দুধ কচু বা (দস্তার) সুস্বাদু রেসিপি,একবার খেলে বারবার খেতে মন চাইবে।
আসালামুআলাইকুম,
আমার নতুন রেসিপির নাম হচ্ছে সুস্বাদু দুধ কচু ভুনা।
সাধারণত আমরা সবাই কচু খেতে পছন্দ করি।বিশেষ করে যে কচু গুলো বাজারে পাওয়া যায়।তবে দুধ কচু সচরাচর বাজারে কম পাওয়া যায়।আবার পাওয়া গেলেও আমরা ভয়ে কিনি না।কারণ এই কচু রান্না করে খেলে প্রচুর গলা চুলকায়।দুধ কচু যদি ভালো ভাবে রান্না করা হয় তাহলে গলা চুলকানি ভয় থাকে না।দুধ কচুর পাতা,কচুর ডগা,এবং কচুর মূল খাওয়া যায়।
আর দুধ কচুতে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি এবং ঔষধি গুন যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারি।
আমার ঘরে মাসে একবার হলেও রান্না করে খেয়ে থাকি।আমার দুধ কচুর ভুনা খুব খুব ভালো লাগে।
তাহলে কথা না বাড়িয়ে, চলুন আমি কি ভাবে সুস্বাদু দুধ কচুর ডগা ভুনা করেছি।তা আপনাদের ধাপে ধাপে দেখায়।
উপকরণ
দুধ কচুর ডগা 5-টি,
কাঁচা মরিচ 5-6 টি,
পেয়াজ 4-টি,
রসুন বাটা 1-চামচ,
আদা বাটা 1/2 চামচ,
হলুদ গুড়া 1/3 চামচ,
জিরা,ধনিয়া গুড় 1/3 চামচ,
দারুচিনি 2-টুকরো
এলাচি 3-4 টি,
তেজপাতা 3-টি,
সয়াবিন তেল 4-চামচ,
লবণ স্বাদ মত,
প্রস্তুত প্রণালী
প্রথমে দুধ কচুর ডগা গুলো টুকরো করে। কচুর ডগার আঁশ গুলো ছিলে নিবো।তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে নিবো।
দুধ কচুর ডগায় প্রচুর আঁশ থাকে তাই ভালো করে ছুরি সাহায্যে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
ডগা গুলো আঁশ পরিষ্কার করা হলে,সবজি কুচি করার মেশিন দিয়ে চিকন করে কুচি করে নিবো।
আপনারা চাইলে বটি দা অথবা ছুরি দিয়ে কুচি করে নিতে পারেন।
কচুর ডগা কুচি করা হলে,কুচি করা দুধ কচু গুলো একটা পাতিলে নিবো সিদ্ধ করার জন্য।কচু কুচি সিদ্ধ করার সময় অলপ হলুদ গুড়া,লবণ দিতে হবে।চুলার মাঝারি আঁচে দুই মিনিট সিদ্ধ করবো।
তবে দুধ কচুর সিদ্ধ না করে লবণ দিয়ে মেখে পানি ফেলে দিলে গলা চুলকাবে না।আমি সিদ্ধ করে পানি ফেলে দিবো।
দুই মিনিট পর কচু গুলো একটা ঝুড়িতে নিয়ে।কচুর পানি চামচ দিয়ে চেপে ফেলে দিবো।
তারপর চুলায় একটা প্যানে চার চামচ সয়াবিন তেল দিবো।তেল গরম হলে পেয়াজ,কাঁচা মরিচ কুচি,তেজপাতা,দারুচিনি,এলাচি দিয় ভাজবো।
পেয়াজের রং হালকা বাদামী হলে। আদা,রসুন বাটা সহ একে একে সব মসলা এবং লবণ দিয়ে পেয়াজের সাথে ভাজবো।
মসলা ভাজা হলে,অলপ পরিমাণে পানি দিয়ে সব মসলা কিছুক্ষণ কষাবো।
আমি দুধ কচুর ডগা রান্না করেছি শুধু কাঁচা মরিচ দিয়ে।আপনারা চাইলে শুকনো মরি অথবা লাল মরিচ গুরা দিয়ে রান্না করতে পারেন।
মসলা কষানো হলে।সিদ্ধ করে রাখা দুধ কচু গুলো প্যানে দিবো।
তারপর চামচের সাহায্যে দুধ কচু গুলো মসলার সাথে মিশে নিবো।অলপ পানি দিয়ে দশ মিনিট রান্না করবো চুলার মাঝারি আঁচে।
কচু রান্না সময় কিছুক্ষণ পর পর নেড়েচেড়ে দিতে হবে।খেয়াল রাখতে হবে প্যানে যেনো লেগে না যায়।
দশ মিনিট পর,দুধ কচুর ঝোল শুকিয়ে ভুনা হলে চুলা বন্ধ করে দিবো।
দুধ কচু এইভাবে রান্না করে খেলে গলা চুলকানোর ভয় থাকবে না।
দুধ কচুর এই রেসিপি টি গরম ভাতের সাথে খেতে খুব ভালো লাগে।আর এই ভাবে দুধ কচুর ডগা রান্না করে খেলে মাছ,মাংস লাগবে না।কচু দিয়ে মন ভরে ভাত খেতে পারবেন।
আপনাদের যদি আমার রান্না করা এই রেসিপিটি ভালো লাগে। ঘরে অবশ্যই রান্না করে খেয়ে দেখবেন।আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।
ধন্যবাদ,