প্রিয়,
পাঠকগণ,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন।
আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো কালকে আমাদের বাড়ীতে তৈরী পিঠের (মালপোয়া)রেসিপি।
কাল পৌষ সংক্রান্তি ছিলো,এইদিনে সকল বাঙালি বাড়িতেই কমবেশী পিঠে তৈরী হয়ে থাকে, কাল আমাদের বাড়িতে মালপোয়া তৈরী হয়েছে আমার আর আমার হাজব্যান্ড এর জন্য। কারণ,এই পিঠেটা আমরা দুজনই খুব ভালো খাই।
আর হয়েছিল সাজ পিঠে।যার রেসিপি আমি আপনদের সাথে আগে শেয়ার করেছি। কাল কে মায়ের (শাশুড়ি) সাথে সাথে আমিও তৈরী করেছি এই মালপোয়া।
কাল দুপুরেই মা কিছুটা আতপ চাল ভিজিয়ে রেখেছিল, মালপোয়া যদিও ময়দা আর সুজি দিয়েও করা যায়, তবে চাল বেঁটে করলে মচমচে থাকে, যেটা খেতে বেশী ভালো লাগে।
দুপুরের ভেজানো চাল গুলো মা সন্ধ্যাবেলা জল ঝড়িয়ে রেখেছিল,এরপর আমি মিক্সিতে কিছুটা গুঁড়ো করে দিয়েছি, আর কিছুটা মা শিলে বেঁটে নিয়েছে। এরপর পরিমাণ মতো চিনি, লবণ, আর জল দিয়ে ব্যাটার তৈরী করেছে। ব্যাটারটা খুব বেশী পাতলা করলে মালপোয়া গুলো ফুলবে না আবার বেশি ঘন হয়ে গেলেও ভেতরে কিন্তু কাঁচা থেকে যাবে। তাই আন্দাজ মতো গুলে নিতে হবে। মালপোয়ার মধ্যে মৌরী একটা খুবই জরুরী উপাদান। সকলে সেটা ব্যবহার করে কিন্তু আমার হাজব্যান্ড একদমই পছন্দ করে না তাই আমাদের বাড়ীর মালপোয়ায় মৌরী ব্যবহার করা হয়না।
এরপর কড়াইতে সাদাতেল গরম করে নিতে হবে,প্রথমে অল্প একটু ব্যাটার তেলে দিতে হবে, যদি সেটা সাথে সাথে ওপরে ভেসে ওঠে বুঝতে হবে যে তেলটা রেডী হয়ে গেছে। এরপর এক এক করে মালপোয়া এপাশ ওপাশ করে ভেঁজে নিতে হবে।
কাল আমার হাজব্যান্ড অফিস থেকে আসার আগে আমরা তৈরী করেছি, আসলেও মালপোয়া গরম গরম খেতে একদম ভালোবাসে না,তাই প্রথম কয়েকটা ভেঁজে ফ্রিজে রেখে দিয়েছিলাম। যাতে ঠান্ডা হয়ে যায়,ও ফ্রেশ হওয়ার পরই ওকে মালপোয়া দিলাম। বেশ ভালোই খেলো, সাথে আমারও খেলাম।
আসলে ছোটো বেলার মজা অন্য রকম হয়, যেটার সাথে কোনো কিছুর তুলনা হয়না, তবুও এর মধ্যেই ভালো থাকা গুলো খুঁজে নিতে হয়, কারণ হাজার চেষ্টা করলেও ছোটোবেলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
যাইহোক, আশাকরি এই পৌষ সংক্রান্তির দিনটা আপনাদেরও খুব ভালো কেটেছে। আপনারা ভালো থাকবেন,ধন্যবাদ।
ভিজিয়ে রাখা আতপ চাল বেঁটে নেওয়া পর-
চিনি, লবণ, আর জল দিয়ে তৈরী করা ব্যাটার-(আপনারা চাইলে মৌরী ও দিতে পারেন)-
গরম তেলে মালপোয়া ভাঁজা চলছে-
মালপোয়া রেডি-
কালকের তৈরি সাজপিঠে-