পাখি আমার খুব প্রিয়। এটা আমার আশেপাশে কেউ যদি এক সপ্তাহও থাকে সে জানবে।কারণ জানলা দিয়ে একটা পাখি দেখা গেলে আমি দৌড়িয়ে গিয়ে ভালো ভাবে দেখার চেষ্টা করি।এছাড়াও পাখি নিয়ে প্রতিদিন কোন না কোন বিষয়ে গল্প থাকবেই।
যখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়তাম তখন এস ওয়াজেদ আলীর রাজা গল্পটা পড়েছিলাম। রাজা হারিয়ে যাওয়া পর লেখক যেমন কান্না করে ছিলো এটা পড়ে আমিও কান্না করেছিলাম।লেখক রহিমের বাড়িতে রাজাকে দেখে ডাকার সাথে সাথে যখন কোলে চলে এসেছিলো তখনও আমি কান্না করে ছিলাম।
রহিম যখন ফিরিয়ে দেয় তখন এতো রাগান্বিত হয়ে ছিলাম যে, আমার বেস্ট ফ্রেন্ডকে থাপ্পড় মেরে ছিলাম।ও আমার পাশে বসে গল্প শুনছিলো।
আমার রহিম নামের সব মানুষ কে এখনো চোর মনে হয়।ফিরে আসার দিন রাজাকে খাটাশ খেয়ে নিলো তাতে আমার লেখকের উপর খুব রাগ হয়েছিলো। এর পর এই গল্পটা কোনে দিন পড়িনি। তাও এতো বছর পরও আমি সামান্যও ভুলিনি। মনে পড়লে অজানা একটা কষ্ট আমার হৃদয়কে আজও ক্ষত বিক্ষত করে।
আমি ছোট থেকে অনেক পাখি পোষেছি।একবার আমি একটা দোয়েলের বাচ্চা পৌষতে নিয়ে আসলাম। ওকে এনে খাঁচায় রাখলাম।দোয়েলের বাচ্চা ছোট বেলায় খুব নোংরা করে।খাবারও বেশি খায়।প্রতিদিন এসব নোংরা পরিস্কার করতাম।ঘাস ফড়িং ধরে এনে খাওয়াতাম।প্রায় দুই সপ্তাহ পালনের পর বেশ বড় হয়। পাগুলো সোজা করে খাঁচায় দাঁড়ায়। ভাবলাম এবার পায়ে সুতো বেঁধে উড়তে দেবো।
ঐদিন বিকেলে আমাদের উঠোনে যে কাপড় শুকানোর তার ছিলো তাতে খাঁচা ঝুলিয়ে রাখি।তারপর আমি খেলতে চলে যায়। এসে দেখি চিল্লাচ্ছে। খিদা লেগেছে। খাবার দিয়ে আমি হাত ধুতে চলে গেলাম। ভাবলাম হাত পা ধুয়ে ওকে নিয়ে ঘরে যাবো।যখন নিতে আসলাম তখন দেখি খাঁচায় বাচ্চাটা নেই।খাঁচার দরজা বন্ধই আছে।বের হয়ে যাবে এটা সম্ভব নয়।বেজিতে খাবে এটাও সম্ভব নয়। তারপরও আশেপাশে খুঁজলাম, পেলাম না।এটা আমার জীবনের একটা অমীমাংসিত ঘটনা। যেটা মনে হলে আজও ধুকপুক করে বুকের ভিতর টা।কি হয়েছিলো সেদিন আমার দোয়েল ছানার সাথে।
আমার স্বপ্ন আমি একটা বাগান বাড়ি বানাবো।সেখানে পাখিদের জন্য একটা অভয়ারণ্য বানাবো।জীবনের শেষ অংশটার প্রতিটা বিকেল কাটবে আমার পাখি বন্ধুদের সাথে। সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা সব ভাগাভাগি করে নিবো আমরা।
বিঃদ্রঃ আমার বোনের ( @setararubi ) সাথে ঘটা ঘটনা এটা।