মানিকগঞ্জের জলিল যাচ্ছিলেন সৌদি আরব। এয়ারপোর্টে ঢুকতেই র্যাপিং মেশিনের এক অপারেটর ডেকে নিয়ে বললেন, র্যাপিং ছাড়া এয়ারলাইন্স ব্যাগ বুকিং নেয় না, বাধ্যতামূলক র্যাপিং করতে হবে (মিছা কথা)!
জলিলের অনিচ্ছা সত্ত্বেও অপারেটর দুইটি ব্যাগ র্যাপিং করে ৬০০ টাকা চার্জ চাইলেন। পকেটে আছে মাত্র চার'শ টাকা। সেগুলো রেখে দিয়ে বাকী দু'শ টাকার জন্য জলিলকে বিকাশ নাম্বার ধরিয়ে দিলেন।
সৌদি এয়ারলাইন্সের এক সহৃদ অফিসার ঘটনা শুনে জলিলকে নিয়ে আসলেন। ঘটনার সত্যতা পাওয়ায়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে সংশ্লিষ্ট র্যাপিং কোম্পানীর চল্লিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অপারেটরের কার্ড সীজ করে প্রজেক্ট টুকিটাকির আওতায় আনা হয়। তারে কত কঠিন বই দেয়া যায়, ভাবছিলাম।
এই দিকে জরিমানার এক চতুর্থাংশ তথা ১০ হাজার টাকা হাতে পেয়ে জলিল কয়েকবার গুণলেন। তারপর বললেন, একটা পাঁচ'শ টাকা নোটের খুচরা হবে?
আমি অবাক দৃষ্টিতে জিজ্ঞাসা করলাম, কেন?
তিনি বললেন, র্যাপিং চার্জের বাকী দু'শ টাকা দিতে হবে তো!
প্রথমে ভাবছিলাম, আদর করে কঠিন একটা ধমক দেই, এত বোকাও মানুষ হয়! বহু কষ্টে মেজাজ কন্ট্রোলে এনে আস্তে করে পাঁচ'শ টাকার খুচরা বাইর করে দিলাম। থাকনা, তার বোকামী তার কাছে। আমার কাছে যেটা বোকামী, তার কাছেতো সেটা সততা।
(Bansuri M Yousuf ভাইয়ার ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)