কাজী নজরুল ইসলামের লিচু চোর কবিতার কথা মনে আছে!সেই কবিতার দুইটা লাইন ''পড়বি পড় মালীর ঘাড়েই, সে ছিলো গাছের আড়েই।" হঠাৎ কেনো এই কবিতা কথার বললাম! আমি সাপকে ভয় পাই।এটা আগেও বলেছি।গ্রামে যখন থাকতাম তখন থেকে আমি সাপকে ভয় পাই।ভয় পাই বললে মনে হতে পারে, সাপকেতো সবাই ভয় পায়।কিন্তু আমার ব্যপারটা ভিন্ন। মনে করেন বই এ একটি সাপের ছবি দেখলাম। এই যে এটা ঢুকবে মাথায় আর বের হবে না।সেদিন ঘুমাতে গেলেও সেটাই চোখে ভাসবে।আর যখন ঘুমাতে যায় তখন আমাকে কামড়াতে আসে।সেদিন আমার খুব খারাপ অবস্থা হয়।ঘুমে থেকে কান্না শুরু করি।
এখন তো ডিজিটাল যুগ।আরও সমস্যা। স্মার্ট ফোন একটা তো আছে।হঠাৎ ই চোখের সামনে সাপ চলে আসে।এরপর আমার চোখে শুধু সাপ ভাসে।সাপ যেনো আমার দিকে বড়ো বড়ো চোখে চেয়ে থাকে। আবার চোখ মিটমিট করে। তখন আমার খেতে,ঘুমাতে সব দিকে সমস্যা।
যাইহোক শহরে বসবাসের ফল স্বরূপ জীবিত সাপ দেখার বিরম্ভনায় পড়তে হয় না।কিন্তু গত মাসে একটা কাজে বাইরে গেলাম।সকাল সাড়ে আটটায় বাসা থেকে বের হয়।সাড়ে এগারো টার দিকে বাসায় আসছিলাম। আমাদের বাসার বিপরীত পাশের ফুটপাত দিয়ে হেঁটে বাসার দিকে আসছি।ফুটপাতে পাশে রাস্তায় আমার মনে হলো সাপ।আমি ভবলাম এই চকচকে রোদে রাস্তায় সাপ এটা কি সম্ভব? নিশ্চয় আমার ইমাজিনেশন।আবার একটু পিছনে গিয়ে দেখলাম। নূন্যতম দশফুট লম্বা আর গাছের গোড়ার মতো অজগর। মাথাটা একটা বাচ্চার মাথার মতো বড়ো।
আমি দৌড়িয়ে অপর পাশে চলে গেলাম।মাথা আমার ঘুরছে।এতো বড়ো একটা বিপদ রেখে কিভাবে চলে যাবো।কেউ আনমনে হেঁটে লেজে পা দিলে সেতো গিলে খাবে।পাশে ছিলো এক সরকারি অফিস। অফিসে গিয়ে নক করলাম।এক বৃদ্ধ বের হলো।ওকে বললাম ও ভয় পায়।পরে পাশে একটি দোকান ছিলো ঐ দোকানের লোক পরে অনেককে ডেকে আনলো।আমি তারপর চলে আসলাম বাসায়। পরের কাহিনি আমি আর জানি না। কিন্তু আমার এক সপ্তাহ হয়ে গিয়েছিলো ভয়াবহ।এখনো বাসায় থেকেও মনে হয় এই বুঝি জানলা দিয়ে সাপ ঢুকলো।
(বিঃদ্রঃ এই আমি আমি নই,আমার বোন)