হামিদ সাহেব দাখিল মাদ্রাসার গণিত শিক্ষক।বয়স চল্লিশ হবে। ভালো শিক্ষক হিসেবে বেশ সুনাম। গণিত শিক্ষক তাই প্রচুর ব্যস্ত। সকাল ছয়টা থেকে নয়টা পর্যন্ত বাসায় পড়ান, তারপর মাদ্রাসায় যান দশটায় আবার মাদ্রাসা থেকে ফিরে পাঁচটা থেকে আটটা আবার ব্যাচ পড়ান।ছেলেদের আর মেয়েদের আলাদা ব্যাচে পড়াতেন। সকালে মেয়েদের পড়াতেন। ছয়টার ব্যাচে পড়াতেন দশম শ্রেণির দশ জন মেয়ে।
তাদের একজনের নাম নাসিমা।ফর্সা চিপচিপে গড়ন নাসিমার।একটু নেকা টাইপ মেয়ে। অংক বুঝতে দেরি হলে বা ভুল হলে, স্যাড কিছু বললে কেঁদে ভাসতো।তাই হামিদ সাহেব ওকে একটু বেশি আদর করতো।সেই অষ্টম শ্রেণি থেকে নাসিমা হামিদ সাহের বাসায় এসে পড়ে। ও প্রায়ই বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের ফল পিঠা নিয়ে আসে স্যারের জন্য। স্যারের দুই ছেলে এক মেয়ে। নাসিমা তাদের খুব আদর করে। তাই স্যারের স্ত্রীও নাসিমা কে খুব আদর করে। বাড়িতে পিঠা বানালে কিংবা মেহমান আসলে স্যারের স্ত্রী নাসিমাকে বিকেলে বাড়ি থেকে আসতে বলে।এভাবে প্রায়ই নাসিমা হামিদ সাহেবের বাড়িয়ে এসে থাকতো।
এভাবে একসময় হামিদ সাহেব আর নাসিমার মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এরই মধ্যে নাসিমা একদিন এসে হামিদ সাহেব কে বলে ওর বিয়ে ঠিক করেছে বাবা, এখন কি করবে!হামিদ সাহেব ওকে বলে "বিয়ে ঠিক হয়েছে বিয়ে করবে।আমার বউ বাচ্চা আছে তুমি তো জানো।এছাড়াও তোমার বয়স মাত্র ষোল আর আমার বয়স চল্লিশ। যা হয়েছে ভুলে যাও।" এসব বলার পর নাসিমা বাড়িতে চলে যায়।বাড়িতে গিয়ে জামাকাপড় গুছিয়ে নিয়ে রাতে বাড়ি থেকে পালিয়ে হামিদ সাহেবের বাড়িতে চলে আসে।হামিদ সাহেবের স্ত্রীকে এসে বলে স্যার বলেছে আমাকে বিয়ে করবে।এখন বলে, অন্য কে বিয়ে করতে। আমি স্যারকে ভালোবাসি। অন্য মানুষকে বিয়ে করতে পারবো না।বাড়ির সবাই মিলে বুঝিয়েছে।যাবে না।
নাসিমার বাবাকে খবর দিয়ে আনা হয়েছে। তিনি নিয়ে যেতে এসেছেন কিন্তু নাসিমা যাবে না।অবশেষে নাসিমার বাবা ওকে ত্যায্য করে চলে যায়।এরপর গ্রামের মুরুব্বিরা হামিদের সাথে নাসিমার বিয়ে দেয়।ত্রিশে পা দেওয়া সদা হাস্যোজ্জল , শ্যামবর্ণের সুদর্শনা তরুণী হামিদ সাহেবের বড় বউ।এই ঘটনার পর নিমিষেই তার জীবন থেকে যেনো হারিয়ে গেলো সব রং,সব আনন্দ। আমি তখন খুব ছোট তেমন কিছু বুঝতাম না। তাও মনে আছে ওনার দুঃখ ভরা মুখের সে ছবিটা।
বেঁচে থেকে মরে যাওয়া বুঝি একেই বলে।আমি ভেবেছিলাম প্রথম প্রথম এমন হচ্ছে পরে মন থেকে মেনে নিবে।কিন্তু না তার জীবন থেকে হাসি চিরতরে হারিয়ে গিয়েছে।নাসিমা হামিদ সাহেবের বাড়িতে চার বছর ছিলো। এরপর সে নিজেই ডিভোর্স নিয়ে চলে গেলো।কিন্তু হামিদ সাহেবের বড় বউয়ের হাসি আর ফিরে আসেনি।তার সবই ঠিক আছে শুধু ভালো ভাবে বাঁচতে ভুলে গেলো।
সৃষ্টি কর্তার বিধানে আমি সম্পূর্ণ একমত।তাও মাঝে মাঝে মনে একটা প্রশ্ন জাগে স্বামীর দ্বিতীয় বিবাহ যেহেতু বৈধ তাহলে একজন নারী কেনো তার সতীনকে হাসি মুখে মেনে নিতে পারেনা।কেনো তার সেই মানুষিক শক্তি নেই? জানি তা সৃষ্টকর্তায় ভালো জানেন।