হযবরল

Words
475
Reading
3 min
Listen
Play
5y

প্রতিদিনকার রুটিন এখন একটা রোবটের মতো হয়ে গেছে। দিনের অধিকাংশ সময় জুড়েই ফোনের একচ্ছত্র অধিপত্যে। পিসিতে বসলেও দেখা যাচ্ছে সেটা চলছে তাও ফোন গুতাচ্ছি। ঘুমানোর আগে ফোন, চোখ খুলে ফোন। যদিও কাজের জন্যেই বেশিরভাগ সময় ব্যবহার হচ্ছে,অযথা কাজে খুব কমই করা হয়। তাও খুব বেশি ফোনের প্রতি ঝুকে আছি তা মনে হচ্ছে, পিসির প্রতি অভ্যস্ত হতে হবে তা উপলব্ধি করলাম। এসব কথাগুলো কাল রাতে ফোন টিপছিলাম আর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো। এইরকম চিন্তাধারা আমার মাথায় প্রায়শই হানা দেয় আর যে কাজগুলো বাকি থাকে সেগুলোকে গায়েব করে দেয়। ভেবেছিলাম রাতে কিছু লিখতে শুরু করবো, কাল রাতের কথা বলছি। তারমধ্যেই এই রকম চিন্তাভাবনা গুলো করতে করতে হঠাৎ মাথা বেথা প্রচন্ড বেড়ে গেল। কাল সারাদিন থেকেই এই বেথা, ঔষধ খেয়ে আর ফোন নিয়ে থাকতে পারলাম নাহ ঘুমিয়ে পড়লাম তাড়াতাড়ি ই।তাড়াতাড়ি বলতে প্রতিদিনকার যে সময় তার চেয়ে আগে আরকি।

ঘুম ভাঙলো কোচিং এর ২ ঘন্টা আগে। বিছনায় শুয়েই লাল-সবুজ মোমবাতি গুলো দেখছিলাম আর কিছু হিসাব নিকাশ করছিলাম।অবস্থান আমার সবুজ হলেও একটু পর কেমন যেন শরীর টা খারাপ হতে শুরু করলো। সকাল সকাল এই অবস্থা কেন হলো বুঝলাম নাহ। কোচিং এ যাবোনা স্যারকে মেসেজ দিয়েও একটু পর আসছি বলে একটা মেসেজ দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। তার মধ্যে ঘটে গেল আরেক কাহিনি, মাঝরাস্তায় এসে দেখি ঘরে যে স্যান্ডেল পড়েছিলাম তা পড়েই যাচ্ছি এখন। রিক্সায় উঠে গেছি ফিরে যেতেও ইচ্ছে করছে নাহ। একটু পর নোকিয়া ফোনের রিংটোন বাজছে। রিক্সাউয়ালা মামার ফোন,কিন্তু সে ধরছে নাহ বেজেই চলছে। ডাক দিয়ে বললাম, "মামা ফোন বাজছে যে।" উনি উওর দিল উনার নাহ, পকেটে হাত দিয়ে দেখি আমার পকেট থেকে বেজে উঠছে। হায় হায়, আম্মুর ফোন নিয়ে এসে পড়েছি। ওইদিকে বাসায় আম্মু ফোন না পেয়ে যেনো এলাহি কান্ড বাধিয়ে না দেন সে চিন্তা করতে করতেই বাসায় অন্য ফোনে ফোন দিলাম কিন্তু সেটাও সাইলেন্ট। পড়ে আব্বুকে ফোন দিয়ে জানালাম ওনি বাসায় বলে দিয়েছে। সকালের শুরু এরকম যাচ্ছেতাই উল্টো-পাল্টা ভাবেই।

swim-2105715_1920.jpg
Source

সমস্যা যেদিন আসে সব মনেহয় একসাথেই আসে। অনেকদিন ধরে বৃষ্টির দেখা নেই। মোটর দিয়ে পানি আসছে তুলনামূলক কম, আজ এসে শুনি পানি একদম আসছেই নাহ,কোনোমতে গোসল শেষ করলাম যাহাকে বলা হয় "কাওয়া গোসল"।
সন্ধ্যার পর যাও একটু বন্ধু-বান্ধব দের সঙে আড্ডা দেই, চা খায় আজ বাধ সাজলো বৃষ্টি। এখন বুঝতেছি না বৃষ্টিকে ধন্যবাদ দিব নাকি গালি দিব। মাটির নিছে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে দুপুরে বৃষ্টির জন্য দোয়া করলাম আর এখন সে এসেছে কিন্তু আমি অখুশি। ভিজে বাড়ি ফিরলাম। যদিও ভালো লেগেছে, অনেকদিন পর বৃষ্টির দেখা পেলাম, একটা সতেজ অনুভূতির ছোয়া।

এরকম হযবরল একটা ২৪ ঘন্টা গেল আমার। এখন শুয়ে শুয়ে ভাবতেছিলাম কি কি হয়েছে আজ। কি আজব একটা দিন গেল। হাহাহা। খাওয়া-দাওয়া সব শেষ করে ভাবলাম এই উল্টো-পাল্টা দিনটাকে লিখে রাখি। অনেকদিন যাবত রোবটিক এক রুটিনের পর আজ কিছু হযবরল অবস্থা হয়েছে। যাইহোক দিনশেষে বৃষ্টি এখনো হচ্ছে, সতেজ ঠান্ডা বাতাস আসছে আর আমি লিখছি। এরকম আবহাওয়া খুবই উপভোগ্য। একটা মুভিও নামিয়ে রেখেছি যদিও সেটা থ্রিলাম ভাবছি এরকম রোমান্টিক একটা ওয়েদার রোমান্টিক মুভি দেখা উচিত। ধুর আমিতো আবার সিঙ্গেল, যাজ্ঞে দেখা যাক কি করি। আবারও যন্ত্রণায় পরে গেলাম নাকিরে বাবা।

হযবরল | Ecency