অনাকাঙ্ক্ষিত মোড়গুলো -অপুর সংসার (১৯৫৯)

Words
506
Reading
3 min
Listen
Play
6y

আমাদের চারপাশে পড়ালেখা শেষ/করছে এমন ছেলেপুলেদের অভাব নেই, একটা চাকরি তাদের কাছে কতটা গুরুত্ব রাখে তা বলার অবকাশ রাখে নাহ। মাসের পর মাস বাসা-ভাড়া জমে থাকা, আর বাড়িওয়ালার কটু কথা এ যেন নিয়মিত চিএ। কিছুটা এরকম এভাবেই অপুর আবির্ভাব হয়েছে।

যেখানে মেট্রিক পাশ চাকুরির রিকুয়ারমেন্ট সেখানে অপু ইন্টার পাশ হয়েও তার এপ্লাই করে কিন্তু মাইনে যে খুবই কম তার তুলনায়। পলু,অপুর বন্ধু এসেছে তার কাছে। একটা অফিসে ক্লার্ক হিসেবে যোগ দেওয়ারও প্রস্তাব দেয় কিন্তু অপুর সেটা জমেনি।পলু তার মামার বাড়ি বিয়েতে যাবে সঙে নিয়ে গেলো অপুকে।

মাসখানেক আগে একটা দুঃস্বপ্ন দেখেছিলাম, হঠাৎ বিয়ে হয়ে যাচ্ছে আমার আর এতে আমার একটুও মত নেই। ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিয়ে যাকে বলে।ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠলাম। এমনই কিছু একটা অপুর সাথেও ঘটেছে। যার বিয়েতে এসেছে সে মেয়ের বিয়ে ভেঙে যায় আর সেই সমাজে বিয়ে ভেঙে গেলে আর মেয়ের বিয়ে হয় নাহ, অপুর কাছে মিনতি আসলো বিয়েটি করে নেওয়ার মেয়ের জীবন টা বেচে যাবে। এমন সিচ্যুয়েশনে আমি কখনোই পড়তে চাবো নাহ। বিয়ের দাওয়াত খেতে এসে বিয়ে করতে হবে এমন পরিস্থিতি না আসুক। আপু রাজি না থাকলেও পরে সম্মতি জানায় বিয়ের জন্যে।

হঠাৎ বিয়ে ছেলে মেয়ের অবস্থান ভিন্ন।অপুর কেউ নেই,সে একা শহরে একটা ঘর ভাড়ায় থাকে। অপর্না, সেখানে গিয়ে কীভাবে মানিয়ে নিবে তা নিয়েই প্রথম রাতে অপু আর অপর্নার আলোচনা, অপর্না তাতে সায় দেয় এবং চলে আসে অপুর সাথে শহরে। অপুর দারিদ্রতা তাদের মাঝে ভালোবাসা তৈরিতে বাধ সাজে নি। সকালে ঘুম থেকে উঠে সিগারেটের প্যাকেট টা হাতে নিতেই একটি চিরকুট যাতে মধুর ভাবে," খাবার এর পর একটা খাবে,কথা দিয়েছ। " লিখা, অতিরিক্ত টাকা উপার্জনে টিউশন একটা বাড়িয়ে রাতে আসতে দেরি হবে বিধায় অপার্নার উওর আসে,

-যে টিউশনিটা আছে সেটাও ছেড়ে দাও।
-তারপর?
-তারপর আমার গরিব বর সন্ধ্যার মধ্যেই বাড়ি ফিরে আসবে। আর আমার কোনো অনুশোচনা থাকবে নাহ।

Screenshot_20210211143642654_com.mxtech.videoplayer.pro.jpg
screenshot was taken from the movie.

দুমাসের জন্যে অপর্নার বাবার বাড়ি গমন,সপ্তাহে দুটো করে চিঠি পাঠানোর কথা দিলেও অপু যে বড়ই মিথ্যুক সে মাসে পাঠিয়েছে মাএ সাতখানা যেখানে পাঠানোর কথা আটখানা। অপর্না খুবই ঈর্ষান্বিত তাদের পাশের বাড়ির মেয়েটিকে নিয়ে, কারণ সে যে রোজ অপু কে দেখার সুযোগ পাচ্ছে কিন্তু অপর্না পাচ্ছে নাহ,তাইতো চিঠিতে শক্ত করে লিখে দিয়েছে জানালাটা বন্ধ রাখার জন্যে।এরকম মিষ্টি মধুর ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি সত্যিই মন ছুয়ে যাওয়ার মতো।

শেষাংশ টি কিছুটা অন্যরকম, কিছু মান অভিমান। ভালোবাসার মানুষের বিচ্ছেদ কিরুপ প্রভাব ফেলে তার প্রতিচ্ছবি দেখা যায়।সবমিলিয়ে দারুন একটা মুভি।

যখন শুরুর দিকে অপুর নোবেল লিখার প্রতি আকর্ষণ প্রকাশ পায় ভেবেছিলাম এটা তার টার্নিং পয়েন্ট হবে, আত্মজীবনি থেকে থেকে নোবেল বানিয়ে ফেলবে,তবে তার জীবনের গল্পটি কোন একটি উপন্যাসের চেয়ে কম ছিলনা। যার জীবনে প্রেম নেই সেও নাকি প্রেম নিয়ে উপন্যাস লিখে ফেলবে বলে ঠাট্টা করলেও পরমুহূর্তে তার ভালোবাসার প্রকাশ দেখেই বাহ! বাহ! দিতে হয়েছে। যেই ক্লার্কের চাকরিটা করবেনা বলে না বলে দিয়েছিল অবশেষে তাই জীবন ধারনের জন্য করতে হলো খুশিমনে।

আমাদের জীবনেও অনেক কিছুই হুটহাট ঘটে যায় যা জীবনের মোড় ঘুড়িয়ে দেয়। অপুর জীবনে অপর্নার আগমন এরকম এক অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে ঘটেছে। তার চলে যাওয়াটাও ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা গুলো হঠাৎ ই আমাদের জীবনে মধ্যে আমূল পরিবর্তন বয়ে আনে। জীবনের ইচ্ছা/লক্ষ্যে পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়ে যায়, যেমনটা আমরা দেখতে পায় অপু তার উপন্যাসের বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে। তবু জীবন বয়ে চলে আপন গতিতে নতুন কিছুর সঙে সন্ধি করে।

.

অনাকাঙ্ক্ষিত মোড়গুলো -অপুর সংসার (১৯৫৯) | Ecency