জীবনে চলার পথে অর্থের প্রয়োজন।এই অর্থ আমরা বিভিন্ন ভাবে উপার্জন করি।কেউ ব্যবসা করে, কেউ চাকরি করে,কেউ কৃষি কাজ করে এরকম অনেক কিছু। সব সময় আমাদের খরচ আর উপার্জন এক হয় না। যখন আমাদের উপার্জনের তুলনায় খরচ বেশি হয় তখন আমরা অন্যের কাছ থেকে ধার করি।ধার একবার করা শুরু করলে তা সহজে শেষ হয় না।
২০১৯ সালে আমি একটি ব্যবসা দেই।ব্যবসা খুব ভালো চলছিলো।তাই ঐ বছরের মাঝামাঝি সময়ে আর একটা নতুন শাখা খুললাম। সব ভালোই চলছিলো। কিন্তু ২০২০ সালে করোনা ভাইরাস আসলো।প্রথম একটানা দুই মাস বন্ধ। তখন কোন লোকসান হয়নি।তখন দোকান বন্ধ থাকায় ভাড়া দিতে হয়নি।এরপর দোকান খুলে দিলো কিন্তু কাস্টমার নেই। কারণ মানুষের বের হওয়ায় বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা। তই কাস্টমার আসে কম।এবার আমরা যা খরচ করলাম তাই উঠে না।আবার ভাড়া, বেতন সব মিলিয়ে আমার অবস্থা খুব খারাপ। আবার চাইলেও দোকান বন্ধ করা যাবে না।তাই আমার ছোটো এর কাছ থেকে টাকা নিলাম।এরপর বড়ো আপার কাছ থেকে নিলাম।
দুই টা বছর চলে গেলো এক মাস লাভে গেলে তিন মাস লোকসান। এভাবে বোনদের কাছে থেকে তো ধার নিলাম বাইরে থেকে অনেক টাকা ধার নিতে হলো।এর পর ২০২১ সালের শেষ দিকে সব ঠিক হলো।আমার ব্যবসা ভালোই চলছে।আবার একটা সাল গত হয়ে গেলো আমার ঋণ এখনো শেষ হয়নি।তাছাড়াও প্রতি নিয়তো পাওনাদারদের চাপ তার মধ্যে ব্যবসার উঠা নামা সব মিলিয়ে আমার যেনো পাগল অবস্থা। কারও সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করে না এমন অবস্থা।
একদিন হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে ব্যবসাও ভালো হবে।ঋণ আমাকে যতো যন্ত্রনা দিচ্ছে তা আমি কখনো ভুলবো না।এছাড়াও আমি আমার আশেপাশের সবাইকে বলবো মিতব্যয়ী হতে।যতটুকু উপার্জন ততটুকুর মধ্যে জীবনযাপন করতে। আর ব্যবসা দিতে হলে আগে টাকা জমিয়ে তারপর ব্যবসা পরিকল্পনা করতে।আর ব্যবসায় যেহেতু লাভ লোকসান দুটিরই সম্ভাবনা থাকে তাই ব্যবসা দেওয়ার পরও যাতে কিছু টাকা হাতে থাকে সে ব্যবস্থা করা উচিত। কোনো কারণে লোকসান হলেও যেনো সামলে যায়।ঋণ হচ্ছে একটা রোগ যার কোনো লক্ষণও নাই প্রতিষেধকও নাই,দেখাও যায় না। কিন্তু ভিতর থেকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে দেয়।
বিঃদ্রঃ কথাগুলো আমার বোন (@setararubi) এর।