মায়া...!

Words
643
Reading
3 min
Listen
Play
5y

স্বপ্ন গল্পের দ্বিতীয় পার্ট এটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বোটানি ডিপার্টমেন্টে অনিকের কাল প্রথমদিন। জীবনের স্কুল-কলেজ লাইফের গন্ডি পেরিয়ে সে এবার তার জীবনের আরেকটি নতুন অধ্যায় সূচনা করতে যাচ্ছে। তার সাথের অনেক বন্ধুই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে, কিন্তু তার ডিপার্টমেন্টে, তার একজন বন্ধু ও চান্স পায় নি। তাই ভার্সিটি লাইফের প্রথম দিন হিসেবে মনে মনে খুশি হওয়ার পাশাপাশি সে একটু উদ্বিগ্ন ছিল এবং নতুন পরিবেশের মানুষগুলো কেমন হবে এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে সে রাতে ঘুমিয়ে পরল । পরেরদিন সকালে উঠে নাস্তা করে পরিপাটি হয়ে সে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে হোস্টেল থেকে বেরিয়ে পরল।

IMG_20210419_200429.jpg

প্রথম ক্লাস শুরু, ক্লাসে ডুকেই নতুন এক পরিবেশে সে সব অপরিচিত মানুষদের দেখে একটু ইতস্ত বোধ করল। সে ছোটকাল থেকেই অনেক চুপচাপ এবং শান্তি-শিষ্ট প্রকৃতির মানুষ হওয়ার নতুন পরিবেশে হঠাৎ করে সবার সাথে মিশতে পারে না । ক্লাসে সে কারো সাথে কথা বলল না এবং ক্লাস শেষে সে ভার্সিটি থেকে সরাসরি হোস্টেলে চলে আসল। তাই ভার্সিটি লাইফের শুরুটা তার সাদামাটাই হয়। অন্যদিকে তার ডিপার্মেন্টের অন্য ছেলে-মেয়েরা একসাথে ক্যাম্পাসে বসে আড্ডা দিত।

এক-সাপ্তাহ এভাবেই চলতে থাকে, সে ভার্সিটিতে যেত, ক্লাস শেষে সোজা হোস্টেলে চলে আসত। একদিন ক্লাসে সে আবিদ নামের এক ছেলের সাথে বসল। আবিদ ছেলেটা অনেক চঞ্চল ও মিশুক প্রকৃতির হওয়ায় ভার্সিটি লাইফের প্রথম দিন থেকে তার ডিপার্মেন্টের প্রায় সব ছেলে-মেয়ের সাথে তার ভালো বন্ধু হয়। অবিদ অনেক দিন ধরে অনিককে লক্ষ করতেছিল যে সে একা একা থাকে, কারও সাথে কথা বলে না। তাই আবিদ নিজে থেকেই অনিকের সাথে কথা বলা শুরু করল। কথা বলতে বলতে তাদের মধ্যে অনেক ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায়।

ক্লাস শেষে আবিদ ডিপার্মেন্টের সব বন্ধুদের সাথে অনিকের পরিচয় করিয়ে দেয়। তারপর সে প্রতিদিন ক্লাস শেষে সবার সাথে ক্যাম্পাসে বসে আড্ডা দিত। অনিক আগে কখনো মেয়েদের সাথে বন্ধুত্ব করেনি, কিন্তু ভার্সিটিতে উঠে তারও কিছু মেয়ে বন্ধু হলো। তার ডিপার্মেন্টের দিবা নামে এক মেয়ের সাথে অনেক ভালো বন্ধুত্ব হয়। দিপা বেড়ে উঠা ঢাকাতেই, সে অনেক উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান। সেও অনিককে তার অনেক ভালো বন্ধু মানত। যতই দিন যাচ্ছে তাদের বন্ধুত্বের গভীরতা বাড়তেই থাকল। এভাবে প্রায় তিন মাস চলার পর হঠাৎ কোরোনা পেন্ডেমিকের কারনে একদিন ভার্সিটি বন্ধ করে দেয়া হলো।

অনিক ঢাকার হোস্টেল ত্যাগ করে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিজ বাসায় চলে আসে। এই কোরোনা পেন্ডেমিকের মধ্যে দিবা আর অনিকের বেশিরভাগ সময় কাটত একে-অপরের সাথে ফোনে কথা বলে। রাতে খাবার খাওয়া শেষ করে অনিক তার রুমের বারান্দায় গিয়ে বসে দিবার সাথে কথা বলতে বলতে কখন যে রাত শেষ হয়ে সকাল হয়ে যেত তার খেয়ালই থাকত না। এভাবে প্রায় পাঁচ মাস তাদের মধ্যে কথা চলতেই থাকে...।

হঠাৎ একদিন দিবা অনিকের বেশ কিছুদিনের কার্যক্রম লক্ষ করে বুঝতে পারে যে অনিক তার উপর ধীরে ধীরে দূর্বল হয়ে পরছে। তাই সে নিজ থেকে অনিককে বললঃ আমার পরিবার থেকে সমবয়সী রিলেশন মেনে নিবে না। আর আমি আমার পরিবারের বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারব না। আমাদের সম্পর্কটা সর্বোচ্চ বন্ধুত্ব পর্যন্তই এর বেশি আর কিছু সম্ভব না।

এসব কথা শুনে অনিক বললঃ তাহলে আমাদের সম্পর্কটা এখানেই থামানো উচিত। কারন তুমার সাথে আমি যতবার কথা বলব ততবার তোমাকে আমার মনে পরবে। তাই তোমার সাথে কথা না বললে তোমাকে ভুলতে আমার সহজ হবে।

দিবা বললঃ আচ্ছা! তুমি যেভাবে ভালো থাক তাই করো।

এভাবে অনিক, দিবার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। কথা বলা বন্ধ হওয়ার পর অনিক মানসিকভাবে অনেক ভেঙে পরে। সে আগে কখনো এমন পরিস্থিতির শিকার হয় নি...এটাই তার প্রথমবার সে কিছুতেই তার মায়া ভুলতে পারছে না। তার এ অবস্থা দেখে তার বন্ধুরা তার পাশে দাড়াল, বিকাল হলে তার বন্ধুরা তাকে সময় দিন, বন্ধুদের সাথে সে ভালোই থাকত, রাতে যেই বাসায় ফিরত, বারান্দায় গিয়ে তার কথা ​মনে পরে যেত এবং সে পুনরায় বিষন্নতায় ভুগত। এভাবে প্রায় ছয় মাস কেটে গেল। আস্তে আস্তে সে দিবার স্মৃতিগুলো ভুলার চেষ্টা করতেছিল। মাঝে মাঝে দিবার কথা তার মনে পরত কিন্তু সে নিজেকে সামলে নিতে পারত।

হঠাৎ একদিন তার বন্ধু আবিদ, মেসেঞ্জারে দিবার নতুন একটি ছবি পাঠাল এটা দেখে তার মন আবার খারাপ হয়ে গেল।

সে অদৃশ্য এই মায়াকে কিছুতেই ভুলতে পারছে না...এই মায়াকে সে ভুলতে পারবে কিনা সে তাও জানে না...!

শেষে শুধু এইটুকুই বলব, মায়া খুবই খারাপ জিনিস এটা মানুষকে কষ্ট দেয়া ছাড়া আর কিছু জানে না।

মায়া...! | Ecency