছেলেটি। বাহ দারুন নামতো তোমার।
সাধারনতো এই সব বাচ্চাদের নাম রনি, বনি জাতীয় হয়ে থাকে কিন্তু ওর নাম সিরাজ-উদ-দৌলা। আমি ছেলেটিকে কাছে ডাকলাম। ও কাছে আসলে আমি আমার পাশের সীটটাতে ওকে বসতে বললাম। ওর কাছ থেকে কিছু বাদাম নিলাম। খুব ইচ্ছা করছে নিজ হাতে ওকে বাদাম খাওয়াতে। এরা সারা জীবন অন্যকে বাদাম খাইয়ে গেল ওদের মুখে তুলে দেবার কেও নেই। আমি বাদামের খোসা ছারিয়ে ছেলেটির মুখের সামনে ধরতেই সে অবাক হয়ে বললো আপনি খাবেন না? না তোমাকে খাওয়ানোর জন্যই বাদামগুলি নিলাম। ছেলেটি বাদাম খাচ্ছে আমি খোসা ছারাচ্ছি। হঠাত্ খেয়াল করলাম ছেলেটি কাঁদছে। আর আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি তাকাতেই বলে উঠলো আপনার কে কে আছে। আমার কেও নাই সিরাজ-উদ-দৌলা। এই মুহুর্তে তুমি আছ।
source
কেন কেও নেই আপনার? এই মুহুর্তে আমি বিব্রতকর অবস্থায় পরে গেলাম। এই পশ্নের উত্তর আমার নিজেরই জানা নাই। এই ছেলেটিকে আমি কি জবাব দেব। ......................... চলবে।