আমাদের পাশের বাড়ির এক দাদু আছে।ওনার তিন ছেলে এক মেয়ে। ওনার মেয়ে সবার ছোট সে আমার বয়সী।ওর নাম লিনা।ছোট বেলায় আমরা এক সাথে খেলা করতাম।দাদা অসুস্থ ছিলো। চারটা বাচ্চা। সংসারে খুব অভাব ছিলো। দাদুর বড় ছেলে মিষ্টির দোকানে কাজ করতো।তখন আমাদেরও বাজারে দোকান ছিলো। আমি আর লিনা এক সাথে বাজারে যেতাম।আমি যাওয়ার সাথে সাথে আব্বা বাজার করে দিয়ে দিতেন।
আমি বাজার নিয়ে লিনার কাছে গিয়ে দেখতাম সে দোকানের এক পাশে বসে আছে। ওর ভাই পরে চাল কিনে দিবে।যেদিন আমার ব্যাগে মাছ মাংস থাকতো সেদিন আর অপেক্ষা করতাম না।আর যেদিন তরিতরকারি থাকতো সে দিন ওর সাথে গিয়ে বসতাম।ওর ভাই দোকানে কাস্টমার না থাকলেও বসে থাকতো, দাঁড়িয়ে থাকতো কিন্তু চাল কিনে দিতো না।সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে কখনো আধা কেজি কখনো এক কেজি চাল কিনে দিতো।ঐ চাল নিয়ে আসলে রান্না হবে তারপর খাবে।
এভাবে ওদের দিন চলতো।এরপর ওর মেজু ভাই আর ছোট ভাই একটু বড় হওয়ার পর তিন ভাই বাজারে কাজ করে সংসার খরচের পাশাপাশি কিছু টাকা জমিয়ে ওরা একটা দোকান দিলো।এর কিছু বছর পর আর একটা দোকান দিলো মেজু ভাই। এরপর থেকে ওদের অবস্থা দিনে দিনে অনেক ভালো হয়।লিনা ততোদিনে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে।
ওদের একটা টিনের ঘর বাঁধলো। মাঠে কিছু জমি ইজারা নেয়। তখন মেজু ভাই কে বিদেশে পাঠায়।এর পর ওদের আর ফিরে তাকাতে হয়নি।মেজু ভাই টাকা পাঠায় সেই টাকা দিয়ে বড় ঘর বাঁধে, মাঠে জমি কিনে। আবার ছোট ভাই কে বিদেশে নিয়ে যায়। লিনা এসএসসি পাশ করে ইন্টারমিডিয়েট ২য় বর্ষের ছাত্রী।
বাজারের বড় ভাইয়ের ভাড়া দোকানটা কিনে নিজেদের করে নেয়। সেটাকে বড় করে।বড় ভাইকে বিয়ে দেয়।এবার সংসারে কিছুটা ছন্দ পতন হলো।লিনা আর তার মার সাথে বউয়ের সম্পর্ক ভালো না।এই নিয়ে সংসারে অশান্তি। শ্বাশুড়ী বলে বউ কথা শুনে না।বউ বলে সব কাজ একা করতে হয়। এরপর মেজু ভাই ছুটিতে দেশে আসে সেও বিয়ে করে।
এবার বড় বউ, লীনা আর মা খুব মিল।মেজু বউ একা সব কাজ করে।সবাই ওর সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে। স্বামী বিয়ের একমাস পর চলে গেলো। এভাবে তিন বছর কাটে।তিন বছর পর মেজু ভাই আবার দেশে আসে। এবার মেজু বউয়ের বাচ্চা হবে।মেজু ভাই আবার বিদেশে চলে যায়।মেজু বউ বাচ্চা পেঠে নিয়ে সারাদিন কাজ করে।ঠিক মতো খেতে পারে না।এভাবে আরও তিন বছর কেটে যায়।মেজু ছেলে আবার দেশে আসে।মেজুবউয়ের ছেলের তখন দুই বছর চার মাস বয়স।
এবার মেজু বউ জিদ ধরে বসে আছে বিদেশে যেতে হলে সংসার ভাগ করে যেতে হবে।
লিনারও বিয়ে হয়ে গেলো। মেজু ভাইও বললো এবার সংসার ভাগ করে দিতে।সংসার ভাগ হলো।দুইটা ঘর দুই বউয়ের। মা থাকবে কোথায়?
মেজু ছেলের ঘরে দুইরুম আর বারান্দা।মা সেই বারান্দার রুমে থাকে। ছোট ছেলে দেশে এসে বিয়ে করে।নিজে আলাদা ঘর বানায়।কিন্তু সংসার এখন বউদের। ঘরও বউদের। মা বউদের সাথে ভাগ করে খায়,ভাগ করে থাকে। সংসারে মায়ের কর্তৃত্ব শেষ। একেক বউ একেক রকম কথা বলে।খারাপ ব্যবহার করে।তাই লিনা এখন মাকে নিজের কাছে নিয়ে গেছে। মা এখন লিনার শ্বশুর বাড়িতে থাকে।মাঝে মাঝে বাড়িতে আসে এক,দুই দিন থেকে চলে যায়।
এই গল্পটা লিখার উদ্দেশ্য নারীরা যে নারীদের দ্বারা নির্যাযিত হয় সেটা বুঝানো।যখন যার হাতে ক্ষমতা সে অপর জনকে পিসে মারে।আর নিজের ক্ষমতা জাহির করে।কিছু দিনপর এর রদ বদল হতে পারে সেটা ভাবে না।পুরুষ দ্বারা নারী যতটা নির্যাতিত হয় তার চেয়ে বেশি নির্যাতিত হয় তার মতোই আরেক নারী দ্বারা,এটাই বাস্তবতা।
Image:Midjourny Ai generated