গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস

Words
539
Reading
3 min
9y

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস
.......................................

ডায়াবেটিস একটি বিপাকজনিত রোগ।আমাদের শরীরে ইনসুলিন নামক হরমোনের আংশিক অথবা সম্পূর্ণ ঘাটতির কারনে ডায়াবেটিস হয়ে থাকে।গবেষণায় দেখা গেছে যে অন্তত দশ শতাংশ নারীর গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা থাকে।গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের তৈরি, বেড়ে ওঠার জন্য প্লাসেন্টা বিভিন্ন রকমের হরমোন তৈরি করে যার জন্য মায়ের শরীরে বেশি মাত্রায় গ্লুকোজ তৈরি করে।মায়ের শরীর হঠাৎ এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকেনা এবং যথেষ্ট ইনসুলিন রিলিজকরতে পারেনা, ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়তে থাকে আর ফলাফল হিসেবে দেখা দেয় গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিস।যদি গর্ভাবস্থায় প্রথমবারের মতো ডায়াবেটিস ধরা পড়ে, তাকেগর্ভকালীন ডায়াবেটিস (Gestational Diabetes Mellitus বাGDM) বলাহয়।গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে মা ও শিশু দু’জনেরইে ঝুঁকি অনেক বৃদ্ধি পায়। তাই,
গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন সঠিক সময়ে ডায়াবেটিস নির্ণয় ও এর নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস এর ঝুঁকি কাদের বেশি?
..........................................................
• পরিবারের অন্য কোন সদস্যের ডায়াবেটিস থাকলে।
• শরিরের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে।
• যাদের বয়স ২৫ বছর এর বেশি।
• পূর্বে কখনও গর্ভপাত অথবা গর্ভস্থশিশুর মৃত্যুহলে।
• বারবার যোনিপথে ছত্রাকের সংক্রমণ হলে।
• গর্ভথলিতে পানির পরিমাণ বেশি থাকলে।
• পূর্বে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকলে অথবা বেশি ও জনের শিশু প্রসব করলে।
• স্থান ভেদে কিছু কিছু অঞ্চলের মানুষের বেশি হতেপারে যেমন- পূর্বএশিয়া অথবা আফ্রিকাঅঞ্চল।
উপরোক্ত যেকোনো একবা একাধিক ঝুঁকি থাকলে অবশ্যই গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস আছেকিনা তাশনাক্ত করনের জন্য পরীক্ষা করতে হবে।

গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিসের ক্ষতিকর দিক
........................................................
গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিসের ফলে বেশ কিছু সমস্যার সৃষ্টি হতেপারে।
o বাচ্চার আকার বড় হয়ে যায় যা প্রসবের সময় সমস্যা তৈরি করে।
o মায়ের রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া এবং মায়ের প্রি-এক্লাম্পশিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় অনেক।
o সময়ের আগে ও প্রসব শুরু হয়ে যেতে পারে।
o মৃত সন্তান প্রসবের ঝুঁকি বেড়ে যায় অনেক বেশী।
o জন্মের পরে বাচ্চার ও হতে পারে নানারকমের সমস্যা।যেমন, রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যাওয়া, জন্ডিস।তাছাড়া এইবাচ্চাদের ভবিষ্যতে স্থূলতা বাডায়াবেটিস হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের ধরন
...........................................
১ যাদের আগে থেকেই ডায়াবেটিস আছে এবংডায়াবেটিস অবস্থায়ই গর্ভধারন করে।
২।এসকল রোগীর সাধারণত ডায়াবেটিস থাকেনা কিন্তু গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস ধরা পড়ে।এঅবস্থাকে গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস বা জেসটেশনাল ডায়াবেটিস বলাহয়।এটি সাধারনত সন্তানপ্রসবের পর আর থাকেনা।তবে পরবর্তীতে গর্ভধারণের সময় ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেড়েযায়।

গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিসের লক্ষণ
...................................................
এর আসলে নির্দিষ্টকোনো লক্ষণ নেই যা দেখে আপনি নিশ্চিত হতেপারবেন, কিন্তু অনেকেরক্ষেত্রেই নীচের লক্ষণ গুলো দেখাদেয়–
• অতিরিক্ত তৃষ্ণা পাওয়া
• বারবার প্রস্রাব হওয়া
• অস্বাভাবিক ক্লান্তি
• বারবার যোনিমুখে ইস্ট ইনফেকশন বা থ্রাশহওয়া

ডায়াবেটিস শনাক্তকারী পরীক্ষা
............................................
গর্ভকালীনসময়েমায়েররক্তেগ্লুকোজেরমাত্রাস্বাভাবিকেরচেয়েবেশীহলেতাগর্ভকালীনডায়াবেটিস (Gestational Diabetes Mellitus/GDM) হিসেবেধরাহয়।অর্থাৎ, সকালেখালিপেটেরক্তেগ্লুকোজেরমাত্রা৬.১মিলিমোল/লিটারবাতারচেয়েবেশীএবং৭৫গ্রামগ্লুকোজখাওয়ার২ঘণ্টাপররক্তেগ্লুকোজেরমাত্রা৭.৮মিলিমোল/লিটারবাতারচেয়েবেশীহলেতাকেগর্ভকালীনডায়াবেটিসহিসেবেসনাক্তকরতেহবে।এইপদ্ধতিকেবলাহয়Oral Glucose Tolerance Test বাOGTT।
গর্ভাবস্থায়চিকিৎসকেরসঙ্গেপ্রথমসাক্ষাতেঝুঁকিপূর্ণমনেহলেডায়াবেটিসশনাক্তকারীপরীক্ষাওরালগ্লুকোজটলারেন্সটেস্টবাOGTT করেডায়াবেটিসআছেকিনাতাশনাক্তকরতেহবে।এইপরীক্ষারফলাফলস্বাভাবিকথাকলেওপরবর্তীতেগর্ভকালীন২৪থেকে২৮সপ্তাহেরমধ্যেআবারএকইপরীক্ষাকরেগর্ভকালীনডায়াবেটিসেরউপস্থিতিআছেকিনাতানিশ্চিতহতেহবে।

গর্ভকালীনডায়াবেটিসেরচিকিৎসা
.................................................
১।গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের চিকিৎসার জন্য শুধুমাত্র ইনসুলিন ইঞ্জেকশান ব্যাবহার করতে হবে।
২।যাদের গর্ভসঞ্চারের আগেথেকেই ডায়াবেটিস আছে এবং মুখেখাওয়ার ঔষধ ব্যবহার করেন। তাদের ক্ষেত্রে,
গর্ভসঞ্চার হয়েছে বোঝার সাথেসাথেই মুখেখাওয়ার ঔষধ বন্ধকরে ইনসুলিন ব্যাবহার শুরু করতে হবে।
৩।অনেক মহিলার ক্ষেত্রে কোন ও ঔষধের প্রয়োজন হয়না।
শুধুমাত্র খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং মাঝারিধরণের শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরকে সুস্থ্য রাখা সম্ভব।

গর্ভকালীনডায়াবেটিসনিয়ন্ত্রণেরমূলবিষয়
.......................................................
• সঠিকভাবেখাদ্যনিয়ন্ত্রণ
• পরিমিতহাল্কাব্যায়াম
• নির্দিষ্টসময়অন্তরঅন্তরডায়াবেটিসেরমাত্রানিরূপণ
• নিয়মিতগাইনিঅথবাডায়াবেটিসবিশেষজ্ঞেরপরামর্শগ্রহণ।

ডেলিভারীর সময় সতর্কতা
.........................................
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রেওকিন্তু স্বাভাবিক ডেলিভারী হতে কোনও বাধা নেই। যদি মায়ের অনিয়ন্ত্রিতডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, প্রি-এক্লাম্পশিয়া, দীর্ঘস্থায়ী কোনও জটিলতাথাকে, বেশি ওজনের বাচ্চা অথবা গর্ভস্থ ভ্রূণের বৃদ্ধি কম হয়, এসকল ক্ষেত্রেচিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিস্ট সময়ের পূর্বেই (১-২ সপ্তাহ) নরমালঅথবা সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি করে ফেলা উচিৎ।
সবশেষে
....................
গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়েদেরকিছু ব্যপারে সতর্ক থাকতে হবে, যেমন সঠিকভাবে খাদ্য তালিকা মেনে চলা, খাদ্যতালিকায় শর্করা জাতীয় খাবার পরিমিত ও শাকসবজি বেশি বেশি করে খাওয়া, পরিমাণ মতপানি খাওয়া, ভারী কাজ না করা এবং নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করা ইত্যাদি। এসবঠিকভাবে মেনে চললে আপনার সন্তানের স্বাস্থ্যের উপর কোন ক্ষতিকর প্রভাব পড়বেনা

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস | Ecency