"দাগ থেকে যদি দারুন কিছু হয় তাহলে তো দাগ ই ভালো।"
আমাদের টিভি চ্যানেলের বহুল প্রচারিত একটি সম্প্রচার এটি। ছোট থাকতে খেলতে গিয়ে যখন কাপড় চোপড় ময়লা করে বাড়ি ফিরতাম তখন এরকম কিছু উক্তি দিতাম আম্মুর জন্য, আম্মু রেগে গেলেই উলটো ভো-দৌড় দিতাম। আসলে ওইসময়ের কোনো কিছুর সাথেই এখন তুলনা করলে হবেনা। সেসময় টা ছিল সোনালী অতীত যা কখনো ফিরে পাওয়া সম্ভব হবেনা আর।
মূল কথায় আসা যাক। গত কয়েকদিন ধরে পুরো দেশে যা নৈরাজ্য হচ্ছে তা আর কারো জানার বাকি আছে বলে আমার মনে হয়না। আমার প্রিয় শহরটাও দাও দাও করে পুরেছে। এখনো শহরের আকাশে বাতাসে সেই পোড়া গন্ধের আবাস রয়ে গিয়েছে। আছে সেই ধ্বংসযজ্ঞের ছাপ। যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা মনে হয়না তাড়াতাড়ি পোষানো যাবে, এগুলোর রেশ কবে নাগাদ শেষ হবে তা কারো জানা নেই। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন, সোশ্যাল মিডিয়া ও সমস্যা করছে, ইলেক্ট্রিসিটি ও বার বার বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। এগুলো ছাড়া বর্তমান জীবন কি দুর্বিষহ তা সবার জানা।
এত কিছুর পরও গতকাল রাত থেকে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন। এর আগে কখনো এরকম হয়নি।সকালে বাইরের নাস্তা, দুপুরে কি হবে? আজ শবে-ই-বরাত সবাই রোজা রাখে নি, বিশেষ করে বাচ্চা-কাচ্চা গুলা। তো শুরু হলো লাকড়ির চোলায় রান্নার মহা যজ্ঞ। সবকিছু জোগাড় করে শুরু হলো রান্নার আয়োজন। শহড়ের চারদিকে প্রত্যেক বাড়িতেই মোটামুটি যার যার মতো আয়োজন করে নিয়েছে। কোথাও কোথাও কয়েক পরিবার একসাথে মিলে করেছে রান্না-বান্না। খাওয়া দাওয়া ও হয়েছে একসাথেই। এ যেন হঠাৎ এক পিকনিক এর মতো।
সোশাল মিডিয়ার নিউজ ফিডে গত দুই দিনের ধ্বংসযজ্ঞের পর কিছু ভালো জিনিস আসছে, সবাই তাদের পরিবার - প্রতিবেশী দের নিয়ে আয়োজন করছে। যা ভয়-ভীতি ও আতঙ্কে ছিল তা একটু ভুলে কিছুটা আনন্দের সময় পার করেছে। যদিও গ্যাস নেই, অনেকের জন্য কষ্টকর ছিল। বাহির থেকে খারার কিনে এনে খেতে হয়েছে কিন্তু বেশিরভাগই কিন্ত নিজেদের মতো আয়োজন করে নিয়েছে। লাকড়ির চুলায় রান্না কিন্তু বেশ কষ্টের কিন্তু তারপরও সবাই মিলেমিশে করলে এক আলাদা আনন্দ রয়েছে যা বহুদিন পর সবাই উপভোগ করেছে।
আমাদের জীবনে এরকম মন্দের ভালো অনেক কিছুই ঘটে যায় যেগুলো আপাতদৃষ্টিতে মন্দ লাগলেও কিন্তু ভালো কিছু বয়ে আনে। যদি বলা হতো একদিনের জন্য গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে তাহলে দেখা যেত বিক্ষোভ আর ট্যানশনে জাতি শেষ হয়ে যেত, কিন্তু হুট করে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রিয়েক্ট না করে ব্যবস্থা করে ফেলেছে যেটা উল্টো ভালো কিছু বয়ে এনেছে। যাইহোক গ্যাস সংযোগ আবার স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে, সবকিছুর ই একটা সীমা থাকে,সুতরাং ধৈর্য্যের সীমা অতিক্রম করার আগেই সমস্যা সমাধান হয়ে গিয়েছে,আলহামদুলিল্লাহ।
এখন একটা ই দোয়া আমার শহড়টা খুব দ্রুতই আবার সুস্থ হয়ে উঠুক। দূর হয়ে যাক এসব কালো মেঘ। ক্ষয়ক্ষতি গুলো পুষিয়ে উঠুক সবাই এইটায় কামনা।