Tholi Prema(২০১৮) মুভি রিভিউ:-
প্রেমের আখ্যান তার প্রতিলিপির স্মারকচিহ্ন প্রতিনিয়ত নতুনরূপে সতেজতার সৌরভ ছড়িয়ে যায়। প্রেম পেতে মরিয়া কিংবা প্রেম হতে বিমুখী ব্যক্তি ও কখনো উপলব্ধি করতে পারে না যে, কিভাবে প্রেম তার অনুলিপির মোহনীয় ধারায় মনে গেঁথে যায় অজানা প্রতিমূর্তির প্রতিচ্ছবি। ক্ষণিকের মধ্যে সম্পূর্ণ অপরিচিত কেউ হয়ে উঠে অতি আপন কেউ। যার মুখের কোণে এক চিলতে হাসির জন্য পার্থিব সব পাগলামো ও যেন জায়েজ হয়ে দাঁড়ায়।
ভালোবাসায় মত্ত্ব মন কি কখনো পরিমাপক যন্ত্রের মত তার কপোত/কপোতী কে ভালোবাসতে পারে কি? তা কখনোই হতে পারে না। কেননা সে ভালোবাসায় স্বার্থ নয় বরং ভালোবাসার মানুষটির জন্য নিঃস্বার্থ হতে চায় মন। সেথায় সামান্যতম ত্রুটি হলেও ভালোবাসার মানুষটি কে আগলে রাখতে প্রয়োজনে দুনিয়ার সাথেও লড়তে সদা প্রস্তুত হয়ে যায় প্রেমে মত্ত্ব সে মন।
এতকিছুর পরেও কি বিরহ কি বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় না কপোত-কপোতীর সম্পর্কে!!! যদিও বিরহের ঘনকালো ছায়া সম্পর্কে ছেয়ে যায়, সেথায় ও থাকে অহমের চাদরে লুকায়িত অপার স্রোতসমৃদ্ধ ভালোবাসা।
আজকের আলোচিত গল্পটি ফুটে উঠেছে আদিত্য ও বর্ষার প্রেমের গল্পকে ঘিরে। যেথায় আদিত্য চিরায়ত রোমান্টিক গল্পের নায়কের মত তার নায়িকা কে খুঁজে পায় ট্রেনে। সেথায় দুষ্ট-মিষ্ট বর্ষাকে পটানোর চেষ্টায় মেতে উঠে আদিত্য। কেননা আদিত্য প্রথম দেখাতেই বর্ষাতে ফিদা হয়ে গেছে। আদিত্য একটা সময় ভালোবাসি কথাটা জানালেও বর্ষা এতে কোন মত জানায় না। বরং বর্ষা জানায় সকালে আদিত্য কে প্রতিউত্তরের ব্যাপারে জানাবে। অথচ সকালে আদিত্য ট্রেনের কোথাও খুঁজে পায় না বর্ষা কে।
ভার্সিটিতে নতুন ভর্তি প্রাক্কালের সময় হয়ে এসেছে অথচ আদিত্যের মন থেকে এখনো বর্ষার ছবি যেন হারাতেই চাইছে না। অনেকটা নাটকীয় ভাবে বর্ষা ও সে ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে। আদিত্য ব্যাপার টি জানতে আবারো পুরনো প্রেমালাপ নিয়ে বর্ষার সাথে বন্ধুত্ব আরো গাঢ় করতে থাকে। বর্ষা ও একসময় জানিয়ে দে, আদিত্যকে সে ভালোবাসে।
কিন্তু একটা ঘটনার জের ধরে আদিত্য বর্ষার সাথে তাদের সম্পর্ক ছেদ করে দূরে চলে যায়। বর্ষার মনেও আদিত্য নামের প্রতি রিক্ততা জমতে শুরু করে।
যদিও খুব একটা টিপিক্যাল গল্পের মত শোনাচ্ছে, তবুও গল্পটি দেখানোর ভঙ্গি মোটেও বিরক্তির সঞ্চারণা জাগায় নি। বরং চেনা গল্প দেখতেও ভীষণ ভালো লাগার রেশ মনে গেঁথে যাবে।
ভারুণ তেজ ও রাশি খান্নার কেমেষ্ট্রি ও দূর্দান্ত লাগবে। যদিও দুজনের অভিনয়ে বেশ ঘাটতি এখনো পরিলক্ষিত। তবুও গল্পের সাথে মোটামুটি ভালোই মানিয়ে নিয়েছে তারা নিজেদের।
সিনেমার গানগুলো ও ছিল চমকপ্রদ। প্রত্যেকটি গান সিনেমার সাথে দারুণভাবে ক্ষাপ-খাইয়ে গিয়েছে।
আপনি যদি রোমান্টিক সিনেমাপ্রেমী হয়ে থাকেন, তাহলে সিনেমাটি আপনার খুব ই ভালো লাগবে। হয়তো আপনার জীবনের প্রেমের কোন প্রতিচ্ছবি গল্পের কোন সময়ে ফুটিয়ে উঠেছে বলে অভিহিত করতে পারবেন।
আগ্রহীরা চাইলে ইউটিউব কিংবা টরেন্ট থেকে হার্ডকোডেড ইসাব সহ মুভিটি ডাউনলোড করে দেখে নিতে পারেন।