গ্রামগঞ্জে কাজ কিংবা পড়াশোনার তেমন সুযোগ থাকে না। তাই গ্রাম থেকে দলে দলে লোক শহরে আসে।কেউ পড়াশোনা করতে আসে আবার কেউ কাজের সন্ধানে। তাহলে এটা খুবই স্বাভাবিক এখানে আসার পর প্রথম দরকার একটা থাকার জায়গা। তাই তাকে প্রথমে বাসা খুঁজতে হয়।যারা মেসে থাকবে তাদের কথা আলাদা।
কিন্তু একটু ভালো মানের বাসা খুঁজতে হলে ফ্ল্যাট বাড়ি দেখতে হয়।এখন সমস্যা হচ্ছে ফ্ল্যাটে কেউ একরুম ভাড়া দেয় না। আবার নতুন নতুন শহরে এসেই আস্ত একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার সামর্থ্য কিংবা প্রয়োজন কোনোটাই থাকে না।আবার অনেকে আছে যারা অনেক দিন শহরে থাকে তারা একটা ফ্ল্যাট নিয়েছে এতে দুইটা কি তিনটা বেডরুম যার সবগুলো হয়তো লাগে না কিংবা লাগলেও না লাগিয়ে মানিয়ে নিয়ে চলে।আবার মধ্যবিত্তের হাতের যা অবস্থা ভাড়া খাতে কয়টাকা কম খরচ করতে পারলে অন্য খাতে একটু মন খোলে খরচ করা যায়। তখন তারা নিজ দায়িত্বে একটা রুম ভাড়া দেয় যা 'সাবলেট' নামে পরিচিত।
এখন যারা সাবলেট ভাড়া দেয় তারা নিজেদের বাড়িওয়ালা ভাবতে থাকে। আর তাদের চেষ্টা থাকে ভাড়ার অধিকাংশ অংশ সাবলেটে যারা থাকে তাদের কাছ থেকে আদায় করবে।আবার যত কম সুবিধা দেওয়া যায়। যেমন রান্না ঘরে কিছু রাখা যাবে না।ড্রয়িংরুম ব্যবহার করা যাবে না।রুম থেকে বের হয়ে পা গুলো যদি মাথায় নিয়ে গেইট পর্যন্ত যেতে পারতো তাহলে হয়তো খুব ভালো হতো।
আমার বড় আপা যখন ঢাকা শহরে পড়াশোনা করতে আসে তখন আমাদের তেমন কোনো নিকট আত্মীয় ছিলো না।আমাদের পাশের গ্রামের এক ভাই তার পরিবারসহ থাকতো। বড় আপা তাদের বাসায় পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতো। এরপর আমি ইন্টার পাশ করার পর যখন ঢাকায় অনার্স ডিগ্রী নিতে ভর্তি হবো তখন বড়আপা একটা রুম নিলো।সেটা এক হুজুরের পরিবারের সাথে। উনি ওনার স্ত্রী আর এক মেয়ে নিয়ে থাকতেন।যখন বড়আপা রুম দেখে নিতে গেলো,তখন মুখ মিষ্টি কথার ফুল ঝুঁড়ি।
আমরা যখন উঠলাম তখন দেখি নিয়মের লিস্ট বানিয়ে রেখেছে। আসলে নিয়ম বললে ভুল হবে অনিয়ম।কারণ নিয়ম সবার সুবির্ধাথে হয় কিন্তু এগুলো সব ওনার স্বেচ্ছাচারীতা।প্রথমে জিজ্ঞেস করলেন আমরা রান্না করবো কিনা।খেতে হলে রান্না করতে হবে।তাহলে চুলা বাবদ দুইশো টাকা দিতে হবে।এ প্রসঙ্গে আবার আসছি তার আগে চুলা সম্পর্কে দুইটা কথা বলতে হবে। নইলে বুঝতে পারবেন না একটা চুলা কিভাবে রুটি-রুজির উৎস হতে পারে।এই বাসাটা ওনারা ভাড়া নিয়েছেন চার বছর হলো।প্রথম থেকেই সাবলেট দিচ্ছেন।
কিন্তু সমস্যা হলো ওনার কোনো সাবলেট তিন মাসের বেশি থাকতে পারেনা।কারণ ওনার নিয়মের নামে যে অনিয়মের শৃঙ্খল তা কারও পক্ষে সহ্য করা সম্ভব হয় না।প্রতি তিন মাস পর পর ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে চুলা বাবদ দুইশো টাকা আদায় করেন। কারণ চুলাটা ওনারা চারশো টাকা দিয়ে কিনেছেন। বুঝতে পারছেন নিশ্চয় কিভাবে রুটি-রুজির উৎস হয়।এবার মূল কথা বলি, রান্না করলে সকাল দশটা থেকে বারোটার মধ্যে করতে হবে আবার সন্ধ্যা পাঁচটা থেকে সাতটা।আর বাকী সময় গুলো ওনার রান্না করার সময়।ঐ সময় আমাদের রান্না ঘরে যাওয়ার অনুমতি নেই।
বাথরুম যেহেতু একটা সুতরাং ওনার কিছু নির্দিষ্ট সময় আছে।কাপড় মেলে দেওয়ার জায়গা আছে সেখানে আমরা কাপড় মেলতে পারবো না।আমাদের ঘরে কিংবা ঘরের সামনে মেলে দিতে হবে।ওনারা ভাড়া দেয় মাসের চব্বিশ তারিখ আমাদের ভাড়া দিতে হবে পাঁচ তারিখের মধ্যে। ওনাদের বাসায় আমরা চার মাস ছিলাম।এরপর আবার নতুন ভাড়াটিয়া ওনাদের বাসায়। অবশ্য এতে তাদের একটু রুটি-রুজির ব্যবস্থা হয়েছে তা মন্দ নয়।
এমন প্রচুর সাবলেট বাড়িওয়ালা দেখেছি। আমি বলছি না সবাই এমন কিন্তু বেশির ভাগই এ রকমই হয়।ওরা বুঝে না আমরাও ভাড়াটিয়া ওরাও ভাড়াটিয়া মিলে মিশে থাকি। না তাহলেতো ওনাদের বাড়িওয়ালা সাজা হবে না।
এরপর আমরা তিন ভাই বোন ফ্ল্যাট নিয়ে আমরাও সাবলেট দিয়েছি কিন্তু আমরা ভাড়াটিয়ায় ছিলাম বাড়িওয়ালা হয়ে যায় নি।তাদের সাথে মিলেমিশে থেকেছি।
নিজের সুবিধার্থে সাবলেট দিয়েছি মানিয়ে চলাটা আমাদের দায়িত্ব।অন্যের বাড়িতে নিজে বাড়িওয়ালা সাজার কোনো মানে হয় না।