ভুল করে একবার পথ হারালে সে পথ কখনো খুঁজে পাওয়া যায় না।আমাদের এলাকার এক লোক স্কুলে চাকরি করে পাশাপাশি টিউশন পড়ায়।মধ্য বয়সী লোক তিনটা মেয়ে ওনার। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে এক ছাত্রীর সাথে নাকি পরকীয়া করে। সেই ছাত্রী একদিন বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করলো বিয়ের দাবীতে।তারপর কি করবে এলাকার মানুষ বিয়ে করিয়ে দিলো।
বিয়ের পর এই ছাত্রী তার আগের বউ বাচ্চার সাথে সম্পর্ক রাখতে দিবে না।বড় বউ মেয়েদের নিয়ে বাপের বাড়িতে থাকে। ছোট বউকে নিয়ে তিনি নিজের বাড়িতে থাকেন।এই সংসারে দুই ছেলে এক মেয়ে হয়।ভালোই চলছিলো ছোট বউয়ের সংসার কিন্তু নিজের বড় সন্তানদের কষ্টে রেখে তিনি মনে হয় ভালো ছিলেননা। হঠাৎ একদিন তিনি মারা যান।বড় বউকে সে বয়সে অথৈ সাগরে ভাসিয়ে ছোট বউয়ের হাত ধরে ছিলেন। ঠিক সেই বয়সে ছোট বউকে অথৈ সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে পারি জমাতে বাধ্য হলেন।ছোট বউ অনেক কষ্ট করে ছেলে মেয়েকে বড় করেছে। মেয়েটাকে বিয়ে দিয়েছে।বড় ছেলেটা পড়ালেখা শেষ করলেও ছোট ছেলেটা কলেজে পড়ে।আজ তিনিও চলে গেলেন না ফেরার দেশে।ছেলে দুইটা এখন শুধুই একা।
এটাকে গ্রামের মানুষ একেক জন একেক ভাবে বলে। কেউ বলে প্রকৃতির প্রতিশোধ। কেউ বলে আল্লাহর বিচার আরও অনেক কিছু। আমার কাছে মনে হয় একটা ভুলের মাসুল যা শুধু ওনার জীবনটাকে শেষ করেনি সাথে সন্তানদের কষ্টের কারণ হয়েছে।
শুধু একজন ভুল করেছে সেটা না।মানুষ জেনে না জেনে বুঝে না বুঝে ভুল করে। ছোট্ট একটা ভুল মানুষের জীবনকে শেষ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আমরা যদি সত্য কথা বলি, সঠিক পথে চলি, অন্যকে ঠকানোর চিন্তা মাথায় না আনি তাহলে আমরা ভুল কে এড়িয়ে চলতে পারি।তাতে জীবনও সুন্দর হয়।