আজকে নতুন আরেকটি কবিতা নিয়ে এসেছি। আজকে আমার লেখা স্বরচিত কবিতার নাম পল্লী বালিকা। গায়ের পথে মানুষের অনেক স্মৃতি থাকে সেই স্মৃতি থেকে এই কবিতা। চাকুরীর পাশাপাশি আমি লিখতে পছন্দ করি তাই আজকে আরেকটি কবিতা শেয়ার করলাম আমার নিজের লেখা।
গায়ের পথে হেঁটে যাওয়ার সময় সেই বালিকা কে ঘিরে সেই স্মৃতিগুলো মনে পড়েছিল তাই এই কবিতাটি লেখা। মূল কবিতাটি শুরু করলাম:
পল্লিবালিকা
Image
একদা ভ্রমেছিনু গাঁয়ের পথে
পল্লিবালিকা এক দেখেছিনু প্রাতে।
ঝরা বকুল হাতে সেই বালিকা
প্রফুল্ল বদনে গাঁথে মালিকা।
ভোরের বাতাসে ওড়ে খোলাচুল
কণ্ঠেতে মালিকা, দু’কর্ণে দুল।
অভিরাম অঙ্গেতে নীলাভ বসন
হস্তে শোভিছে তার শুভ্র কাঁকন।
সুকোমল দু’চরণ নূপুরে শোভিত
মনোহর আঁখি তার হরিণীর মতো।
রূপের দীপ্তি গেছে অধরে বহিয়া
নয়নে রেখেছি নয়ন কেঁপেছে হিয়া।
এলোচুলে বালিকা চলছে নীড়ে
মৃদু হাসি অধরে, চায় ফিরে ফিরে।
অপলকে দেখেছি সেই চপলা
হৃদয়ের কথাটি হয়নি বলা।
বহুদিন পর আজ সেই চেনা পথে
কে কোথায় চলে গেছে সময়ের স্রোতে!
চেনামুখ চেনাজন পাই না খুঁজি
প্রাণের কথা কারে শুধাই আজি ?
চলছি পথে একা, বেলা দ্বি-প্রহর
তেষ্টা পেল বেশ ক্ষণকাল পর।
জলপানে কোথা যাই ভরদুপুরে ?
গৃহদ্বার ফিরি এক, পথের অধুরে।
জল চেয়ে ডেকেছিনু আওয়াজ তুলি
পল্লীবধূ এক, এল দ্বার খুলি।
জলভরা গ্লাস বধূ দিল বাড়ায়ে
চেনা ভেবে ক্ষণকাল আছি দাঁড়ায়ে।
কোথায় দেখেছি তারে ভাবছি শুধু
সেদিনের বালিকাই তবে কি এ বধূ?
রূপ-জৌলুস নেই সেদিনের মতো
সময়ের ব্যবধানে বদলেছে কত!
অবগুণ্ঠিত বদনে কতই না লাজ!
সেদিনের শতরং বিবর্ণ আজ।
চকিত নয়নে চাহি মুখপানে
অতীত ভ্রমণ-স্মৃতি পড়িল মনে।
স্বত্ব: এটি [আব্বাস আলী]-এর স্বরচিত কবিতা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।