এই বছরের রোজা একদিন ও তারাবির নামাজ বাদ যাবেনা,ইনশাল্লাহ। একসাথে “ইনশাল্লাহ” বলে সায় দিল সাথের দুই বন্ধু। শুরু হলো আমাদের মুসলিম উম্মতদের সবচেয়ে বেশি বরকত ময় মাস। এ মাসের জন্য অধীর আগ্রহে থাকি। সেহরির সময় উঠা,ইফতার করা,রাতে নামাজের জন্য বের হওয়া, ঈদের কেনাকাটা, ঈদের দিন সবার সাথে অনেক বড় জামায়াতে নামাজ আদায় করা তারপর সবার থেকে সালামি আদায় করা। সালামি জিনিস টার জন্য রোজার ঈদ কোরবানির ঈদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি আনন্দদায়ক মনে হতো। কোরবানির ঈদে তো পছন্দের গরু টিকে বিসর্জন দিয়ে দিতে হয় ।
যাইহোক রমজান মাস এসেছে, বাসা থেকে আম্মু পাঞ্জাবি পড়িয়ে নামাজের জন্য পাঠিয়ে দিল। প্রথম দিন যথারীতি ভালোভাবে নামাজ আদায় হলো। কিছুদিন যাওয়ার পর ঘটলো বিপওি, এখন যে আর ২০ রাকাত নামাজে মন বসে নাহ। চঞ্চল মন বাইরে ঘুরতে ইচ্ছে করে, সবাই যখন নামাজ পরছে তখন পেছনের বারান্দায় অন্ধকারে দুষ্টুমি তে মেতে উঠার ইচ্ছে। সব মিলিয়ে আর নামাজ টুকু পড়া হয়ে উঠে না ঠিকমতো। নামাজে দাড়ালে পেছন থেকে একজন গুতোগুতি দিচ্ছে, পাশ থেকে ধাক্কা দিচ্ছে।হাহাহা,এলাহি কাণ্ড। ছোট বয়সের এগুলি সাধারণ ব্যাপার। বড়রা মাঝে মাঝে বকাঝকা ও খেদানো দিতো, ওইগুলোর মাঝেও আনন্দ আছে।
সময় চির বহমান। সেই ছোট্ট দুষ্টু ছেলেগুলো আজ বড় হয়েছে। এখন আর সেই আগের মতো নামাজ ফাকি দিয়ে বাইরে ঘুরতে ইচ্ছে হয়না। মসজিদের অন্ধকার রুমটায় গিয়ে দুষ্টুমি করে না। তবে মসজিদের সেই অন্ধকার রুমটায় এখনও দুষ্টুমি হয়, তাদের মতোই কতগুলো ছোট্ট আমি নামাজে আসে। মাঝে মাঝে তাদের দেখে মনে পড়ে যায় সেই আমার ছোট্ট আমির তারাবির নামাজের সময়গুলো। ধমক দিতে গিয়েও ধমকে যায়, মাঝে মাঝে হাসি পায় তাদের দেখে।আসলে একটা জিনিস কি এই যে ছোট্ট ছোট্ট ছেলেগুলো নামাজে আসছে, দুষ্টুমি করছে মানলাম তাও মসজিদে এলো তো। ধীরে ধীরে নাহয় এগুলো কমে এখনের এই আমি টার মতো হয়ে যাবে। রুকু তে যাওয়ার সময় নামাজে দাঁড়ানো, সেই মসজিদে না এসে বাইরে বাইরে ঘুরে বেড়ানো থেকে ঢের ভালো।
তেমনি আরো একটা জিনিস আছে যেটা আমার কাছে ভালো লাগে,আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত মনে না হলেও। আমাদের সমাজে অনেক লোকজন আছে যারা অন্তর থেকে কম, লোক লজ্জায় দান-খয়রাত করেন। রমজান মাস এসেছে, বড় বড় ইফতার মাহফিল, গরিব দের ইফতার দান করা এবং সেগুলোর প্রচার। কার থেকে কে বেশি দিতে পারবে তার একটি প্রতিযোগিতা। সমস্যাটা হলো তাদের নিয়তই। অন্তরের অন্তস্থল থেকে খুব কম মানুষ ই দান-খয়রাত করেন। তবে তাদের এই প্রতিযোগিতা টুকু কে আমি ধন্যবাদ জানাই, নিয়ত অন্যটি হলেও কিছু গরিব দুঃখী মানুষ সাহায্য পাচ্ছে তো এই ঢের।
প্রায়শই দেখি একজন কে একটি কলা অনুদান দিতে ১০জন হাত বাড়িয়ে ফটো সেশন করছে, তারা কি আদৌ স্বেচ্ছায় দান করছে বলে মনে হয় আপনার? আমার তো মনে হয়না। তবে হ্যাঁ, কাজের কাজ এটা হচ্ছে যে একজনের এসব প্রচার-প্রচারণা দেখে অপর পাশের ব্যক্তিটি একটু প্রচারের জন্যই হোক আর মন থেকে হোক কিছুটা উপকার করছে গরীব দুঃখী দের। যাদের নিয়ত শুদ্ধ তাদের তো প্রচার-প্রচারণায় দরকার পড়েনা, যার উপর উছিলা করে দিচ্ছেন, তিনি তো সব জানেন এবং দেখেন তার প্রতিদান হবে এসব সোশ্যাল নাম-ডাক এর চেয়ে ঢের বেশি। এই অংশ টা আসলে আজকের একটা ঘটনা থেকে উপলব্ধি করে লেখা।