আর কত সহ্য করতে হবে।

Words
411
Reading
2 min
Listen
Play
6y

বাহ,
পুরুষতান্ত্রিক সমাজ তোমাদের শ্রদ্ধা জানাই,
ঘরের লক্ষীরা কি তোমাদের কাছে পুতুল
শুধু মুখ বুঝে তোমাদের দেওয়া ক্ষত সহ্য করতে হবে।

rope-2322774_1280.jpg
source

গতকাল আমাদের বাসায় সরিফা আন্টি এসেছিলেন। তিনি দরজা খুলতেই আমি খেয়াল করলাম ওনার চোখ খুব বাজে ভাবে ক্ষত হয়েছে। তাই জিজ্ঞেস করলাম আপনার চোখে কি হয়েছে? তিনি হেসে বললেন কিছু না মনে হয় কোন পোকা চোখের ভিতরে গেছে তাই চোখের এই অবস্থা। তখন আমার আর কিছুই মনে হলো না।

কিন্তু তিনি মায়ের সাথে পাশের রুমে গল্প করছেন তখন শুনতে পারি - ওনার স্বামী রাতে মারধর করেছে। একথা শুনে খুব খারাপ লাগছিল। তিনি খুব সহজে অন্যের দোষ আড়াল করতে পারলেও, কিন্তু যে কষ্ট, দুঃখ নিজে পেয়েছে সেটা কিভাবে আড়াল করবে।এই প্রথমবার নয় এর আগেও তিনি অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। কিন্তু কোন বারই কাউকে কিছু জানান নি। এ ঘটনা হয়তো আমাদের গ্রামের ছোট্ট একটি পারিবারের।

এরকম হাজার গ্রাম আছে যেখানে নারীরা প্রতিনিয়ত অত্যাচারিত হচ্ছে কিন্তু তাদের ন্যায্য বিচার পাচ্ছে না। প্রতিদিনই একবার হলেও খবরে শোনা যায় অমুক গৃহবধূর প্রতি নির্যাতন হচ্ছে। শুধু নির্যাতনের খবর নয় হত্যার খবরও শোনা যাচ্ছে। মনে হয় আমার আজকের লেখাটি শুধুই বৃথা।

আমি নিজেই এর কিছু করতে পারছি না তাহলে কিভাবে অন্যদের বলবো অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে।আমার প্রতিবাদ করার মন-মানসিকতা থাকলেও কিন্তু সেই শক্তি নেই।

বেশ কয়েক বছর আগে টিভিতে একটি বিজ্ঞাপন দেখেছিলাম একজন বাবা তার শিশুর সামনে স্ত্রীকে মারধর করছিলো। বিকেলে যখন বাসায় মেহমান আসে।সেই স্ত্রী খুব সুন্দর করে সেজে অতিথি আপ্যায়ন করে।সেই মুহূর্তে হঠাৎ শিশুটি তার বোনকে ইচ্ছাকৃতভাবে মারধর করে। অতিথি শিশুটিকে জিজ্ঞেস করলে -তুমি তোমার বোনকে মারছো কেন? শিশুটি তখনই বললো বাবা প্রতিদিন এভাবে মাকে মারধর করে। একটি বিজ্ঞাপন দ্বারা সমাজকে সচেতন করছে। বড়দের অনুসরণ করেই শিশুরা শিখে। আমরা শিশুদের ভালো কিছু শিখাতে পারছি না। এই যদি হয় সমাজের অবস্থা তাহলে আর বলতে হবে না, আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। কেননা আমরা যদি তাদের জীবনকে অন্ধকারের মধ্যে ফেলে দেই তাহলে আলোর আশা করাটাই ভুল।

এ কথাগুলো বলার কিছু কারণ আছে, যখন আমার ঘরের মা বোনেরা অত্যাচারিত হচ্ছে তাদের জন্য আওয়াজ তুলতে পারছি না তাহলে সমাজের জন্য আমার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব না।
আজ আমি মেনে নিলাম এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কাছে আমরা হেরে গেছি। দাসত্ব করাই আমাদের কাজ।এই সমাজে আমাদের স্বপ্নের কোন মূল্য নেই।

আমি শেষে একটা কথাই বলতে চাই, আজ অন্যের ঘরে নারীদের প্রতি অত্যাচার হচ্ছে বলে আপনাদের কিছু মনে নাও হতে পারে। কিন্তু যখন আপনার ঘরে মা বোনদের প্রতি অত্যাচার হবে তখন বুঝতে পারবেন।

আমি দুঃখিত আমার লেখাটা যদি আপনাদের খারাপ লেগে থাকে। কিন্তু এটাই সত্যি, ৭০% নারীরা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কাছে অত্যাচারিত হচ্ছে।

আমি নিহা। বি.বি. এ ৩য় বর্ষে পড়ছি।লেখালেখি ও ঘুরতে পছন্দ করি।

20200608_115836-3.gif

আর কত সহ্য করতে হবে। | Ecency