মানব দেহের ছয়টি লতিফা ও আধ্যাত্মিক জাগরণের সংক্ষিপ্ত পরিচয়

Words
232
Reading
2 min
Listen
Play
21d

সূফীতত্ত্ব ও ইসলামী আধ্যাত্মিকতায় মানবদেহের অভ্যন্তরে অবস্থানরত সূক্ষ্ম শক্তি কেন্দ্র বা আধ্যাত্মিক অনুভূতির স্থানগুলোকে "লতিফা" (বহুবচনে লতায়েফ) বলা হয়। বাহ্যিক দেহকে যেমন সুস্থ রাখার জন্য খাদ্যের প্রয়োজন, তেমনই মানুষের রুহ বা আত্মাকে জাগ্রত ও শক্তিশালী করতে লতায়েফের ভূমিকা অপরিসীম। নকশবন্দিয়াসহ বিভিন্ন সূফী তরিকায় আত্মশুদ্ধি (তাজকিয়া-এ-নফস) ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে লতায়েফের চর্চা করা হয়। মূলত জিকির ও ভাবনার মাধ্যমে এই কেন্দ্রগুলোকে সক্রিয় করে মানুষের অন্তরকে পাপাচার থেকে মুক্ত করাই এর মূল লক্ষ্য।
​মানবদেহে প্রধানত ছয়টি লতিফা বা ‘লতায়েফে সেত্তা’র অবস্থান চিহ্নিত করা হয়েছে:
​লতিফা-এ-নফস: এটি নাভির নিচে অবস্থান করে। মানুষের পার্থিব কামনা, বাসনা, লোভ ও শারীরিক চাহিদার কেন্দ্র এটি। এই লতিফাকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই আত্মশুদ্ধির প্রথম ধাপ শুরু হয়।
​লতিফা-এ-কালব: এটি বুকের বাম পাশে হৃদপিণ্ডের কাছে অবস্থিত। এটি প্রেম-ভালোবাসা, অনুভূতি ও ঈমানের মূল কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।
​লতিফা-এ-রূহ: বুকের ডান পাশে এর অবস্থান। এটি মানুষকে মানসিক শান্তি ও দিব্য অনুভূতির দিকে পরিচালিত করে।
​লতিফা-এ-সিরর: এটি বুকের ঠিক মধ্যভাগে অবস্থিত। আধ্যাত্মিক গভীরতা ও নানা সূক্ষ্ম রহস্য উন্মোচনের স্থান এটি।
​লতিফা-এ-খফি: ভ্রূদ্বয়ের মাঝে বা কপালে এর অবস্থান। এটি সূক্ষ্ম আধ্যাত্মিক অনুভূতির বিকাশ ঘটায়।
​লতিফা-এ-আখফা: এটি মাথার ওপরের অংশে (মস্তিষ্কে) অবস্থান করে। এটি আধ্যাত্মিক চেতনা ও ফানাফিল্লাহর সর্বোচ্চ স্তর প্রকাশ করে।
​নিয়মিত জিকির, মুরাকাবা (ধ্যান), রিপু দমন এবং সৎ ও পরহেজগার জীবনযাপনের মাধ্যমে সূফী সাধকগণ এসব লতিফাকে জাগ্রত করেন। লতিফাগুলো সক্রিয় হলে মানুষের ভেতরের পশুত্ব দূর হয়ে খোদাভীতি ও পরম শান্তির সৃষ্টি হয়, যা একজন মানুষকে প্রকৃত কামেল বা পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।

মানব দেহের ছয়টি লতিফা ও আধ্যাত্মিক জাগরণের সংক্ষিপ্ত পরিচয় | Ecency