শশী আর শেলী বেস্ট ফ্রেন্ড।ওরা স্কুলে একসাথে আসে, এক সাথে বাড়িতে ফিরে, একি বেঞ্চে পাশাপাশি বসে।ওদের নাম গুলোও একি রকম। যারা ওদের এভাবে সব সময় দেখে তারা ভাবে ওরা বোন, না হয় আত্মীয়। কিন্তু শশী দুধে আলতা গায়ের রং,আর শেলী শ্যাম বর্ণ।প্রতিদিন টিফিনের ঘন্টা বাজলে দুই জন টিফিন নিয়ে ওদের ক্লাস রুমের পিছনে বসে খায়। ক্লাস রুমের পিছন বলতে ওদের ক্লাস দ্বিতীয় তলায়। বৃষ্টির পানি যেন নিচ তালার ক্লাস রুমে না ঢুকে তাই ছাদের কিছুটা অংশ বাড়ানো থাকে।কমন রুমের একটা জানালায় গ্রীল নেই। ওরা দুই জন সেই জানালা ডিঙিয়ে ছাদের বাড়তি অংশে বসে টিফিন খায় আর গল্প করে।ক্লাস শুরুর দুই মিনিট আগে চলে আসে।জায়গাটা খুবই বিপদজনক। কিন্তু কেউ জানে না ওরা এখানে বসে খেতে যায়।যাওয়ার সময় কেউ যেন না দেখে এমনভাবে চলে।
এতক্ষণ যাদের কথা বললাম আমি তাদের একজন শেলি।আজ টিফিনের ঘন্টা বেজে উঠার সাথে সাথে শশী একা বেড়িয়ে গেলো।আমি ভাবলাম হয়তো সামনে গিয়েছে। আমি গুছিয়ে টিফিনবক্স হাতে নিয়ে অপেক্ষা করছি। দশ মিনিট হয়ে গেলো শশী আসে না।তারপর ওর ব্যাগ খুলে দেখতে গেলাম টিফিনবাক্স নিয়ে গিয়েছে কিনা।টিফিনবাক্স ব্যাগে নেই। আমি তো সাত পাঁচ ভেবে হয়রান। শশী কি আমার সাথে রাগ করেছে নাকি অন্য কিছু । এইসব ভাবতে ভাবতে কমন রুমের কাছে গেলাম জানালা ডিঙিয়ে যাওয়ার জন্য।
কিন্তু আজ দেরী হয়ে যাওয়ায় প্রচুর লোক যেতে পারছি না। একবার উঁকি মেরে দেখলাম শশী দুই হাঁটুর উপর মাথা দিয়ে বসে আছে।কি হয়েছে আজ শশীর? আমাকে ওর কাছে যেতে হবে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে। তাই কমন রুমের জানায় বসে গেলাম। সবাই যখন গল্প গুজবে ব্যস্ত আস্তে করে নেমে চলে গেলাম শশীর কাছে।টিফিন পিরিয়ড প্রায় শেষ। আমার টিফিন খাওয়া হয়নি।"তুমি আমাকে না নিয়ে চলে এসেছো,তোমাকে খুঁজে আমার টিফিন খাওয়া হয়নি, পিরিয়ড শেষ, তুমি খেয়েছো?" আমি শশীকে এক নিশ্বাসে বললাম। শশী আমার দিকে তাকালো না,কোনো উত্তরও দিলো না। আমি আবার প্রশ্ন করলাম কি হয়েছে তোমার?শশী আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ফেললো।
বলে আমার খুব বিপদ শেলী। জনী আমাকে থ্রেড দিচ্ছে আমাকে বাঁচাও।এরপরের টুকু বলার আগে জনির পরিচয়টা দেই।প্রায় দুই বছর আগে আমরা যখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ি তখন শশী আমাকে বলল "তোমার সাথে একটা কথা আছে"।তুমি তো সারাদিন আমার সাথে কথা বলো।
"এটা স্পেশাল কথা", শশী বলল।
হ্যাঁ বলো।
''আমি প্রেম করি'' শশী বললো।
আমি আকাশ থেকে পড়লাম। মানে কি? ও বলে ''না না একটা ছেলে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছে।শহরের স্কুলে টেনে পড়ে।অনেক বড়লোক ''
আমি বললাম দেখো শশী আমরা অনেক ছোট। তুমি জামাল ভাইকে বলো।শশীর বড় ভাইয়ের নাম জামাল।এরপর এই বিষয় নিয়ে ওর সাথে আমার কথা হয়নি।
প্রায় দুই বছর পর, আমাদের স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের দিন শশী আমাকে বললো জনী আসছে চল দেখা করে আসি।
ওর সাথে এখনো তোমার যোগাযোগ আছে?
শশী বলে," না নূরের কাছে গতকাল বলেছে আজ দেখা করতে কি নাকি কথা বলবে।"
আমরা গেলাম জনী একগুচ্ছ গোলাপ দিলো।ও নিলো।আর কি বলেছে আমি শুনিনি।
আজ হঠাৎ এ কথা বলছে।আমি জিজ্ঞেস করলাম কি থ্রেড দিচ্ছে। এখন শশী বলতে শুরু করলো।সেদিন তোমাকে বলার পর তুমি তো ভাইয়া কে বলতে বলেছো, তাই তোমাকে বলিনি । জনী বলেছিলো আমাকে খুব ভালোবাসে। তাই আমি ওর সাথে সম্পর্ক করেছিলাম।
আমি ওকে কয়েকটা চিঠি দিয়েছিলাম। এখন জনী আমাকে বলে আমি যদি ওর কথা মতো না চলি চিঠিগুলো আমাদের বাড়িতে পাঠাবে।এখন আমি কি করবো?
একটা বুদ্ধি দাও।আমি বললাম শশী চল আমরা জনী বরাবর একটা দরখাস্ত লিখি।যেনো তোমাকে ক্ষমা করে এই সম্পর্ক থেকে মুক্তি দেয়।আমার এ কথা শুনে শশী কান্না রেখে হাসা শুরু করলো।আচ্ছা আমি ভুলটা কি বললাম দরখাস্তের কাজই চাওয়া তাহলে ক্ষমা চাওয়া যাবে না কেনো।নিচেতো লিখেই দিবো ক্ষমা করিতে বাধিত থাকবেন।তার মানে অবশ্যই ক্ষমা করে সম্পর্ক থেকে মুক্তি দিবে।