আমার রাজ্যে আমিই রাজা

Words
433
Reading
2 min
Listen
Play
6y

বলা হয়ে থাকে শিশুদের মন মাটির ন্যায়। এই বয়সে তাদেরকে যেভাবে খুশি সেভাবে গড়ে তুলা যায়। ঠিক তাইতো। মুক্ত এই মন গুলো তাইতো তাদের রাজ্য গড়ে তুলছে,যে রাজ্যর নির্মাতাও সে নিজেই রাজাও সেই নিজেই৷ একের পর এক টুকরো জোড়া লাগিয়ে সে গড়ে তুলছে তার কল্পনার রাজ্য,তার কল্পনার বাস্তব খেলা।আসলে তাদের কাছে এটাই আনন্দ, এটাই জীবন, এটাই সত্য।

IMG_20200917_10562701.jpeg

আমার ভাতিজা, চাচ্চু চাচ্চু ধ্বনিতে চারদিকে সোরগোল শুরু হয়ে যায় আমার দর্শনেই।

চাচ্চু আমি টিইন বানাইছি, তুমি বসো।বাবার কাছে যাবো।

তার ছোট্ট মনে এখনো ট্রেইনের সঠিক উচ্চারণ টি আসেনি । যেমন কার্টুনকে এখনো সে বাটুন বলে ডাকে। হাহাহা।সে শুধু জানে তার বাবা এই ট্রেইনে করে আসে আবার কিছু সময় পর এর মাধ্যমেই তার থেকে দূরে চলে যায়। হাতে তখন রাজ্যের মজার জিনিস থাকলেও তার কান্না যে থামে নাহ। আসলে ছোট্ট এই অবুঝ ভালোবাসা গুলো এরকমই হয়।

এই অবুঝ মনগুলো একটা সময় বড় হয়ে উঠবে, অনেক বড়।মুখের শব্দগুলো আর তখন ভুল হবেনা,হবেনা এইরকম কান্নায় জর্জরিত হয়ে কোনো বায়না। তবে তখনও কি নিজের রাজ্য ভুলে যাওয়া উচিত? মোটেও নাহ। সোশ্যাল মিডিয়া তে বহুদিন আগে একটি ছবে ভেসে বেড়াতে দেখেছিলাম সেখানে একটি রিকশাচালক তার রিক্সায় বসে পায়ের উপর পা দিয়ে চা খাচ্ছে।তার চোখে মুখে তৃপ্তির হাসি যা হাজার টাকায় ও কেনা সম্ভব নয়। বড় হয়েছি তাতে কি, আমাদের কল্পনার রাজ্য তো আর ধ্বংস হয়ে যায়নি। নিজের মতো করে গড়ে তুলবো সেই রাজ্য। প্রতি মুহূর্তে তার প্রতি দৃঢ় মনোবল পোষন করে তা বাস্তবায়নে সর্বদা সচেষ্ট থাকবো।

হ্যা,আমার ও একটি কল্পনার রাজ্য আছে।যেখানে আমি একটি স্বাধীন পাখি।আমার একটি নিজস্ব আত্মপরিচয় আছে। আমি ভালোবাসি আমার পরিবার,আমার শুভাকাঙ্খীদের যাদের নিয়ে গঠিত আমার সেই রাজ্য। নেই কোনো দুঃখ, নেই কোন বেদনা, থাকবে না কোনো অভিযোগ। সবাই আমরা মিলেমিশে একহয়ে ফিরে যাবো সেই শিশু বয়সের সেই নিস্বার্থ বন্ধন গুলোর কাছে।আচ্ছা এমন কেন হয়না যে আমরা আমাদের কাল্পনাকে বাস্তবের মতো উপভোগ করতে পারবো। হয়তোবা এতে কল্পনার রাজ্য তার মাধুর্যতা হারাতো। অন্ধকার আছে বলেই যেমন আলোর পার্থক্য বুঝা যায় তেমন কঠিন বাস্তবতা আছে বলেই কল্পনার রাজ্য এরুপ মধুর সাম্রজ্য সৃষ্টি করা সম্ভব,যা বাস্তব জীবনে খুবই কঠিন যাএা।

IMG_20200917_10551001.jpeg

ভালো লাগে কল্পনার রাজ্য ঘুরে বেড়াতে।সত্যি, বাস্তবের অসফলতা গুলোকে খুবই তুচ্ছ মনে হয় সেখানে।একরাশ শান্তির ছোয়া ছুয়ে যায় হৃদয় জুড়ে।আমি মাঝে মাঝেই আমার ভাতিজার সাথে তার রাজ্য খেলতে বসে পড়ি।সারাক্ষন শুধু মখে একগাল হাসি আর তার সাথে খুনসুটি, তখন আমার নিজের রাজ্য ঘটে যাওয়া ভালো-মন্দ বিষয়গুলো তুচ্ছ মনে হয়। ইচ্ছে হয় ওর সাথেই খেলতে থাকি,এইতো সময় যাচ্ছে বেশ। এইতো আমি উপভোগ করছি,এইতো আমার আনন্দ, এইতো আমি আমার সেই অবুজ আমিটাকে খুজে পেয়েছি,এইতো আমি আমার সেই ছোট্ট রাজ্যের রাজার সিংহাসন ফিরে পেয়েছি।


সত্যি এই সময়গুলো খুবই আনন্দদায়ক। নিজের উপলব্দি থেকে লিখা। আশাকরি সবাই তার নিজের রাজ্যে রাজা হওয়ার একটু সময় বের করে ডুব দিবেন। ধন্যবাদ সময় নিয়ে লিখাটি পড়ার জন্য।

আমার রাজ্যে আমিই রাজা | Ecency