পৃথিবীর অন্যান্য প্রাণীর মতো মানুষেরও জৈবিক চাহিদা আছে।জৈবিক চাহিদা বলতে বিপরীত জেন্ডারের প্রতি আকর্ষণ।কিন্তু অন্যান্য প্রাণীদের সাথে এই বেপারে মানুষের পার্থক্য হচ্ছে,অন্যান্য প্রাণীর বিবেক,লজ্জা,শরম এসব নেই।কিন্তু মানুষের বিবেক,লজ্জা,শরম আছে।যার কারণে মানুষ এই জৈবিক চাহিদা বেপারটা গোপন রাখে।অন্যান্য প্রাণীরা যেখানে ইচ্ছে সেখানে নিজেদের চাহিদা পূরণ করে ফেলে কিন্তু মানুষ তা গোপনে করে।এটাই মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য।
মানুষ শুধু এই কাজটা গোপনে করে এমন না,তারা এটাকে গোপনও রাখে।এই বেপারে কোনো আলোচনা তারা জনসম্মুখে করে না।মানে এক জোড়া মানুষ অন্য কারো সাথে এ বেপারে কথা বলে না বা এই সম্পর্কিত যেকোন কথা বলা থেকে বিরত থাকে।
আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে এ বেপারটা আরও বেশি সংবেদনশীল।কোন জ্ঞান আছে এমন মানুষের সামনে জৈবিক চাহিদা বা এ সম্পর্কে কেউ কথা বলে না।ছোট বাচ্চা বা মানসিক রোগী এদের সামনে আলোচনা করাই যায়।যেহেতু তারা বুঝে না।আবার খুব ভালো বন্ধু বা নিকটের মানুষ যাদের সাথে খোলামেলা কথা বলা যায় তারা এসব আলোচনা করে নিজেদেরমধ্যে।আর যারা এই কাজের পার্টনার তাদের কথাতো আলাদাই,তারাতো এ নিয়ে আলোচনা করবেই।কিন্তু তারাও অন্য কারো সামনে করে না,ঐ যে বললাম বাচ্চা আর মানসিক রোগী ছাড়া।
কথাগুলো নিয়ে এতো প্যাঁচানোর কারণ হচ্ছে,এইসব বেপারে মানুষ যখন কথা বলে তখন যদি কোনো কারণে আমি আশেপাশে থাকি,তারা দেখি আমাকে গুরুত্ব দেয় না।আমি সুস্থ সবল মানুষ,আমাকে মানসিক রোগী ভাবার কারণ নাই।তবে হয়তো তারা আমাকে বাচ্চা ভাবে বা ভাবে এ এসব কিছু বুঝবে না।
আমি ডাক্তারি পড়ছি,এমবিবিএস তৃতীয় বর্ষ।এনাটমি মানে শারীরবিদ্যা,ফিজিওলজি এসব প্রথম বর্ষে পড়ে চলে এসেছি।মানুষের জৈবিক চাহিদাতো স্বাভাবিক বেপার তার পুরো শারীরবৃত্তীয়,মানসিক,হরমোনাল মেকানিজমও পড়ে এসেছি।
তা আমি ওদের কিভাবে বুঝায়?
হঠাৎ এই কথা কেনো বলছি?আজ সন্ধ্যায় মোবাইল ব্যাংকিং থেকে টাকা উত্তোলন করার জন্য একটা দোকানে গেলাম।দোকানে প্রথমদিকে কাস্টমার ছিলো,দোকানদার ছাড়াও আরও মানুষ ছিলো।আমি দোকানদারের আসনের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলাম,আর দোকানদারের দিকেই তাকিয়ে ছিলাম আর বিভিন্ন কথা বলছিলাম।এমন সময় আমি বুঝতে পারছিলাম একজন মানুষ দোকানের আশেপাশে ঘুরা ফিরা করছে,তার হয়তো দোকানে আসা প্রয়োজন কিন্তু আসছে না।
একটু পর দোকান খালি হয়ে গেলো।অন্য কাস্টমাররা চলে গেলো।কিন্তু আমার মোবাইল ব্যাংকিং এর কার্যকলাপটা একটু দীর্ঘ ছিলো তাই শেষ হচ্ছিলো না।আমি তখনও ছিলাম।এমন সময় ঐ দোকানের আশপাশে ঘুরতে থাকা মানুষটা চলে আসলো।আমি দোকানদারের আসনের সামনে থাকা টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানদারের দিকে তাকানো।আর ঐ মানুষ দোকানদের বামের টেবিলের ওপারে দাঁড়ালো।আমি আর তাকাইনি,হয়তো ওনাদের প্রাইভেসির বেপার হবে এটা ভেবে।তবে মানুষের চোখ একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকলেও আশপাশে ঝাপসা বুঝা যায়।বুঝা গেলো এই মানুষটা একটা মেয়ে।
কথা শুনে বুঝলাম আধুনিক স্মার্ট মেয়ে।সে দোকানদারের সাথে কোনো একটা কাজের কথা বলতে এসেছে।তবে এতোক্ষণ দোকানের আশপাশে ঘুরা ফেরা করছিলো,কারণ এই কাজের কথা অন্য মানুষের সামনে বলা যাবে না।
সে দোকানদারকে বলছিলো,তাকে যে "সুগার ড্যাডি"র কাছে পাঠানো হয়েছিলো সে কাজে রাখেনি।কারণ তিনি ঐ সময় ব্যস্ত ছিলেন।তো এর পরেরবার আরও ভদ্র কারো কাছে পাঠাতে।আরও অনেক কিছু বললো তারা।
মানে মূল বেপার হচ্ছে,দোকানদার হয়তো এসব অর্থের বিনিময়ে জৈবিক চাহিদা মেটানো মেয়েদের এজেন্ট বা দালাল ধরনের কিছু একটা।তো তারা দুইজন চুপিচুপি এসব নিয়ে কথা বলছিলো।তবে আমাদের সমাজে বা মনুষ্য সমাজে এই কথাগুলো গোপনীয় বিধায় সে অন্য মানুষের সামনে বলবে না বলে অনেকক্ষণ যাবৎ দোকানের বাহিরে অপেক্ষা করছিলো।দোকান থেকে সব মানুষ বের হওয়ার পর সে আসলো,আর তার দরকারি কথাগুলো বলে নিলো।
আরে ভাই,আমাকে কি মানুষ মনে হয় নাই?নাকি আমাকে পাগল মনে হইছে?নাকি আমাকে বাচ্চা,নির্বোধ বালক মনে হইছে?যে আমার সামনে বলাতে সংকোচবোধ করলো না।
এইরকম একটা না প্রচুর ঘটনা আমার সাথে ঘটেছে।আমার সামনে সবাই এইরকম গোপনকথা অকপটে বলে ফেলে,যেন তারা ভাবে আমি কিছুই বুঝি না!